লন্ডনে ভাড়া বাড়িতে থাকছেন খালেদা জিয়া

khada_962601-400x306সিটিএন ডেস্ক:
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া লন্ডনে একটি বাড়ি ভাড়া করেছেন। আপাতত ওই বাড়িতে তিনি কোকোর স্ত্রী ও তার দুই মেয়েকে নিয়ে থাকছেন। তিনি যে কয়দিন লন্ডনে আছেন ওই বাড়িতেই থাকবেন। এরপর তিনি দেশে ফিরে আসার আগেই ওই বাড়ি ছেড়ে দেবেন। কোকোর স্ত্রী ও তার দুই কন্যার জন্য আলাদা করে তখন একটি বাড়ি ভাড়া করা হবে। সেই বাড়িতে তারা থাকবেন। চলতি সেশনে সেখানে কোকোর দুই মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া লন্ডনে যাওয়ার পর প্রথম দিন তারেক রহমানের বাসায় থাকলেও রাতের বেলা হোটেলে থাকতেন। এভাবে কয়েকদিন চলে। কিন্তু তার দেশে ফেরার সময় দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে তিনি আর হোটেলে না থাকার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ হোটেলে ভাড়াও অনেক বেশি। হোটেলের ভাড়া না দিয়ে এর চেয়ে কম টাকায় থাকতে চান। এই কারণে কম ভাড়ায় একটি বাড়ি ভাড়া করার ব্যাপারে ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে আলাপ করেন। কোকোর স্ত্রী ও দুই কন্যার জন্য আলাদা করে খালেদা জিয়া নিজেই তারেক রহমানকে বাসা ভাড়া নিতে বলেন। তারেক রহমানের বাসা ছোট। এই কারণে আরও চারজনের সেখানে জায়গা হচ্ছিল না। কারণ তারেক রহমানের বাসাটি দুই বেডরুমের। আর খালেদা জিয়ার জন্য এক রুম, কোকোর দুই মেয়ের জন্য এক রুম ও স্ত্রীর জন্য এক রুম মোট পাঁচ বেড রুমের একটি বাড়ির প্রয়োজন ছিল। সবাই একসঙ্গে থাকারও চিন্তা করেছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়া সেখানে বেশি দিন থাকবেন না এই কারণে তিনি চাননি তারেক রহমান ১-২ মাসের জন্য আবার বেশি বড় বাড়ি ভাড়া করুক। সেটা করতে গেলে খরচও হবে অনেক বেশি। এই কারণে তিনি তারেক রহমানকে বলেন, তারেক রহমান, স্ত্রী ও জাইমাকে নিয়ে আগে থেকে যেই বাড়িতে থাকছেন সেখানে থাকবেন। আর তার, কোকোর স্ত্রী ও কন্যাদের জন্য একটি বাড়ি ভাড়া করাবেন। এই জন্য তিনি তিন বেড রুমের একটি বাড়ি ভাড়া করার জন্য বলেন। সেই হিসেবে তারেক রহমান মা ও ভাইয়ের স্ত্রী এবং দুই কন্যার জন্য তিন বেড রুমের একটি বাড়ি ভাড়া করেন। বাড়িটি তারেক রহমানের বাসার কাছেই। পায়ে হেঁটেই যাওয়া যায়।
সূত্র জানায়, প্রায় দুই মাস সময় হোটেল ভাড়া দিতে অনেক টাকা আসবে। অত টাকা খালেদা জিয়া খরচ করতে চাননি। কারণ তারেক রহমান ওই ভাবে কোনো আয় করেন না। তাই তার পক্ষে বেশি টাকা দেওয়া সম্ভব হবে না। খালেদা জিয়াও বিদেশে যাওয়ার সময় বেশি পাউন্ড ও ডলার নিতে পারেননি কারণ তার সব ব্যাংক হিসাব ওয়ান ইলেভেনের সরকারের সময় থেকে বন্ধ রয়েছে। তিনি কেবল ৫০ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে তুলতে পারেন। ওই টাকায় তার ঢাকায় বাড়ি ভাড়াও হয় না। এই কারণে ঢাকায়ও বাড়ি ভাড়া দিতে পারছেন না। বাড়িওয়ালাকে মাসে মাসে চেক দিচ্ছেন। যেহেতু বাড়িটি তার দলের এক নেতার, তাই তার তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
