নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ে

বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের কঠিন চীবর দান উৎসব চলছে

1 (1)মো.আবুল বাশার নয়ন, নাইক্ষ্যংছড়ি:

কঠিন চীবর দান, বৌদ্ধ ধর্মের একটি ধর্মীয় আচার ও উৎসব। এতে মূলত বৌদ্ধ ভিক্ষুদেরকে ত্রি-চীবর নামে বিশেষ পোষাক দান করা হয়। ধর্মাবলম্বীরা পূণ্যের আশায় প্রতি বছর এভাবে চীবরসহ ভিক্ষুদের অন্যান্য আনুষঙ্গিক সামগ্রীও দান করে থাকেন। আর এ উৎসবকে ঘিরে পার্বত্য নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার পাহাড়ী জনপদের বৌদ্ধ ধর্মালম্বী উপজাতীয়রা মেতে উঠেছে। ওয়াগোয়াই পোয়ে উৎসবের প্রতিপ্রাদ্য হচ্ছে ‘উচ্ছলতায় প্রানে প্রানে মিলিয়ে দাও’।

নাইক্ষ্যংছড়ির উপজাতীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ওয়াগোয়াই পোয়ে (প্রবারনা পুর্ণিমা) বুধবার ২৮ শে অক্টোবর শুরু হয়েছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এ উৎসব। আতশ বাজি, রংবেরংয়ের বর্ণিল ফানসের ঝলকানি আর রথ টানার মধ্যদিয়ে ওয়াগোয়াই পোয়ে উৎযাপনে মেতে উঠেছে সব বয়সী নারী পুরুষ।
এই উৎসব কে ঘিরে বৌদ্ধ উপসনালয় গুলোকে নানা রঙয়ে সাজানো হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ী পল্লী গুলো সেজেছে নতুন সাজে। পল্লীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পিটা তৈরী, ফানস বাতি উড়ানো, মঙ্গল প্রদীপ প্রজলন, মঙ্গলরত যাত্রাসহ তিন দিন ব্যাপী আয়োজন করেছে উৎসব উদযাপন পরিষদ।

ভরা পুর্নিমার এই দিনে উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ধাবনখালী মারমা পাড়া মন্দিরে বৌদ্ধ ভিক্ষু ধর্ম দশনা দিয়ে মত পার্থক্য ফিরে আসার ঘটনাকে স্বরণ করে বৌদ্ধ সমাজ বনার্ট্য আনুষ্টানিকতায় দিনটি উদযাপন করেন।

প্রবারনায় রাত ভর ধর্মীয় রীতি নীতি পালন করে ২৯ শে অক্টোবর জলে অবস্থানরত অধ্যাত্বিক সাধক উপ:গো আসাং এর উদ্যোশে প্রদীপ পুজা দেওয়ার জন্য রত বাসানো হবে। এর পর থেকে চলে দানোত্তম কঠিন চিবর দান উৎসব।

মারমা সম্প্রদায়ের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উত্তর ধাবনখালী বৌদ্ধ বিহারের সভাপতি ধুমছাই মার্মা জানান- তিন মাস বর্ষা বাস (উপোস) থাকার পর মারমা সম্প্রদায়ের লোকজন ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় ওয়াগোয়াই পোয়ে উৎসব পালন করে আসছে বহুকাল ধরে। তিনি আরো বলেন প্রচলিত আছে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বৌদ্ধ এই আষীনি পুর্নিমায় তার মাথার এক মুটো চুল কেটে আকাশে উড়িয়ে দিয়ে ছিলেন। তাই আষীনি পুর্নিমার এই তিথিতে আকাশে উড়ানো হয় ফানস বাতি।

ওয়াগোয়াই পোয়ে উৎসব উযাপন কমিটির তরুণ সভাপতি তপন মার্মা জানান, ওয়াগোয়াই পোয়ে হচ্ছে মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসব কে ঘিরে বুধবার থেকে তিন দিন ব্যাপী অনুষ্টানের আয়োজনের মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্টান,ফানস বাতি উড়ানো,মঙ্গল প্রদীপ প্রজলন,পিটা উৎসব,বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মাঝে খাদ্য মিষ্টান্ন বিতরন সহ নানান আয়োজন।


শেয়ার করুন