২৩ বছরের দূর্ভোগের অবসান

 শহরতলীর দরিয়ানগরে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণ

unnamed (1)বার্তা পরিবেশক ॥ 

কক্সবাজার শহরতলীর দরিয়ানগরে স্বেচ্ছাশ্রমে একটি রাস্তা নির্মাণ করেছে এলাকাবাসী। এরফলে দীর্ঘ ২৩ বছরের যাতায়াত সমস্যার অবসান ঘটেছে।
এলাকাবাসী জানান, কক্সবাজার শহরের লাবণী পয়েন্ট এলাকার সমুদ্র সৈকতে বসবাসকারী ভূমিহীন ৩ শতাধিক পরিবারকে ১৯৯২ সালে উচ্ছেদ করে বড়ছড়া এলাকার পাহাড়ী উচুঁ-নিচু ভূমিতে পূনবার্সন করা হয়। কিন্তু ওই স্থানে কোন রাস্তাঘাট নির্মাণ করে দেয়া হয়নি। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে আশ্রায়ণ প্রকল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ৮০টি পরিবারকে বাড়ী নির্মাণ করে সেখানে পূনর্বাসন করা হলেও বাকী পরিবারগুলোকে আশ্রায়ণ প্রকল্পে ঠাঁই দেয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, বড়ছড়া এলাকায় কয়েকশত পরিবারকে পূনবার্সন করা হলেও এলাকায় কোন পাকা রাস্তা নির্মাণ দুরের কথা, কাঁচা রাস্তাও নির্মাণ করে দেয়া হয়নি। ফলে আশ্রায়ণ প্রকল্প ও এর বাইরে কয়েক শত পরিবার প্রায় ২ যুগ ধরে অত্যন্ত মানবেতর জীবন-যাপন করে আসছিলেন।

দরিয়ানগর বড়ছড়া আশ্রায়ণ প্রকল্প ও সমাজ কমিটির সভাপতি মাহবুব আলম ঘটনার কথা স্বীকার করে জানান- এবিষয়ে এলাকাবাসী প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার ধর্ণা দিলেও কোন কাজ হয়নি। ফলে এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণ করে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

এলাকাবাসী জানান, রাস্তাটির অভাবে এতদিন জানাযার মাঠ ও কবরস্থানে যেতে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হত। বিশেষ করে বর্ষাকালে বাঁশের সাঁকো দিয়ে লাশ পারাপার করতে গিয়ে অনেক সময় মৃতদেহ মাটিতে পড়ে যেত। কিন্তু রাস্তা নির্মাণের ফলে সেই দূর্ভোগ আর পোহাতে হবে না। এখন থেকে সহজেই কবরস্থান ও জানাযার মাঠে যাতায়াত করা যাবে। এছাড়া খালেকের পাহাড়সহ আশ্রায়ণ প্রকল্পের আশেপাশে বসবাসকারী কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত পথও সহজ হয়ে গেল। সেসাথে নির্মাণাধীন ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যাওয়ার সরাসরি পথও তৈরী হয়ে গেল।


শেয়ার করুন