৭ কোটি টাকা দুর্নীতি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ওএসডি

imagesএম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন:
কক্সবাজার সরকারীর খাদ্যগুদামে প্রায় ২০ কোটি টাকার চাল ক্রয়ে ৭ কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে অবশেষে কক্সবাজার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (চলতি দায়িত্ব) মোঃ তানভীর হোসেনকে ওএসডি করে খাদ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। যোগদানের মাত্র সাড়ে তিন মাসের মাথায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে এ খাদ্য কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলক বদলি করা হলো। চাকরিতে সদ্য যোগ দেয়া এই কর্মকর্তাকে যোগ্য না হলেও শুন্যতা পূরণে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদে পদায়ন করে গত ২৬ জুন কক্সবাজার পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁর অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে কক্সবাজারে ৮৪৯২ মেট্রিক টন চাল ক্রয়ে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ২১৬৩ মেট্রিক টন চাল ক্রয় অবশিষ্ট রেখেই ক্রয় কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা খাদ্যশস্য সংগ্রহ কমিটির সভাপতি মোঃ আলী হোসেন।
সংগ্রহ নীতিমালা চরম ভাবে লঙ্গন করে চাল ক্রয়ের বিষয়ে জেলা খাদ্যশস্য সংগ্রহ কমিটির সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া জেলা মোঃ আলী হোসেন অবশিষ্ট ২১৬৩ মেট্রিক টন চাল অন্য জেলা থেকে ক্রয়ের জন্য নীতিমালা শিথিল করতে খাদ্য অধিদপ্তরে চিঠি লিখেন। কিন্তু তা অনুমোদন করা হয়নি। এ অবস্থায় ক্রয় করা ৬৩২৯ মেট্রিক টন চাল ক্রয়ে সংগ্রহ নীতিমালা লঙ্গন করে প্রায় ৬ কোটি ৯৬ লাখ ১৯ হাজার টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ তানভীর হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে উঠা সিন্ডিকেটটির বিরুদ্ধে। কোটিপতি ডিসিফুড’ হিসেবে নিজেকে পরিচয়দানকারী জেলা খাদ্য কর্মকর্তা চাল ক্রয়ের দুর্নীতির টাকায় প্রতি সপ্তাহে বিমানে ঢাকা আসা-যাওয়া করতেন। খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) বিভাগের এক কর্মকর্তা ২৫ অক্টোবর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের ওএসডি হওয়ার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে শত শত বঞ্চিত কৃষকের পক্ষে আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, ‘শুধু ওএসডি করেই বাঁচিয়ে দিলে হবে না। এ ধরণের দুর্নীতিবাজদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবী জানাচ্ছি। একই সাথে যারা এখনও বহাল তবিয়তে আছেন তাদেরও শাস্তি দাবী করছি। কারণ তাদের দুর্নীতির কারণে রামুসহ পুরো কক্সবাজারের হাজার হাজার কৃষক সরকারের দেয়া সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
সূত্র মতে, সারা দেশের ন্যায় কক্সবাজার জেলায় বোরো (আতপ) চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের আওতায় ৮ হাজার ৪৯২ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। গত ১ আগষ্ট থেকে চাল ক্রয় শুরু হয়। কিন্তু সরকারের চাল ক্রয়ে সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নেন স্বয়ং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ তানভীর হোসেনের নেতৃত্বে রামু, চকোরিয়া, উখিয়া, টেকনাফ ও মহেশখালীর একটি সিন্ডিকেট।
গত ১৯ আগষ্ট বুধবার বিকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট সোহাগ চন্দ্র সাহা রামু খাদ্য গুদামে অভিযান চালিয়ে ৪৩ মেট্রিক টন চালসহ দুটি ট্রাক জব্দ করেন। সরকারের সংগ্রহ নীতিমালা লঙ্ঘন করে উত্তরাঞ্চল থেকে নি¤œমানের এসব চাল প্রতি কেজি ১৯/২০ টাকা দরে ক্রয় করে তা প্রতি কেজি ৩১ টাকা দরে খাদ্য গুদামে সরবরাহের জন্য আনা হয়েছিল। এভাবে রামু খাদ্য গুদামে ২০৬০ মেট্রিক টন চাল মজুদ করা হয়। আর জেলার ৬টি খাদ্য গুদামে ক্রয় করা হয়েছে ৬৩২৯ মেট্রিক টন চাল। নি¤œমানের কম দামের এসব চাল বেশি মূল্যে ক্রয় দেখিয়ে প্রায় ৬ কোটি ৯৬ লাখ ১৯ হাজার টাকা লুপাট করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ তানভীর হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে উঠা সিন্ডিকেটটি।
এসব চাল সরবরাহের জন্য কক্সবাজার জেলার ২২ জন রাইচ মিল মালিকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় কক্সবাজার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। গত ১ আগষ্ট থেকে নির্ধারিত পরিমান চাল সংগ্রহ শুরু হয়। কিন্তু জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ তানভীর হোসেন ও অফিস সহকারী রোকসানার যোগসাজসে সংশ্লিষ্ট উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, খাদ্য পরিদর্শক, কক্সবাজারের শীর্ষ কালোবাজারি তাজরেজা ফ্লাওয়ার মিলের ম্যানেজার সাগর-রফিক, শহরের চাউলবাজারের এসবি এন্টারপ্রাইজের বুলবুল ও উখিয়ার আবদুর রহিমের সাথে সিন্ডিকেট করে খাদ্য গুদাম গুলোতে ময়মনসিংহ, বগুড়া, গাইবান্ধাসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আনা নি¤œমানের কম দামের চাল মজুদ করা হয়। এঘটনায় জেলা খাদ্য শস্যসংগ্রহ কমিটির সভাপতি মোঃ আলী হোসেন তা তদন্তের নির্দেশ দেন। কিন্তু খাদ্য বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসকের নির্দেশের তোয়াক্কা না করে নীতিমালা লঙ্গনের মাধ্যমে খাদ্য গুদাম গুলোতে দেদারছে নি¤œমানের চাল মজুদ অব্যাহত রাখে। ১৯ আগষ্ট বিকালে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট সোহাগ চন্দ্র সাহা রামু খাদ্য গুদামে অভিযান চালিয়ে ৪৩ মেট্রিক টন চালসহ দুটি ট্রাক জব্দ করে। চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আনিসুজ্জামানও রামু খাদ্য গুদাম, উখিয়া খাদ্য গুদাম পরিদর্শন করে নানাবিধ জটিলতায় সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে জানিয়ে লক্ষ্যমাত্রার অবশিষ্ট বরাদ্দ খাদ্য বিভাগে সমর্পনের কথা বলেন।


শেয়ার করুন