বিএনপি চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ একজন বিএনপি নেতা বলেন, ম্যাডামের লন্ডনে থাকা, খাওয়ার খরচ দলের কোনো কোনো নেতা বহন করতে চাইলেও ম্যাডাম তা নিতে রাজি হননি। এই কারণে তিনি চাইছেন যত কম খরচে লন্ডন সফর শেষ করতে পারেন, সেটাই চেষ্টা করছেন।
সূত্র জানায়, বেগম খালেদা জিয়ার যে চোখের আগে অপারেশন হয়েছিল সেই চোখ এখন ভালো। আর একটি চোখেরও অপারেশন হয়েছে শুনেছি। সেটাও ভালো হতে কিছুটা সময় নিবে। ম্যাডাম বিশ্রামে আছেন। এদিকে তার হাঁটু ও দাঁতেরও চিকিৎসা করাবেন। মূলত চোখের সমস্যার সমাধান হলেই বাকি দুটির পুরোপুরি চিকিৎসা করাবেন। ইতোমধ্যে একবার করে হাঁটু ও দাঁতের চিকিৎসককেও দেখিয়েছেন।
ওই নেতা আরও বলেন, ম্যাডামের দেশে ফেরার জন্য দিন ঠিক রয়েছে ২ নভেম্বর। চিকিৎসা শেষ হলে তিনি ওই দিন আসতে পারেন। আসার পর তিনি ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠানেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু ম্যাডামের চিকিৎসা শেষ হতে আরও সময় লাগলে হয়তো ফিরতে আরও সময় লাগতে পারে। ২ নভেম্বর না-ও আসতে পারেন। ওই নেতা বলেন, ম্যাডাম যাওয়ার পর প্রথমবার যখন ফেরার দিন পরিবর্তন করা হলো এরপর বারবার ফেরার দিন সম্ভাব্য হিসেবে ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু কোনোবারই তা চূড়ান্ত করা হয়নি। এখনও ২ নভেম্বর ঠিক করা হয়েছে। তবে এয়ারলাইন্সে সেটা কনফার্ম করা হয়নি। ম্যাডামের আসার দিন চূড়ান্ত হলেই কেবল তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। সেটা এখনই বলা যাবে না।
এদিকে আওয়ামী লীগ ও সরকার মনে করছে বিএনপি চেয়ারপারসন আপাতত দেশে ফিরছেন না। এই জন্য সেখানে বাড়ি ভাড়া করিয়েছেন। এই ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ম্যাডামের সেখানে হোটেলে থাকতে অনেক খরচ হচ্ছিল। কিন্তু ম্যাডাম সেটা চাচ্ছিলেন না। এই কারণে তিনি যে কয়দিন থাকবেন সেই কয়েকদিন একটি বাড়িতে তার ছোট ছেলের স্ত্রী ও কন্যাদের নিয়ে থাকছেন। আসার আগে ওই বাড়ি ছেড়ে আসবেন। তিনি ২ নভেম্বর ফিরতে পারেন এমন সম্ভাবনা রয়েছে। চিকিৎসা শেষ না হলে ফিরতে আরও সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, লন্ডনে যারা গেছেন তারা এটা জানেন যে, সেখানে ৭ দিন, ১৫ দিন, ২১ দিন, ১ মাসের জন্যও বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়। ম্যাডামের বাড়িটি এক মাসের জন্য ভাড়া করা হয়েছে। এক মাস পর ছেড়ে দেওয়া হবে। আর ম্যাডামের আসতে দেরি হলে বাড়ি ভাড়ার মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে।


শেয়ার করুন