শহরে বখাটের ১০ মাস কারাদ

imagesএম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন:
নারীরা মায়ের জাতি। নারী বোনের জাতি। তাই পৃথীবির সকলের উপর যেমন মায়ের সম্মান। ঠিক তেমনি মায়ের মত নারী জাতীর উপর সম্মান প্রদর্শন করা উচিত।
কক্সবাজার শহরে স্কুল ছাত্রী এক নারীকে উত্যক্ত করার অপরাধে জগন্নাত সরকার (২৭) নামের এক বখাটেকে ১০ মাস ১০ দিন কারাদন্ড দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আরেক নারী সাহ্রিন ফেরদৌসী। রোববার ২৬ অক্টোবর বিকালে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাহ্রিন ফেরদৌসী‘র ভ্রাম্যমান আদালত এ সাজা দেন।
জন্মধাত্রী মা ১০ মাস ১০দিন অনেক কষ্টে গর্বে ধারণ করে একজন সন্তানকে ভুমিষ্ট করা হয়। এই ‘১০ মাস ১০ দিন ’ জন্মধাত্রী মা কতো কষ্ট সইয়েছে। এই মায়ের জাতিকে উত্যক্ত করা শাস্তি যোগ্য অপরাধ আর জঘন্যতম পাপ।
কক্সবাজার শহরের বড়বাজার পেশকারপাড়া এলাকার রনজিত সরকার বখাটে ছেলে জগন্নাত সরকার (২৭) প্রায় সময়ই স্কুল কলেজ ছাত্রীদের প্রায় সময় উত্যক্ত করে আসছিল। বরাবরের মতো কক্সবাজার সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯ম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে উত্যক্ত করার অপরাধে ২৫ অক্টোবর তাকে জনতা আটক করে পুলিশের হাতে সোর্পদ করা হয়।
গত রোববার ২৬ অক্টোবর এই বখাটে জগন্নাত সরকারকে হাজির করা হয় নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাহ্রিন ফেরদৌসী‘র ভ্রাম্যমান আদালতে। ওই বখাটে জগন্নাত তার দোষ স্বীকার করে।
ভ্রাম্যমান আদালতে একটি সুত্র জানান, ওই বখাটে জগন্নাত সরকারের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করা হয় তার মা তাকে কয় মাস গর্ভে রেখেছে। সে অপকটে স্বীকার করেছে ‘১০ মাস ১০দিন’। নারীকে উত্যক্ত করা মা-নে মায়ের জাতিকে অসম্মান করা। এই পাপের শাস্তি হিসেবে পাপ মুছন করে পুনরায় জন্মের জন্য তাকে ‘১০ মাস ১০ দিন’র কারাদন্ডাদেশ দেয়া হয়।
১০ মাস ১০ দিন মায়ের গর্ভ ছিলো শান্তির। আরাম আয়েশে ছিলো মায়ের গর্ভে। নারীকে কষ্ট দেয়ার দায়ে তাকে চার দেয়ালে বন্দি রাখা হবে। অবশ্য সেখানে থাকবে না মায়ের গর্ভের মতো শান্তি। এ থেকে শিক্ষা পাবে নারী জাতিকে অসম্মান করার শাস্তি কি। তার মতো আর কোন বখাটে সাহস করবে না নারী জাতিকেকে উত্যক্ত করার।
মানব জাতির অর্ধেক ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নারী। তাদেরকে অবহেলা ও উপেক্ষা করে মানব সভ্যতার উন্নতি ও অগ্রগতি সম্ভব নয়।
আজ আমরা যেন আবার প্রাগৈসলামী যুগের দিকে ফিরে যাচ্ছি? সে সমাজে নারীদের কোন মূল্যায়ন করা হয়নি। কন্যা সন্তানরা ছিল অসম্মান, অমর্যাদা, পাপ পঙ্গিলতার প্রতীক। কন্যা জন্মগ্রহণ করলে তারা নিষ্ঠুর পৈশাচিক পদ্ধতিতে হত্যা করতো। পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করলে সবার মন আনন্দের জোয়ার বয়ে যেত আর কন্যা সন্তান- সেতো ঘৃণা অসম্মান তাই তাকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো।
পৃথিবীতে ইসলাম নারীকে সবচেয়ে বেশি অধিকার ও মর্যাদা দিয়েছে। নবী করিম (সা.) বলেছেন প্রথমে কন্যা সন্তান প্রসব করায় মায়ের সৌভাগ্য নিহিত আছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, এক ব্যক্তি নবী করীম (সা.) এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূূল আমার কাছ থেকে সুন্দর আচরণের সবচেয়ে বেশি হকদার কে? তিনি বললেন, তোমার মা। আগন্তুক জিজ্ঞেস করলেন, এরপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। পুনরায় উক্ত ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, এরপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, এরপর কে? নবী করীম (সা.) বললেন, তোমার পিতা। (বুখারী)
হাদিস হলো, ‘যদি কোন ব্যক্তি তার দুই কন্যাকে সাবালক হওয়া পর্যন্ত প্রতিপালন করেন তাহলে সেই ব্যক্তি ও আমি কিয়ামতে এমনভাবে একত্রে আগমন করব যেমন আমার দুটি আঙ্গুল একত্রে আছে। (মুসলিম)।
ইসলামই কেবল নারীর মর্যাদা, সম্মান, অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম। তাই প্রতিটি নারী-পুরুষকে সেই বাস্তব সত্যটি উপলব্ধি করে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলে আমাদের মায়ের জাতি ফিরে পাবে তাদের কাঙ্খিত মর্যাদা ও অধিকার।
তাই কবির ভাষায় বলতে হয়,‘নারী জাতি মায়ের জাতি ,সম্মান করো দিবা-রাতি। ধরণীর শ্রেষ্ট জাতি , সে তো মোদের মায়ের জাতি’।
একজন নারী বিচারক নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাহ্রিন ফেরদৌসী ওই বখাটেকে শাস্তির মাধ্যমে আরো একবার প্রমাণ করেছেন নারীকে সম্মান করতে হবে।
নারীই তার সংসারকে আগলে রাখে। সংসারের ভালো-মন্দ দেখা-শোনার ভার নারীর উপরই অর্পিত হয়। নারী মায়ের জাতি। পুরুষের পাশাপাশি সব কাজে সমান অংশীদার হয়েও মা হিসেবে সন্তান ধারণ ও লালন নারীর ভূমিকা কোনো কিছুর সঙ্গেই তুলনীয় নয়। শিশুর চরিত্র গঠনে মায়ের শিক্ষাই প্রধান। আগামী দিনের নাগরিক গঠনের গুরু দায়িত্ব পালন করে নারী। তাই নারীর প্রতিও রয়েছে পরিবার, সমাজের অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য। একজন সুুস্থ মা-ই দিতে পারে সুস্থ সন্তানের জন্ম।
পরিবারে কন্যাসন্তানকে যতেœর চোখে দেখব। আজ যে কন্যা কাল সে হবে আগত সন্তানের জননী, আর সমাজ ও রাষ্ট্রের নিরাপদ মা। সেই মা-ই দেবে আমাদের নিরাপদ সন্তান।


শেয়ার করুন