হামলা ঠেকাতে না পারায় চিন্তিত সরকার

sorkar-400x249সিটিএন ডেস্ক:

দুই বিদেশি খুন ও শুক্রবার রাতে তাজিয়া মিছিলে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় বিশ্বে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরির আশঙ্কায় রয়েছে সরকার। এছাড়া পর্যাপ্ত নিরাপত্তার মধ্যে একের পর এক হামলার ঘটনায় দেশের মানুষের মধ্যে একধরনের ভীতি তৈরি হয়েছে বলে সরকারের মধ্যে আলোচনা আছে। সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারক ও মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এ মনোভাব জানা গেছে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের মনোভাব নিয়ে সরকারের অস্বস্তি ছিল শুরু থেকেই। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সরকারের চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য এ ঘটনাকে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছে। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রাজনৈতিক কারণকে প্রাধান্য দিয়েই এ ঘটনার তদন্ত করছে। এ ঘটনায়ও সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বিএনপি-জামায়াতকে সন্দেহ করছে। আইএস যে বিবৃতি দিচ্ছে, সেটাও এই ষড়যন্ত্রকারীরা করছে বলেই মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
আওয়ামী লীগের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, সরকার সচেতন ছিল যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় বাস্তবায়নের সময় নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। এর জন্য প্রস্তুতিও আছে। দুই বিদেশি ও এক পুলিশ সদস্যকে হত্যার ঘটনা যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু তাজিয়া মিছিলে গ্রেনেড হামলা নতুন ভাবনার জন্ম দিয়েছে। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে দেশে সংকট আছে, এটা প্রমাণ করার দেশি-বিদেশি তৎপরতার অংশ হিসেবে এসব হচ্ছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলো কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ কিংবা সামাজিক কারণে হয়নি। এগুলো পরিকল্পিত এবং এর মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াত জোট লাভবান হতে চায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘আগুনসন্ত্রাস থেকে সরে গিয়ে তারা অন্য পথ বেছে নিয়েছে। তবে আমরা দ্রুততার সঙ্গে অপরাধীকে খুঁজে বের করতে পারব।’
অবশ্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন নেতা বলেন, চোরাগোপ্তা হামলাকে চোখ বুজে এত দিন জঙ্গি হামলা বলে চালিয়ে দেওয়া গেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতির মারপ্যাঁচের কারণে এখন সেটা বলাও বিপজ্জনক। আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনী বিএনপি-জামায়াতের যে সংশ্লিষ্টতা পাচ্ছে, সেটাও আবার অনেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করে। ফলে এসব হামলা নিয়ে উভয়সংকট অবস্থা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া চোরাগোপ্তা হামলা ঠেকানোর ক্ষেত্রে আইনশৃক্সখলা বাহিনীর সক্ষমতার পরীক্ষা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর গ্রেনেড হামলা ও বিদেশি নাগরিক হত্যায় সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেট বা আইএসের দায় স্বীকার করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা দেশের ভাবমূর্তির জন্য খুবই ক্ষতিকারক। এর সঙ্গে একটা ঘটনা ঘটার পরপর পশ্চিমা দেশগুলো তাদের নাগরিকদের যে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করছে বা হালনাগাদ করছে, তাতে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
ওই নেতা আরও বলেন, আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর সরকারের যে নিয়ন্ত্রণ আছে, তাতে যেকোনো প্রকাশ্যে হুমকি মোকাবিলা করা সম্ভব। হেফাজতে ইসলামের জমায়েত সফলভাবে মোকাবিলা ও বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধ অনেকটা অকার্যকর করে দিয়ে সেই প্রমাণ রেখেছে সরকার। কিন্তু চোরাগোপ্তা হামলা ঠেকানোর মতো সামর্থ্য এখনো পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ বলেন, এসব ঘটনা রাজনৈতিক আক্রোশ থেকে তৈরি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। বর্তমান সরকার নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে এসেছে। ভবিষ্যতেও করতে পারবে। তিনি বলেন, দেশের কিছু দল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছে। বিশ্বমন্দার মধ্যে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প ও অর্থনীতির দ্রুত উন্নতি বহির্বিশ্বেরও কেউ কেউ ভালো নজরে দেখছে না।
প্রথম আলো


শেয়ার করুন