সোনাদিয়া দ্বীপের যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক

মহেশখালীর- সোনাদিয়া-ঘটিভাঙ্গা সড়কের ব্রিজটি নাজুক অবস্থায় পড়ে আছেহারুনর রশিদ, মহেশখালী:
সোনাদিয়া দ্বীপের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। পর্যটনের জন্য সম্ভাবনাময় সোনাদিয়া অবহেলা ও পরিকল্পিত উন্নয়নের অভাবে এখন মূখ থুবড়ে পড়েছে। বিগত সময়ে কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ সোনাদিয়া হলেও স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে একারকার যোগাযোগ ব্যবস্থার তেমন উন্নয়ন ছোঁয়া লাগেনি। যার দরূন পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে সোনাদিয়া দ্বীপ। একই সাথে পর্যটনকে ঘিরে গড়ে উঠছে না সোনাদিয়া কেন্দ্রেীক কোন পর্যটন ব্যবসা।
কক্সবাজারের একটি আকর্ষণীয় দ্বীপ সোনাদিয়া। এদ্বীপের জনসংখ্যা প্রায় ১৭০০জন, ভোটার সংখ্যা ৫১৬ যার মধ্যে পুরুষ ২৬৭আর মহিলা ২৯৪ । যে দ্বীপের জমির পরিমান ২৯৬৫.৩৭ একর। ২৯৬২.২২ একর জমির উপর ১৯৭১ সালের পর থেকে এ যাবৎ শুধু মাত্র একটি সাইক্লোন শেল্টার সাড়া অন্য কোন উল্লেখ যোগ্য স্থাপনা গড়ে উঠেনি। সমগ্র দ্বীপটিকে ঘিরে ব্যক্তি মালিকানাধীন ৩.১৫ একর জমি রয়েছে ।
পূর্ব পাড়া আর পশ্চিম পাড়া নিয়ে সোনাদিয়ার জনসাধারনের বসবাস। চর ভরাট হয়ে একহাজার একর জায়গায় বনবিভাগ প্রাকৃতিক বনায়ন সৃষ্টি করেছে এদ্বীপে। পূর্ব পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ডেউয়ের সাথে প্রতিনিয়ত জীবন যুদ্ধে আয়ু শেষ করছে সোনাদিয়াবাসী। অপার সম্ভাবনাময়ী এই সোনাদিয়া দ্বীপ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এতে দৃষ্টিনন্দনবন প্যারাবন ভালিয়াড়ী ঝাউবাগান ছাড়াও রয়েছে কোলাহল মুক্ত সৈকত।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে পর্যটন কেন্দ্রেীক ব্যবসার প্রসার ঘটবে সমগ্র কক্সবাজার জেলায় । অসংখ্য লাল কাকড়ার মিলন মেলা সোনাদিয়া দ্বীপে, পূর্ব পাশে জেগে উঠা চর সোনাদিয়ার আকর্ষণ বাড়িয়েছে দ্বীপটির। বিভিন্ন প্রজাতির সামূদ্রিক কাছিমসহ দৃষ্টিনন্দন দৃশ্যাবলী, দ্বীপবাসীর নিজস্ব সংস্কৃতি ও সাদা মাটা জীবন-যাপন সবাইকে আকৃষ্ট করে। আদি ইতিহাস, জেলেদের সাগরের মাছ ধরার দৃশ্য, সূর্যাস্তের দৃশ্য, প্যারাবন বেষ্টিত আঁকা-বাঁকা নদী পথে নৌকা ভ্রমণ, স্পীড বোট বা ইঞ্জিন বোট দিয়ে মহেশখালী চ্যানেল হয়ে সাগরের মাঝ পথে বঙ্গোপসাগরের দৃশ্য অবলোকন যা পর্যটকদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী বাড়তি আকর্ষণ। প্রচুর সম্ভাবনা সত্তে ¡ও এ দ্বীপে সরকারী বা বেসরকারীভাবে পর্যটন শিল্প বিকাশে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে যোগাযোগ ব্যাবস্থার উন্নয়ন করা হলে পর্যটন রাজধানী হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠবে এ দ্বীপটি। কক্সবাজার শহরের অতীব নিকটবর্তী এ দ্বীপটি পর্যটন বিকাশে অন্যতম স্থান হতে পারে যা দেশের তথা কক্সবাজারের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আগামী ইউপি নির্বাচনে কুতুবজোম ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রাথী মোশারফ হোসেন খোকন জানান, বিগত সময়ে প্রতি মৌসূমে বিপুল সংখ্যক পর্যটক সোনাদিয়ায় আসতেন। পর্যটকরা কেউ স্প্রীড বুটে করে কেউবা আসতেন মহেশখালীর কুতুবজোম হয়ে সড়ক পথে। পর্যটকদের এই আগমনকে ঘিরে গড়ে উঠে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে পর্যটক আসা শুন্যের কোটায় আসায় ওই ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান গুলো এখন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
