সরকারের সহযোগিতা চায় বিএনপি

1280px-বাংলাদেশ_জাতীয়তাবাদী_দলের_পতাকা.svgসিটিএন ডেস্ক

সরকারের সঙ্গে বিরোধ নয়; বরং সহযোগিতা নিয়েই কাউন্সিল করতে চায় বিএনপি। প্রয়োজনে দলটির নেতারা এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা করবেন। বিএনপির পক্ষ থেকে কথা বলা হতে পারে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গেও। খবর নির্ভরযোগ্য সূত্রের।

সূত্র মতে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করার পক্ষে। কিন্তু মূল বা ‘ইনডোর’ অধিবেশন তারা করতে চায় সংলগ্ন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে। আর সরকার এতেও রাজি না হলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে যেতে ইচ্ছুক দলটি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান ও রুহুল কবীর রিজভী এই তিন নেতাই বলেন, কাউন্সিল সম্পন্ন করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে সংঘাতে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তাঁদের নেই। তাঁরা বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দীতে কাউন্সিল করতে আমাদের অসুবিধা নেই। কিন্তু সংলগ্ন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন হলে আমাদের জন্য ভালো হয়। কারণ ওখানে আমরা ইনডোর বা মূল অধিবেশন করতে পারি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তাঁরা বলেন, ‘প্রয়োজন হলে এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে কথা বলব। কারণ আওয়ামী লীগও তো কাউন্সিল করছে। তাহলে আমাদের করতে দেবে না কেন?’

১৯ মার্চ কাউন্সিল করার জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন এই তিনটি স্থানের যেকোনো একটি চেয়ে বুকিং দেয় বিএনপি। এগুলোর মধ্যে একমাত্র সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পুলিশের অনুমতি সাপেক্ষে কাউন্সিল করা যাবে বলে জানায় সরকারের গণপূর্ত বিভাগ। আর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ এখনো আশা দিয়ে রেখেছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে গতকাল পর্যন্ত কোনো সাড়া দেয়নি।

কিন্তু সোহরাওয়ার্দী নিয়ে বিএনপি কিছুটা বেকায়দায় পড়েছে। কারণ ওই স্থানে কাউন্সিল করা একদিকে যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি শান্তিশৃক্সখলা রক্ষা করাও কঠিন হবে। সবচেয়ে বড় কথা, কাউন্সিলের মূল অধিবেশন বা ‘ইনডোর’ অনুষ্ঠান করা খোলা ময়দানে খুবই কঠিন।

এর পরও সরকারের সবুজ সংকেত না থাকলে অন্য কোথাও কাউন্সিলের জন্য অনুমতি পাওয়া যাবে না। আবার সরকার চাইলে যেকোনো স্থানেই ঝামেলা করতে পারে। ফলে সরকারের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রেখেই কাউন্সিল করার পক্ষে বিএনপি।

একটি সূত্রের দাবি, এরই মধ্যে সরকারের দু-একটি মহলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে কথাও হয়েছে। যে কারণে কাউন্সিলের জোর প্রস্তুতি চলছে বিএনপিতে। প্রতিদিনই চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ নিয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। গতকাল প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ড্রাফটিং কমিটির বৈঠকে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আগামী কাউন্সিলে চেয়ারপারসনের বক্তব্য কী হবে এবং এ-সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অন্য একজনকে দেওয়া হয় মহাসচিবের সাংগঠনিক রিপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার দায়িত্ব। এ ছাড়া গত কয়েক বছরে বিএনপির কোন নেতা কোথায় মারা গেছেন, দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা এবং কতজন গুম হয়েছেন এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব বিভিন্ন নেতাকে ভাগ করে দেওয়া হয়।

গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্যদের মধ্যে শামসুজ্জামান দুদু, এমরান সালেহ প্রিন্স, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, জয়ন্ত কুমার কু-ু, রাবেয়া সিরাজ, রওশন আরা ফরিদ, অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর বুলবুল, শহিদুল ইসলাম বাবুল, মোর্শেদ হায়দার গনি, কামরুজ্জামান বিপ্লব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। কালের কন্ঠ


শেয়ার করুন