সুরক্ষার ঈদ; নেই গণপরিবহন, নেই উপচেপড়া ভীড়

হুমায়ুন সিকদারঃ

বৈশ্বিক করোনা মহামারিতে জীবনের প্রথম ঈদ উদযাপিত হচ্ছে বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও।

সরকার জনগণকে সুরক্ষার লক্ষ্য ঈদ উদযাপন বাতিল করেছে। ছড়ানো সংক্রমণ রোগ থেকে দুরে রাখার জন্য স্ব স্ব বাসা বাড়ীতে ঈদ পালন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জনসমাগম এড়াতে ঈদের নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে ও নীতিমালা দেয়া হয়েছে।

দূরপাল্লার সমস্ত পরিবহন, লঞ্চ, ট্রেন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে ইতোপূর্বে সরকার কতৃক পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
দেশের ন্যায় জেলায় ও সীমিত আকারে প্রাইভেট বাহন দ্বারা নাড়ির টানে ঈদ করতে যাওয়ার কিছুটা সুযোগ দেয়া হয়েছে। এবছরের ঈদ নিরানন্দ। আনন্দের লেশমাত্র থাকার কথা নয়।

অন্য বছরে ঈদের আগে বাড়ি ফিরছে মানুষ। গণপরিবহন ঠাঁই নেই, লঞ্চে উপচে পড়া ভীড়। এবারে সম্পুর্ন বিপরীত।
জেলার দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় পারাপারে কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে। গতকাল গভীর রাতে সেহরির সময় ৯ জন কুতুবদিয়ায় ঈদ করতে ঘাট পার করাতেই বিপত্তি ঘটে তাদের। পুলিশ সাথে সাথে ওই ৯ জনকে চৌদ্দ দিনের কোয়ারান্টাইনে নিয়েছেবলে জানা গেছে। তাদের ঈদও মাটি!

ঢাকা, চট্টগ্রাম থেকে কেউ ঈদ উদযাপনে গ্রামের বাড়িতে আসার সুযোগ নেই বলে জানাযায়।
২ মাস ধরে দোকানপাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কাজকর্ম সবকিছু বন্ধ। দিনের পর দিন আক্রান্ত ও মৃত্যু সংখ্যা বাড়ার কারনে সরকার ঈদে কড়াকড়ি করছে জনগনকে সচেতন ও সুরক্ষার জন্য ।

ঈদে মানুষ যেন ঢাকা থেকে অন্যান্য জেলায় বা এক জেলা থেকে আরেক জেলায় না যায়, সেজন্যই পরিবহনের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান চালু করায় মানুষের ভিড়ে সামাজিক দূরত্ব সহ স্বাস্থ্যবিধি না মানায় আক্রান্ত বেড়ে চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে লকডাউন কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া ঈদের সময় মানুষের যানবাহন চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার কথাও সরকার তুলে ধরছে।

বাংলাদেশে ঈদে সাধারণত মানুষ ঘরমুখো হয়। দেশের মহাসড়কগুলোতে নামে মানুষের ঢল। ঢাকাসহ বড় শহরগুলো থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ গ্রামে ছুটে যান এবং আত্মীয়স্বজনের সাথে সময়টা কাটান। কিন্তু এবার তার বিপরীত।

যুগ যুগ ধরে এই সংস্কৃতি চলে আসছে। কিন্তু এবার তাতে আঘাত হেনেছে করোনাভাইরাস মহামারি।

সাধারণ ছুটির মেয়াদ ঈদের পরে ৩০ শে মে পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

একইসাথে ঈদের আগে এবং পরে সাত দিন সারাদেশে সড়ক এবং নৌপথে যাত্রীবাহী সব ধরণের যানবাহন চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকছে।

এমনকি ঈদের সময় ব্যক্তিগত যানবাহনও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলা হয়েছে।

যারা যে শহরে বা জেলায় আছেন, তারা ঈদের সময় অন্য জেলায় বা গ্রামের বাড়িতে যেতে পারবেন না। সেটাই সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

ঈদ চলাকালীন সময়ে বিশেষ করে ঈদের আগের চারদিন এবং ঈদের পর দুই নিয়ে মোট সাত দিন কাভার্ডভ্যান বা পণ্যবাহী যান এবং জরুরি সেবা ছাড়া মানুষ চলাচলের সব যাবাহন ওপর কঠোরতা অবলম্বন করা হবে।যে যেখানে আছে, সেখানে থেকেই ঈদ উদযাপন করবে।”

প্রাইভেট কার বা অনেক ব্যক্তিগত গাড়ি রাস্তায় বের হচ্ছে, শহরগুলোতে এগুলোও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলে জানাযায়।

গত ২৬শে মার্চ প্রথম সাধারণ ছুটি দেয়া হয়েছিল। কয়েক দফায় এর মেয়াদ বাড়ানোর ফলে এখন ৩০শে মে পর্যন্ত দুই মাস ছুটি হচ্ছে।

ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিজে নিরাপদ থাকুন, অপরকে নিরাপদ রাখুন।


শেয়ার করুন