সন্ত্রাসী কর্তৃক নির্মম হত্যার শিকার মালেক মেম্বার

লামার ফাইতং চিউরতলীতে ভুমি দস্যুতা বৃদ্ধি পাচ্ছে

malek photoএম বশিরুল আলম, নিজস্ব প্রতিনিধি :

বান্দরবানের ফাইতং চিউরতলীতে ভু-বিভ্রান্তিকারী চক্রের উৎপাত ক্রমশ: বেড়ে চলেছে। ২০১৩ সালে এক সাবেক ইউপি সদস্য হত্যার সন্দেহ ভাজন আসামীরা এলাকায় আবারো ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলছে। এ চক্রটি ভুমি বিরোধ সৃষ্টি করে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেদের সন্ত্রাসী শক্তি রয়েছে! এমনটি জানান দিচ্ছে। নিহত সাবেক ইউপি সদস্য মালেকের স্বজনদেরকে প্রাণ নাশের হুমকী দিয়ে, ইতোপূর্বে সংগঠিত হত্যার ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততা শিকার করে যাচ্ছে ত্রাস সৃষ্টিকারী এগ্রুপটি। এদের আগ্রাসনে অতিষ্ট নিহত সাবেক মালেক মেম্বারের পরিবারের লোকজন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২৩ আগষ্ট /২০১৩ সালে আজিজ নগর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মালেক অপহরণ হয়। ৫সেপ্টেম্বর/১৩ পার্শ্ববর্তী কাট্টলীখাল এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ আবদুল মালেকের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর সাতক্ষিরা জেলাস্থ ভারতের বর্ডার এলাকা থেকে এ খুনের সাথে জড়িত অলি গাজী নামের একজনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। সূত্রমতে অলি গাজী তার জবানীতে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবী করলেও কিলিং মিশনে অংশনেয়া ক’জনের নাম উল্লেখ করেন। এরা হলেন, স্থানীয় মেহেরাজ, রবিউল হোসেন, নুরুল ইসলাম, রিপন ও পাশ্ববর্তী চকরিয়া হারবাং এলাকার বাসিন্দা মানিক। তবে এদেরকে এই মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী করা হয়নি। পর্যায়ক্রমে এসব অভিযুক্তরা জেল হাজত খেটে অনেকে এখন জামিনে আছেন। জেলে থাকালীন সময়ে হত্যাকারীদের নাম প্রকাশ করায়, জেলবন্দি অলি গাজীকে প্রাণ নাশের হুমকী দেয়ায় স্থানীয় এমলাক ১ বছর ২ মাস জেল খেটেছেন বলেও জানাগেছে। এদিকে মামলার অভিযুক্ত মেহেরাজ ও রবিউল নিহত আবদুল মালেকের পরিবারের অন্যদেরকে এখনো প্রকাশ্যে প্রাণ নাশের হুমখী দিচ্ছে বলে নিহতের পরিবারের লোকেরা জানান। স্থানীয়রা জানান, মালেক মেম্বার হত্যার প্রধান অভিযুক্ত অলি গাজীর জবান বন্দিমতে ঘটনায় জড়িতরা মনে করেন, হত্যা কান্ডের সাথে তাদের নাম জড়িয়ে দিয়েছে নিহতের পরিবারের লোকেরা। এ ক্ষোভে অভিযুক্ত ওইসব ব্যক্তিরা খুন হওয়া মালেক মেম্বারের ভাই বশির আহমেদসহ তার আত্মীয় স্বজনদের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র করে চলছে।
এদিকে চিউরতলী সাবেক অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের জমির মালিকানা নিয়ে বিতর্কে সৃষ্ট ভুমি বেরোধটি নতুন ষড়যন্ত্রের মাত্রা যোগ করেছে নিহত মালেক মেম্বারের ভাই বশির আহমেদের বিরুদ্ধে। সূত্রমতে ১৯৮৭ সালে নিরাপত্তার প্রয়োজনে আজিজ নগর চিউরতলী এলাকায় বশির আহমেদের টিলার উপর একটি অস্থায়ী সেনা এবং পরবর্তীতে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপিত হয়। ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যহারের অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ চিউরতলী পুলিশ ক্যাম্পটি ক্লোজ করে নেন। এদিকে ক্লোজ হওয়া ক্যাম্প’র ভুমির মালিকরা স্বস্ব ভুমিতে বসতি স্থাপন শুরু করেন। সাবেক ওই ক্যাম্পটির ১৫ একর টিলা ভুমি নিয়ে আয়তন ছিল বলে জানাযোয়। এর মধ্যে ১৯৮০-৮১ সালে সরকার কর্তৃক পুর্নবাসিত ভুমিহীন বশির আহমেদ এর নামে ৫ একর, নুরচ্ছপা নামের একজনের ৫ একর ও মসজিদের নামে ৫ একর বন্দোবস্তি হয়। বশির, নুরুচ্ছপা ও মসজিদের অনুকুলে দীর্ঘদিন ধরে টিলাটি ভোগদখলে স্থিত রয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় এমলাক ও মেহেরাজ চক্র নতুন করে এই ভুমির মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধ সৃষ্টি করে। এ চক্রটির দাবী উক্ত ভুমির মালিক পুলিশ ক্যাম্প, কখনো কখনো এটি মসজিদের বলেও তারা দাবী করেন। এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম এর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প ছিল সত্য, তবে ক্যাম্পের নামে বন্দোবস্তি নেই। তিনি জানান, জমিটি খাস, ভবিষ্যতে পুলিশের প্রয়োজন হতে পারে বলে জেলা প্রশাসক বরাবর বন্দোবস্তি পাওয়ার জন্য বান্দরবান পুলিশ সুপার আবেদন করেছেন। অপর দিকে স্থিত ভুমির মালিকানা কাগজ রয়েছে, বশির আহমেদ, নুরুচ্ছপা ও স্থানীয় চিউরতলী মসজিদের নামে। আসলে ভুমির মালিক কে? সরকার, পুলিশ, নাকি ভোগদখলে স্থিত বশির, নুরুচ্ছপাদের? এ প্রশ্নের জবাব একমাত্র সরকারের ভুমি বিভাগই দিতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির প্রতি নজর না দিলে চলমান বিরোধকে কেন্দ্র করে চিউরতলী সমাজে অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়ার শংকা প্রকাশ করেছেন এলাকার প্রবীন লোকেরা।


শেয়ার করুন