স্বাগতম রাষ্ট্রপতি

downloadশাহেদ ইমরান মিজান, সিটিএন:
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ আজ কক্সবাজার আসছেন। বিমান বাহিনীর এয়ার ডিফেন্স রাডার (ওয়াই এলসি) এর অন্তভূর্ূূক্ত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি কক্সবাজার আসছেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর এটি তাঁর দ্বিতীয় কক্সবাজার সফর। এর আগে ২০১৪ সালে ৯ মার্চ রাষ্ট্রপতি দু’দিনের সফরে কক্সবাজারে এসেছিলেন। সে বারে তিনি প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ও রামু বৌদ্ধবিহার পরিদর্শন করলেও কক্সবাজার শহরের আসেননি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগাম বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টার যোগে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর মধ্যাহ্নভোজেরে আগে তিনি এয়ার ডিফেন্স নির্ধারিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। অনুষ্ঠান শেষে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন।
দেশের সর্বোচ্চ মর্দাযাশীল ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির মো: আবদুল হামিদের কক্সবাজার আগনে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে কক্সবাজারের প্রশাসন। আইনশৃংখলা বাহিনীর কঠোর জোরদার ছাড়াও পুরো কক্সবাজার শহরকে আলাদাভাবে সাজানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতি স্বাগত জানাতে জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার পৌরসভার আয়োজন করেছে। পাশপাশি সরকারদলীয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংঠন গুলোও নিয়েছে আলাদা প্রস্তুতি। সেই সাথে ব্যবসায়ী মহলও রাষ্ট্রপতির সম্মান বিভিন্ন আয়োজন করেছে।
কক্সবাজার শহর ঘুরে দেখা গেছে, রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানিয়ে শহরের মোড়ে মোড়ে শোভা পাচ্ছে বিলবোর্ড, প্রায় সব স্থানেও শোভা পাচ্ছে ফেস্টুন, ব্যানার ও তোরণ। শহরের হলিডে মোড়ে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানিয়ে বিশালাকার বিলবোড দিয়েছে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র সরওয়ার কামাল।
অন্যদিকে শহরের বিভিন্ন স্থানে বহু দিন ধরে জমে থাকা জঞ্জাল অপসারণ করেছে কক্সবাজার পৌরসভা। এতে করে স্বাভাবিক চেনা পরিবেশ পেরিয়ে এক নতুনত্ব শোভা পাচ্ছে পুরো শহরজুড়ে। এর মধ্যে শহরের বিমানবন্দর সড়ক, হলিডে মোড় ও কলাতলি হোটেল মোটেল জোনকে সাজানো হয়েছে একে বারে অন্য রূপে। একই সাথে কক্সবাজার বিমানবন্দরকেও আলাদাভাবে সাজানো হয়েছে।
কক্সবাজার পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরের মূল পয়েন্রেটর অলিগলিতে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা ময়লা আর্বজনার স্তুপগুলোও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এছাড়া নালা নর্দমাও করা হয়েছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন। রাষ্ট্রপতির আগমনেও হলেও পৌরসভা আলাদাভাবে পরিস্কার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে সাধারণ পৌরবাসী। বার বার যদি রাষ্ট্রপতির আগমন ঘটতো তাহলে নাভিশ্বাস হতো না- এমনটাই মনে করেন পৌরবাসী।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির আগমণে কক্সবাজা শহর ও শহরতলীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জোরদার করা হয়েছে। গতকাল থেকেই পুলিশের অতিরিক্ত ও বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া র‌্যাব, বিজিবি নিয়োজিত রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থারও লোকজনও কয়েকদিন আগে থেকে নজরদারি জোরদার করেছে।
পাশপাশি রাষ্ট্রপতির আগমনে শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবে বিমান বাহিনীর বেশ কিছু সদস্য। এছাড়া শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ, বিমান বাহিনীসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্থা। একই সাথে সরকারদলীয় লোকজনও সরব রয়েছে মাঠে। সব মিলিয়ে কক্সবাজার শহরকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে।
কক্সবাজার পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ জানিয়েছেন, রাষ্টপতির আগম নিয়ে পুরো জেলাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম অমায়িক রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ কক্সবাজার আসায় সাধারণ লোকজনের মাঝেও আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। এখন শহরে মানুষের মুখে মুখে ফিরছে জনমানুষের মধ্যমণি মো: আবদুল হামিদের কথা। শৈশব থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক নানা কাহিনী নিয়ে আলোচনা চলছে সর্বত্র।
জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির সফরকে নির্বিঘœ করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনী যৌথভাবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। এছাড়া সফরের কাজসহ আনুষঙ্গিক সবকার্যক্রমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’


শেয়ার করুন