মৎস্য ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ প্রকাশ

সাগরে আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে জলদস্যুতা

downloadসংবাদ বিজ্ঞপ্তি:
বঙ্গোপসাগরে আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে জলদস্যুতা। জলদস্যুদের উপদ্রুব বেড়ে যাওয়ায় মৎস্য আহরণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে জেলা সম্প্রদায়ের জন্য। এনিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কক্সবাজার ফিশারী ঘাট মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা।
তাদের দাবী- প্রতিদিনই কোন না কোন ফিশিং বোট ডাকাতির শিকার হচ্ছে। কিছু চিহ্নিত জলদস্যু বঙ্গোপসাগরে রামরাজত্ব কায়েম করছে উল্লেখ করে দ্রুত তাদের গ্রেপ্তারের দাবী জানানো হয় মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে।
ইতোপূর্বে গত ৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফিশারী ঘাট মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির আওতাধীন ফিশিং বোটকে ডাকাতি করতে গেলে দুই জলদস্যুকে আটক করে জেলেরা।
এসময় মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ আজাদের নেতৃত্বে মৎস্য ব্যবসায়ী নেতারা স্পীড বোটযোগে বঙ্গোপসাগরের লাবণী পয়েন্টে গিয়ে জলদস্যুদের উপকূলে নিয়ে আসে। এছাড়াও আটককৃত জলদস্যুদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে বঙ্গোপসাগরের জলদস্যু সর্দারদের নাম উল্লেখ পূর্বক সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন ফিশিং বোট মালিক মো. করিম।
ফিশারী ঘাট মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষে সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মো. মনির উদ্দিন, সহ-সভাপতি মো. সেলিম, অন্যান্যদের মধ্যে মৎস্য ব্যবসায়ী নেতা সরওয়ার কামাল, ফজল, নুরুল আবছার আনু, জানে আলম পুতু, রিদুয়ান আলী, অর্থ সম্পাদক আমির হোসেন সওদাগর, মো. হানিফ, উসমান, গনি সওদাগর, টুলু সওদাগর, শামসুল আলম, হেলাল উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, মো. সুমনসহ মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা যৌথ বিবৃতিতে জানান- আর যদি একটি ট্রলার ডাকাতির শিকার হয় বৃহত্তর আন্দোলন ঘোষণা করবেন তারা।
তারা আরও বলেন- সাগরের জলদস্যুরা চিহ্নিত। জলদস্যুদের কারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, কারা ডাকাতি করা মালামাল ক্রয় করে এসব উদঘাটন করে দ্রুত সবাইকে গ্রেপ্তার করতে হবে। জলদস্যু নির্মূল করতে পারলেই মৎস্যখাতে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসবে বলে মনে করেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়- করিমের মালিকানাধীন ফিশিং বোট ডাকাতির সময় আটক দুই জলদস্যুসহ যেই ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে তারা সাগরে দস্যুতার সর্দার।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়- সোনাদিয়ার আব্দুস সমদের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও শাহ আলমের ছেলে মো. জামালকে ডাকাতির সময় অস্ত্রসহ আটক করে জেলেরা। ডাকাত জাহাঙ্গীর ও জামালের দেয়া তথ্যমতে- সোনাদিয়ার ডাকাত সর্দার মৃত আসাদ আলীর ছেলে আব্দুল গফুর নাগু, বাহাদুর মিয়ার ছেলে সরোয়ার, নাগুর ছেরে নকিব, মোছন আলীর ছেলে আনজু মিয়া, এখলাছ মিয়ার ছেলে জাম্বু এছাড়াও মুনাফ, ফারুকসহ অজ্ঞাত ৫-৬ জন গ্রুপ হয়ে জলদস্যুতা করে। এদের সবার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় বহু মামলা রয়েছে।
সর্বশেষ ডাকাতির সময় অস্ত্রসহ জলদস্যু আটকের ঘটনায় এদের সবাইকে আসামী করে ডাকাতি ও অবৈধ অস্ত্র রাখার অপরাধে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয় কক্সবাজার সদর মডেল থানায়।
মৎস্য ব্যবসায়ী নেতাদের জোরালো দাবী- গত একমাসে সাগরে দেড়শো এর বেশি ফিশিং বোট ডাকাতির শিকার হয়েছে। চিহ্নিত ডাকাতদের আটক করতে না পারলে সামনে জলদস্যুদের প্রভাব আরো বেড়ে যাবে।


শেয়ার করুন