নির্বাহী প্রকৌশলীর জবাব- “আমি ঘুমিয়ে আছি!”

শহরের প্রধান সড়ক খানা-খন্দকে বেহাল দশা

unnamedএস এম আরোজ ফারুক ॥

কক্সবাজার শহরের প্রধান ও অতি গুরুত্বপূর্ন সড়কটিতে অসংখ্য খানাখন্দের কারনে চরম দূর্ভোগে পড়েছে শহরবাসী। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা সড়কটির বিভিন্ন স্থানে গর্ত হওয়ার কারণে দু’দিক থেকে আশা যানবাহনগুলো একপাশ দিয়ে চলাচল করছে আর তাই প্রায় সময় মূখমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। একদিকে যখন শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির এই হাল অন্য দিকে স্বয়ং কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বহী প্রকৌশলী রানাপ্রিয় বড়ুয়া বললেন তিনি ঘুমিয়ে আছেন। সড়কটির এমন হাল তিনি সরজমিনে গিয়ে দেখেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এভাবেই বলেন। এই কর্মকর্তার সাথে সড়ক সংস্কারের বিষয় নিয়ে কথা বললে তিনি বৃষ্টি, আবর্জনা ও জনবসতির দোহায় দিয়ে প্রসঙ্গ এড়াতে চেয়ে বলেন, এ রাস্তা ভাংবেই কিছু করার নেই। বৃষ্টির পানি এসে জমা হয়ে থাকে এখানে, শহরের সব মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে তাই এই সড়ক তো নষ্ট হবেই। তাছাড়াও সংবাদ প্রকাশের সুবিধার্থে সড়ক ও জনপদ বিভাগীয় কোন প্রয়োজনী তথ্য জানার জন্য তাকে ফোন করা হবে এমন কথার জবাবে এই হেয়ালী প্রকৃতির কর্মকর্তা বলেন, তার সাথে যোগাযোগ না করে যেন তার নি¤œ পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তাকে ফোন করলে কাজে ব্যঘাত ও বিরক্তবোধ করেন বলেও তিনি জানান।

এই যখন একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার অবস্থা তখন জেলার সড়ক ও জনপদ বিভাগ থেকে জেলাবাসী ভাঙ্গা সড়ক ছাড়া আর কি বা আশা করতে পারে। কক্সবাজার শহরে যারা বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন বের হচ্ছেন এবং যাতায়াত করছেন তারা স্ব-চোক্ষে প্রতক্ষ করছেন শহরের প্রধান সড়কটি। হলিডেমোড় থেকে ঝিলংজা পর্যন্ত সড়ক ও জনপদ বিভাগের ৬কিঃমিঃ রাস্তার প্রায় বেশিরভাগ রাস্তারই বেহালদশায় পড়ে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রতি বছর জোড়াতালি দিয়ে রাস্তা সংস্কার করলেও তা টেকশই না হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জেলার সর্বস্তরের জন সাধারণ।
তাদের মতে, জেলার অতি গুরুত্বপূর্ন অফিসগুলোতে যেতে হলে এই সড়ক দিয়েই যেতে হয়। রাস্তায় গর্তের কারণে সব গাড়িগুলো একদিক দিয়ে যেতে চাই সেই কারণে যেমন বাড়ছে দূর্ঘটনা তেমনি মিলছেনা যানযটের সমাধান। শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এই দূর্ভোগ, এমনটিই অভিযোগ করেছেন ভূক্তভুগিরা।

আইভিপি সড়কের মোড়, টেকপাড়া, কালুর দোকান, বৃহত্তর রুমালিয়ারছড়া, আলীরজাহাল, বিজিবি ক্যাম্প এলাকা, বাস টার্মিনালসহ শহরের বাইরে থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কোন না কোন কাজে শহরে আসে। আর এই সড়কটি পাড়ি দিয়ে তাদের গন্তব্যে যেতে পোহাতে হচ্ছে চরম দূর্ভোগ। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আদালত, এয়ারপোর্ট, সকল প্রকার ব্যাংক, সদর হাসপাতাল, বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতালসহ একটি জেলার সকল প্রকার গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়গুলোতে যেতে হলে শহরের প্রধান সড়কটিই একমাত্র ভরসা। অথচ এই সড়কটির এমন নাজুক অবস্থার কারনে প্রতিনিয়ত সময় অপচয়ের পাশাপাশি সীমাহিন দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ জনগন।
টেকপাড়ার এক ব্যবসায়ী মিনহাজ চৌধুরী বলেন, শহরের প্রধান এই সড়কটি দিয়ে আমরা সবাই প্রতিনিয়ত যাওয়াআসা করি। তাছাড়া এদিক দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। রুমালিয়ারছড়া, আলীরজাহাল, বিজিবি ক্যাম্প এলাকা এসব জায়গা বলতে গেলে অনেকটাই জনবহুল এলাকা। এমনিতেই আমাদের রাস্তাটা ছোট তার উপর এসব এলাকায় খানাখন্দের কারনে সড়কটি আরো সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। সড়কটি দিন দিন এভাবে সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ার কারণে আমাদেরই দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চোখে এসব পড়েনা কারন তারা চলাচল করেন হেবি স্প্রিং ওয়ালা গাড়িতে।

আলীরজাহাল এলাকার জয়নাল নামের এক রিক্সা চালক জানান, ভাংগা রাস্তার কারণে প্রায় সময় রিক্সা উল্টে যায়। প্রতি মাসেই আমার রিক্সার রিং, বিয়ারিং পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কাজ করতে হয়। তাছাড়া গর্তের পাশদিয়ে রিক্সা চালিয়ে যাওয়ার সময় বিপরীত থেকে বড় গাড়ি আমার সাইডে চলে আসে, সে গাড়িকে আমার বাধ্য হয়ে সাইড দিতে হয় না হলে ক্ষতি আমারই হবে। আর বড় গাড়ি সাইড দিতে গিয়ে অনেক সময় দূঘটনা হয়।

সরজমিনে দেখা গেছে, ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে থেকে শুরু করে, আইভিপি সড়ক মোড়, বার্মিজ মার্কেট, কালুর দোকান, খুরুশকুল সড়ক মোড়, হাসেমিয়া মাদ্রাসা, আলীর জাহাল, সিটি কলেজসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় খানাখন্দে ভরপুর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বহী প্রকৌশলী রানাপ্রিয় বড়ুয়া, নির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে না পারলেও তিনি বলেন, কিছুদিন পর সড়কের কাজ শুরু হবে। টেন্ডার হয়েছে, কাজ করার জন্য ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দও হয়েছে। বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে যতটুকু সম্ভব রাস্তা মেরামত করা হবে।


শেয়ার করুন