তিনি আরো জানান, সোনাদিয়ার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন ভেঙ্গে পড়েছে। ঘটিভাঙ্গা দিয়ে যে সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছিল এখন তা অনেকটা অচল। সোনাদিয়া নিয়ে কিছু করতে হলে শুরুতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। বর্তমানে সোনাদিয়া এলাকার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি ভাল থাকার পরও পর্যটকদের কোন সুযোগ সুবিধা না থাকায় কোন পর্যটক আসছে না। সোনাদিয়ায় দেখার মত অনেক কিছু থাকার পরও আমরা এগুতে পারছি না। টাটকা শুটকি পাওয়া যায় সোনাদিয়াতেই। শুটকি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হলেও তারা সোনাদিয়ার শুটকি পাচ্ছন না। পর্যটন শিল্প বিকাশে সোনাদিয়াকে ঢেলে সাজানো দরকার বলে মনে করেন তিনি।
সোনাদিয়া দ্বীপ সরকার ঘোষিত পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুযায়ী এই দ্বীপে পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এমন সব কর্মকা- নিষিদ্ধ এবং প্রচলিত ট্যুারিজমের, যেহেতু অনেক ধরনের নীতি বাচক দিক রয়েছে, সুতরাং এই দ্বীপে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটাতে ইকোট্যুারিজমের উন্নয়ন বিকাশ অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিক হতে পারে। এই দ্বীপে দ্বীপবাসীর সম্পৃক্ততায় কমিউনিটি ভিত্তিক ইকোট্যুারিজমের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। যা দ্বীপবাসীর বিকল্প আয়ের ব্যাস্থা সহ অন্যান্য অর্থনৈতিক উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
সোনাদিয়ার নাম করণ ঃ সোনাদিয়া দ্বীপের নামকরণের সঠিক কোন ঐতিহাসিক তথ্য না থাকলেও সোনাদিয়ার দ্বীপকে ঘিরে আদিকাল হতে সোনা সমতুল্য দামী পণ্য মৎস্য সম্পদ আহরিত হত বলে এই দ্বীপ সোনার দ্বীপ তথা সোনাদিয়া বলে পরিচিতি লাভ করে। তাই ঐতিহাসিক ভাবে না হলেও লোক মুখে উচ্চারিত সোনাদিয়ার কথা বিবর্তনে সোনাদিয়ার রূপান্তরিত হয়। দ্বীপটি সোনাদিয়া হিসাবে বর্তমানে প্রজন্মের কাছে পরিচিত।
সোনাদিয়ায় লোক সংখ্যা ঃ বর্তমানে প্রায় ৮১০ জন নারী-পুরুষের বসবাস সোনাদিয়ায়। ২০১২ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী ভোটার সংখ্যা ৩৮৪ জন। স্থানীয় লোকজনের মূল পেশা মৎস্য আহরণ। কিছু পরিবার চিংড়ী ও লবণ উৎপাদন পেশায় জড়িত আছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও খুবই পরিশ্রমী। পুরুষেরা চিংড়ী ও সমুদ্রে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ আহরণে ব্যাস্ত থাকলেও মেয়েরা পুরুষের আহরিত মাছ গুলি বাজার জাত করণের যাবতীয় কার্যক্রমে যাবতীয় ভূমিকা রাখে।
স্থানীয়রা সোনাদিয়া দ্বীপের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এর কাছে জোরদাবী জানিয়েছেন এবং সোনাদিয়া- ঘটিভাঙ্গা সড়কের সংস্কার করে জনগণের কষ্ট লাগবের ব্যবস্থা করা হউক।


শেয়ার করুন