মহেশখালীর

সোনাদিয়া দ্বীপে শুটকি মাছ উৎপাদনের ধুম

unnamedহারুনর রশিদ,মহেশখালী:

মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপে শুটকি মাছ উৎপাদনের ধুম পড়েছে। মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপে কর্মব্যস্ততায় শুটকি মাছ উৎপাদকারী ব্যবসায়ীরা। জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের একটি আকর্ষণীয় অনন্য সুন্দর দ্বীপ এই সোনাদিয়া। দ্বীপটির আয়তন ৭ বর্গকিলোমিটার। মোট ৪৯২৮ হেক্টর জমি রয়েছে দেশের আকর্ষণীয় এই দ্বীপটিতে। পূর্ব-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উত্তাল তরঙ্গ মালার সাথে প্রতিনিয়ত মোকাবেলায়রত অপার সম্ভাবনাময়ী এই সোনাদিয়া দ্বীপ। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই দ্বীপটি। এতে রয়েছে ২১০০ একরের দৃষ্টি নন্দনবন প্যারাবন। এছাড়াও রয়েছে কোলাহল মুক্ত সৈকত।

কক্সবাজার জেলা সদর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরত্বে সোনাদিয়া দ্বীপটি বঙ্গোপসাগর ঘেষে অবস্থিত। সোনাদিয়ার চরে শত শত জেলে ক্ষণস্থায়ী আবাসনের স্থাপনা তৈরী করে ফিশিং ট্রল্ােরর মাধ্যমে আহরণ কৃত মাছ শুকিয়ে, শুটকি মহাল তৈরী করে কোটি কোটি টাকার মাছ দেশ-বিদেশে রপ্তানী করে স্বাবলম্বী হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। আর বর্তমান সময়ে ব্যবসায়ীরা শীত মৌসুমকে কেন্দ্র করে শুটকি মাছ মজুদে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। শীতের মৌসুম শুরুতে পেশাদার শুটকি ব্যবসায়ীদের আগমন ঘটে সোনাদীয়া দ্বীপে। এখন কার্তিক মাস, তাই মাছ আহরণের কর্মব্যাস্ততাও থেমে নেই, উক্ত শুটকি মাছ মজুদদার ও জেলেদের মধ্যে।

সাগর থেকে আহরণকৃত শুটকি মাছের মধ্যে লইট্টা, চিংড়ি, ফাসিয়া, রুপচাদা, কামিলা, লাওক্ষা, করতি, ছুরি, রোপসা, সুরমা ও বিভিন্ন প্রজাতের দৈনিক লক্ষ-লক্ষ টাকার মাছ ব্যবসায়ীরা ক্রয়-বিক্রয় করে। এই মূল্যবান মাছ গুলি চট্টগ্রামের আছদগঞ্জ, ঢাকা, সিলেট, উত্তরবঙ্গের বগুড়া, রংপুর,পাবনা, টাঙ্গাইলসহ দেশের বড়-বড় শহরে রপ্তানী করে এবং মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা, বৃটেন, থাইল্যান্ড, জার্মান, সৌদিয়া ও দুবাই সহ উন্নত দেশেও রপ্তানী করে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। শুটকি ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারী কোন ঋনের ব্যবস্থা না থাকায় দাদন ও সুধী মহাজনদের উপর নির্ভর করতে হয় ব্যবসায়ীদের।

বিশেষ করে ভাদ্র মাসের প্রথম দিকে ব্যবসায়ীরা ৬মাসের জন্য সোনাদিয়ার চরে যাত্রা শুরু করে। এ ছাড়া ও কক্সবাজারের নাজিরার টেক, ধলঘাটার সাপমারার ডেইল এলাকায় মাছ শুকানোর উল্লেখযোগ্য স্থান। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও খুবই পরিশ্রমী। পুরুষেরা সমূদ্রে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ আহরণে ব্যস্ত থাকলেও মেয়েরা পুরুষের আহরিত মাছগুলি বাজারজাত করণের যাবতীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভুমিকা রাখে। মাছ শুকানো ও গুদামজাত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নারীরাই। বিশেষ করে শীত মৌসূমে শুকানো সোনাদিয়ার বিভিন্ন প্রজাতির শুটকী মাছ দেশ-বিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়। তাই কক্সবাজারে পর্যটনে আসা কোন পর্যটকই সোনাদিয়ার শুটকী ছাড়া ঘরে ফিরতে চায়না।

সোনাদিয়ার চরের শুটকী ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দীন জানান, সাগরে মাছ আহরণ ভাল হলেও এখনো ব্যবসায়ীরা টাকার অভাবে পর্যাপ্তভাবে শুকানো মাছ মজুদ করতে পারছেনা। সরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলে ব্যবসায়ীদের হতাশা দূর হবে বলে জানান অবিজ্ঞ শুটকি মাছ ব্যবসায়ি শাহাব উদ্দীন। অপর ব্যবসায়ী রমজান জানান, কিছু মজুতদার সস্তা দামে লাখ লাখ টাকার মাছ শুকিয়ে গুদামজাত করে রাখে বর্ষাকালে চড়া দামে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে। এ সময় দাদন ও মুনাফালোভী সূদী মহাজনরা বেশী লাভবান হয়। লাভের আশায় পরের টাকা নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ক্রয় করে ডাই বা মাচায় শুকানোর উৎপাদনে সোনাদিয়ার চরে ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।


শেয়ার করুন