সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের আলোচনা

‘হাক্কু, জ্যাড়া ও বদ্দা’ হারিয়ে গেছে, আমরা এখন ‘আংকেল’ বলি!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
‘বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনটা ছিল মায়ের ভাষার অধিকার ফিরে পাওয়ার আন্দোলন। সালাম, রফিক, বরকতদের বদান্যতায় সেই অধিকার ফিরে পেলেও মায়ের সেই ভাষার অনেক কিছুই আমরা হারিয়ে ফেলছি। সময়ের আবর্তে অনেক পুরণো শব্দ, পুরণো সংস্কৃতি আমরা হারাতে বসেছি।’

সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার আয়োজিত মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনায় বক্তাগণ এমন মন্তব্য করেছেন।

বক্তাগণ বলেন, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার অনেক শব্দই আমরা এখন বলি না। যেমন, আমরা চাচা, জ্যাঠা ও বড় ভাইকে ‘হাক্কু’, ‘জ্যাড়া’ ও ‘বদ্দা’ বলতাম। সেই জায়গায় এখন আমরা ‘আংকেল’ বলি!

সভায় বক্তাগণ সর্বত্র বাংলা ভাষা প্রচলনে উচ্চ আদালতে রায় বাস্তবায়নের আহবান জানান। একই সাথে মহান শহীদ দিবস ইংরেজি তারিখ ‘২১ ফেব্রুয়ারি’র পরিবর্তে বাংলা তারিখ ‘৮ ফাল্গুন’ কেন নয়, এমন প্রশ্নও তুলেছেন সাংবাদিক নেতারা।

সংগঠনের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন বাহারী সভাপতিত্বে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন ভাষা গবেষক, কবি ও ইতিহাসবিদ এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সাবেক সভাপতি মুহম্মদ নূরুল ইসলাম।

আলোচনায় মুহম্মদ নূরুল ইসলাম বলেন, বায়ান্ন সালের ভাষা আন্দোলনে কক্সবাজারের অনেক হাইস্কুলেই আন্দোলন হয়েছে। তখন কক্সবাজারে কোন কলেজ ছিল না। ওই সময়ে আন্দোলনে জড়িত যারা এখনও বেঁচে আছেন তাদের ডেকে আমাদের স্মৃতিচারণ করা উচিৎ।

তাঁর মতে, সেই সময়ের ভাষা আন্দোলনকারি স্কুল ছাত্রদের মধ্যে প্রফেসর মোশতাক আহমদ, ডা. জামাল উদ্দিন, সাংবাদিক বদিউল আলম এখনও বেঁচে আছেন।

তিনি বলেন, ওই সময় তো উখিয়ার পালং হাইস্কুলের ছাত্ররা ৫ কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে থানায় তালা দিয়েছিল।

মুহম্মদ নূরুল ইসলামের ভাষ্য মতে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষায় ২৩০০ আরবী শব্দ মিশে গেছে। এই ভাষায় ফার্সি, তুর্কি শব্দও আছে।

তিনি মনে করেন, আমাদের মায়ের ভাষাকে ভালোবাসতে হলে সেই ভাষাটার অন্তরে দখল নিতে হবে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সৈকতের নির্বাহী সম্পাদক আনছার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কবি রুহুল কাদের বাবুল, দৈনিক হিমছড়ি সম্পাদক ও সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রশীদ, বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন সিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সারওয়ার সাঈদ, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আলম, ইসলাম মাহমুদ, স ম ইকবাল বাহার চৌধুরী, এম আর মাসুদ, শাহেদ মিজান, আতিকুর রহমান মানিক, মহিউদ্দিন মাহী প্রমূখ।

পরে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ইসলাম মাহমুদ।


শেয়ার করুন