যে দরজা আপনি নষ্ট করতেও পারেন, রক্ষাও করতে পারেন!

ma-400x266ইসলামিক ডেস্ক:

মায়ের জন্য ব্যথিত সাহাবি আবু হোরায়রা রা. এর মন। কাঁদে সাহাবির চোখ, কাঁদে সাহাবির হৃদয়। তবে এ অশ্রু মায়ের বিরহে নয়। এ অশ্রু মায়ের জন্য, মায়ের ঈমানের জন্য। আবু হোরায়রা রা. ঈমানের মালা গলায় পড়লেও তার মা ঈমানের আলোয় এখনো সিক্ত হননি। এ ভাবানায় ঘুম নেই আবু হোরায়রার চোখে। ভাবনায় ভাবনায় দিন যায় আবু হোরায়রা রা. এর। সাহাবির হৃদয়ের ক্রন্দনে দয়ার ঢেউ ওঠে প্রভুর রহমতের সাগরে। চোখ মেলে তাকালো দয়াময়ের দয়ার সাগর। একদিন হযরত আবু হোরায়রা রা. রাসুল সা. এর নিকট এসে কাঁদছেন। রাসুল সা. জিজ্ঞেস করলেন,

হে আবু হোরায়রা! তুমি কেন কাঁদছ?

আমার মা আমাকে মেরেছেন।

কেন তুমি কি কোন বেয়াদবি করেছ?

না হুজুর! কোন বেয়াদবি করিনি। আপনার দরবার থেকে বাড়ি যেতে আমার রাত হয়েছিল। আপনার কথা বলায়, মা রাগে আমাকে মারধর করে বললেন, হয়ত আমার বাড়ি ছাড়বি, না হয় মুহাম্মদ সা. এর দরবার। ফলে আমি বললাম, ও আমার মা। তুমি বয়স্ক মানুষ। তোমার গায়ে যত শক্তি আছে তত শক্তি দিয়ে মারতে থাকো। মারতে মারতে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দাও। তবুও আমি আমার রাসুলকে ছাড়তে পারবো না। রাসুল সা. বললেন, তোমার মা তোমাকে বের করে দিয়েছেন। আর এ জন্য আমার কাছে নালিশ করতে এসেছ? আমার তো এখানে কিছুই করার নেই।

হে আল্লাহর রাসুল! আমি আমার মায়ের জন্য নালিশ করতে আসিনি।

তাহলে কেন এসেছ?

আমি জানি আপনি আল্লাহর নবী। আপনি যদি হাত উঠিয়ে আমার মায়ের জন্য দোয়া করতেন, আমার মাকে যেন আল্লাহ হেদায়েত করেন।

প্রিয় সাহাবির আবদার ফেলতে পারলেন না নবী সা.। সঙ্গে সঙ্গে প্রিয় হাবিবের দরবারে বাড়িয়ে দিলেন তাঁর মকবুল হাত। দোয়া করলেন সাহাবির মায়ের জন্য। আবু হুরায়রার মায়ের ঈমানের জন্য। বললেন, হে আল্লাহ! আমি দোয়া করি আপনি আবু হোরায়রার আম্মাকে হেদায়েত দেন।

সাহাবির মায়ের জন্য নবীজীর দোয়া। নেচে উঠে আবু হোরায়রা রা. এর মন। নবীর দোয়া বিফলে যাবার নয়। এবার মা ঈমানের আলোয় আলোকিত হবেই। আবু হোরায়রা বাড়ির দিকে দৌড়ে যাচ্ছেন। পিছন থেকে কয়েকজন লোক আবু হোরায়রার জামা টেনে ধরে বললো, হে আবু হোরায়রা! তুমি দৌড়াচ্ছ কেন? আবু হোরায়রা বললেন, ওহে সাহাবীরা! আমার জামা ছেড়ে দাও। আমাকে দৌড়াতে দাও। আমি দৌড়াচ্ছি এ কারণে, আমি আগে পৌঁছলাম না আমার নবীজির দোয়া আগে পৌঁছে গেছে?

মায়ের ঘরের কাছে পৌঁছলেন আবু হোরায়রা। মনভরা আনন্দ আবু হোরায়রার। দরজায় ধাক্কা মারলেন আবু হোরায়রা। দরজা খোলার পর আবু হোরায়রা দেখলেন তার মার সাদা চুল বেয়ে বেয়ে পানি পড়ছে। মা আমাকে বললেন, আবু হোরায়রা! তোমাকে মারার পর আমি বড় অনুতপ্ত হয়েছি, অনুশোচনা করেছি। মনে মনে ভাবলাম, আমার ছেলে তো কোন খারাপ জায়গায় যায়নি। কেন তাকে মারলাম? তোমাকে মেরে লজ্জায় পড়েছি। হে আবু হোরায়রা! আমি গোসল করেছি। আমাকে তাড়াতাড়ি রাসুল সা. এর দরবারে নিয়ে চল। আবু হোরায়রা মাকে নিয়ে চললেন রাসুল সা. এর দরবারে। কালেমা পড়ে মুসলমান হলেন আবু হোরায়রা রা. এর মা।

নবী সা. আবু হোরায়রা. রা. কে বললেন, বাবা মা জান্নাতের মাঝের দরজা। যদি চাও, দরজাটি নষ্ট করে ফেলতে পারো, নয়ত রক্ষাও করতে পারো। (হাদিস অবলম্বনে)


শেয়ার করুন