‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত শরিফের ‘প্রকৃত’ পরিচয় কী?

আরটিএনএন

ঢাকা: ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার পর পুলিশ গতকাল রবিবার বলেছিল, নিহত ব্যক্তির নাম শরিফ।

তবে নিহতের বাবা আবুল কালাম আজাদের দাবি, শরিফুলের আসল নাম মুকুল রানা। তিনি চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

আবুল কালাম আজাদের দাবি, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে তার সন্তান কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত কিনা বলতে পারেন না।

মুকুল রানারা তিন ভাইবোন। তার বাবা বলছেন, এ বছরের ফেব্রয়ারিতে মুকুল সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে যশোরের বসুন্দিয়া এলাকা থেকে র‌্যাব পরিচয়ে তাকে কয়েকজন নিয়ে যায়। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিল সে। গতকাল টিভিতে খবর দেখে তিনি ছেলের ব্যাপারে জানতে পারেন।

সোমবার সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহড় ইউনিয়নের বালুইগাছা গ্রামে নিজের বাড়িতে বসে নিহতের বাবা আবুল কালাম আজাদ আরো বলছিলেন, স্কুল-কলেজের সনদে তার ছেলের নাম মুকুল রানা। স্থানীয় লোকজনও তাকে মুকুল রানা নামে চেনেন। তার বয়স ২৩ বছর। তিনি সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ইংরেজি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। দুই বছর ধরে পড়াশোনা বাদ দিয়েছেন।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ লিয়াকত পারভেজও বলেছেন, কলেজের কাগজপত্রে তার নাম মো. মুকুল রানা নামে আছে।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, তার দুই স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী মারা গেছেন। সেই পক্ষে মাসুদ রানা নামের এক ছেলে আছে। তিনি চিংড়ি ঘেরে কাজ করেন।

তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় বউয়ের এক ছেলে, এক মেয়ে। ছেলে বড়, মুকুল রানা। মেয়ের নাম শারমীন সুলতানা রিমি। রিমি সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক শ্রেণির ইসলামের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

নিহত শরিফুলের বোন রিমির দাবি, তার ভাই মুকুল খুব মেধাবী ছিলেন। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় তিনি জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন।

মুকুলের কলেজের অধ্যক্ষ লিয়াকত পারভেজ জানিয়েছেন, সে ২০০৮ সালে এসএসসি পাশ করে, ২০১০ সালে এইচএসসি। এবং ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়। এখন তার চতুর্থ বর্ষে পড়ার কথা ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বর্যের পর সে আর কলেজে আসেনি|

আবুল কালাম আজাদের দাবি, মুকুল রানা চার মাস ধরে নিখোঁজ ছিলেন। মুকুল চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি যশোরের জগন্নাথপুরে বিয়ে করেছেন। তার স্ত্রীর নাম মৌহা আক্তার রিমি। বিয়ের পরে একবার সাতক্ষীরায় বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর আবার যশোরে শ্বশুরবাড়িতে যান। ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় যশোরের বসুন্দিয়া এলাকা থেকে র‌্যাব পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনার তিন-চার দিন পর যশোর কোতোয়ালি থানায় মুকুল রানার শালা আমির হোসেন একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এদিকে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিহত শরিফ ব্লগার অভিজিৎ ও নিলয় হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছিলো।

সাতজন ব্লগার ও প্রকাশক হত্যার সঙ্গেও জড়িত থাকার কথা যখন পুলিশ গণমাধ্যমে বলে- তখন কে এই ব্লগার হত্যার ‘মাস্টারমাইন্ড’ সেটা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয় জনমনে।

একই সাথে তার বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন মহলে আলোচনা উঠে।

পুলিশ বলছে, নিহত এই ব্যক্তি সমকামীদের পত্রিকা রূপবানের সম্পাদক জুলহায মান্নান হত্যাসহ আরো সাতজন ব্লগার ও প্রকাশক হত্যার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।

‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অনলাইন মুখপত্র ডিএমপি নিউজে গতকাল রবিবার এবিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।

সেখানে বলা হয়, শনিবার রাত পৌনে তিনটার দিকে গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) একটি দল মেরাদিয়া এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানোর সময় সন্দেহজনকভাবে তিন মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাওয়া করে। এ সময় হঠাৎ মোটরসাইকেল আরোহীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় দুজন দৌড়ে পালাতে সক্ষম হলেও গোলাগুলির একপর্যায়ে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য শরিফ গুলিবিদ্ধ হন।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসা কর্মকর্তা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও কয়েকটি গুলি উদ্ধার করেছে।

বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইলিয়াস মোর্শেদের উপস্থিতিতে সুরতহাল করা হয়। নিহত শরিফুলের শরীরে ছিদ্রের মতো দেখতে ১০টি জখম ছিল


শেয়ার করুন