ভেটেরিনারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নির্মাণ কাজ বন্ধে নোটিশ

Cox-Veterinary-University-Campus.1-300x225-640x480_2বিশেষ প্রতিনিধি:

কক্সবাজারে পাহাড়ী জমি ও প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় নির্মাণাধীন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নামে করা ৫ একর জমির বন্ধেবস্ত বাতিল করে ক্যাম্পাস নির্মাণ সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বন্ধ করার দাবী জানিয়ে ভুমি মন্ত্রণালয় ও বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এবং ভেটেরিনারী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ ১২ সরকারী কর্মকর্তাকে আইনী নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি(বেলা)। একই সাথে ক্যাম্পাসের জন্য ইতিমধ্যে স্থাপিত সমস্ত পিলার অপসারণেরও দাবী জানিয়েছে।

পাশাপাশি কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা মৌজার আর এস ৬৯২সহ(বিএস-২৫০০১) অন্যান্য দাগের মোট ২১৪৫.০২ একর ঘোষিত রক্ষিত বন ভুমির সকল বিরুদ্ধ ব্যবহার বন্ধ করে পাহাড়,বন ও প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসাবে সংরক্ষণের জোর দাবী জানানো হয়েছে। একই সাথে জনস্বার্থে পাহাড় ও বন সংরক্ষণ না করে তা ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহারে উৎসাহিত করা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসাবে আপনার(নোটিশ গ্রহীতারা) ব্যর্থতার পরিচায়ক।

এ বিষয়ে নোটিশ গ্রহীতাদের গৃহীত পদক্ষেপ নোটিশ প্রেরণের সাত দিনের মধ্যে বেলা’র সংশ্লিষ্ট আইনজীবিকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি ও বেলা’র নির্বাহী কমিটির সদস্য বাহ্রীন খান গতকাল ডাকযোগে এ আইনী নোটিশটি পাঠিয়েছেন।

নোটিশ প্রাপ্তরা হলেন ভুমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রধান বন সংরক্ষক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, বন বিভাগের চট্রগাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্রগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক, কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) ও চট্রগাম ভেটেনারী ও এনিম্যাল সাইয়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। নোটিশে বলা হয়েছে, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা মৌজার আর এস ৬৯২সহ(বিএস-২৫০০১) অন্যান্য দাগের মোট ২১৪৫.০২ একর সরকারী জমিকে বন আইন,১৯২৭-এর ২৯ ধারা বিধান সাপেক্ষে ১৯৩৫ সালে রক্ষিত বন হিসাবে ঘোষণা করা হয়।পরবর্তীতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে ঝিলংজা মৌজার সকল বন ভুমিকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসাবে ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখিত দাগের ৫ একর রক্ষিত বন ভুমি ভুমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক ভেটেনারী ও এনিম্যাল সাইয়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরারবর দীর্ঘমেয়াদী বন্ধেবস্ত দেয়া হয়। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থাপনা নির্মাণের উদ্দেশ্যে সীমানা পিলার স্থাপনের কাজ শুরু করেছে এবং পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণ করছে।উল্লেখিত স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনা নির্মাণ করা হলে গাছ ও পাহাড় কাটার প্রয়োজন হবে। ফলশ্রুতিতে উল্লেখিত এলাকার প্রাকৃতিক ও সৃজিত বনের প্রচুর গাছ ধ্বংস হবে,হুমকির মুখে পড়বে সেখানকার জীববৈচিত্র্য। অথচ মি মন্ত্রণালয় কর্তৃক ভুম/শা-৮/খাজব/৪৬/৯২৭(৬৪) স্বারকবাহী ৪ নভেম্বর ১৯৯০ তারিখের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী চট্রগ্রামসহ দেশের সকল জেলায় পাহাড় ও পাহাড়ের ঢালুভুমি বন্ধোবস্ত দেওয়া যাবেনা। পাহাড় ও পাহাড়ের ঢালুভুমি বনায়নের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

একই সাথে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসাবে ঘোষিত উল্লেখিত এলাকায় প্রকৃতিক বন ও গাছপালা কর্তন বা আহরণ এবং ভুমির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট নষ্ট বা পরিবর্তন করতে পারে এমন সকল ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রক্ষিত বনে স্থাপনা নির্মাণ এবং রক্ষিত বন হিসাবে ঘোষিত বনকে অবমুক্ত করার কোন সুযোগ আইনে নেই। তাছাড়া আরএস খতিয়ান অনুযায়ী উল্লেখিত দাগটি পাহাড় হিসাবে চিন্নিত।জাতীয় অপরিহার্য স্বার্থ ব্যতিত পাহাড় কর্তান বা মোচন নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনা নির্মাণ কোনভাবেই জাতীয় অপরিহার্য স্বার্থ হিসাবে বিবেচিত নয়। এ ছাড়া আরএস খতিয়ানে পাহাড় শ্রেণী হিসাবে চিন্নিত এ দাগের ৫ একর জমি পতিত জমি হিসাবে দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নামে নামজারি করা হয় পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন রকম অনুমতি ছাড়াই। –


শেয়ার করুন