প্রতারণা করে যাচ্ছে অনুমোদনবিহীন ট্যুরিজম ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো

ARIF

মো.জসীম উদ্দীন:
পর্যটন শহর কক্সবাজারে ট্যুরিজম ব্যবসা পর্যটকদের ভ্রমন করার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করলেও গুটি কয়েক অনুমোদনহীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য সেই ট্যুরিজম ব্যবসাই পর্যটকদের জন্য হয়ে উঠেছে ভোগান্তীর কারণ। হোটেল মোটেল জোন,কলাতলীর মোড় ও সমুদ্র সৈকতের পাড়জুড়ে প্রায় ৯০টিরও বেশি নামে বেনামে সড়কের দু-পাশে অনুমোদনহীন ট্যুরিজম ব্যবসা । প্রতিষ্ঠান গুলো ব্যবসা চলিয়ে  যাচ্ছে। তার মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের নেই কোন ট্রেড লাইসেন্স ও নেই ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (ট্যুয়াক) কর্তৃক ব্যবসায়ীক অনুমোদন। অনুমোদনহীন এসব প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিনিয়ত হয়রানি হচেছ দেশ বিদেশ থেকে বেড়াতে আশা ভ্রমন পিপাসু পর্যটকরা। প্রায় প্রতিটি হোটেলের নিচে বা সামনে, শুটকির দোকানে আচারের দোকানে. চেয়ার দোকানে ও সৈকতের পাড়ে ঝুপড়ি দোকানে চলছে এই সব ট্যুরিজম ব্যবসা যার কোন স্থায়ী অফিসও নেই। যখন-তখন বুকিং নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ারও ঘটনা ঘটে প্রতিনিয়তো অভিযোগ রয়েছে এদের বিরুদ্ধে অনেক। ঢাকার আশুলিয়া থেকে কক্সবাজারে ভ্রমন করতে  আসা পর্যটক খোকা চৌধুরীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, সমুদ্র সৈকত এলাকায় একটি আচারের দোকানের পাশে আমরা দাড়িয়ে সেন্টমার্টিনের যাবার কথা বলতেই, চাÑদোকানদার তাকে ডেকে এক প্রকার জোর করেই সেন্টমার্টিন ভ্রমনের জন্য জুর করে বুকিং করান যদিও আমি সেন্টমার্টিন যাওয়ার ইচ্ছা পোষন করেছিলাম এবং আমি কোন এক অফিস থেকে বুকিং দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে ব্যক্তি আমাকে কম খরছে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ভ্রমনের টিকিট গুলো আমার হাতে ধরিয়ে দেন। বিশ্বাস করে ছিলাম পর্যটন এলাকা বলে ।এর পরদিন সেই দোকানে খোজঁ নিয়ে জানতে পারলাম ওই ব্যক্তি দোকানের কেউ না আর তার মোবাইল নাম্বারও বন্ধ পাই। এভাবে প্রতিনিয়ত পর্যটকদের হয়রানি ও তাদের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে অনুমোদনবিহীন ট্যুরিজম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো জানালেন ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (ট্যুয়াক) এর পর্যটন বিষয়ক সম্পাদক বেলাল আবেদীন ভুট্রোর সাথে কথা বলে জানাযায়, পুরো শহওে রং বি রংগের  বাহারী কালারিং পোষ্টার করে মৌসুম ভিক্তিক ব্যবসা করে তারা কোথাও উধাও হয়ে যায়। ট্যুয়াক সম্পাদকের নিজেরও অভিযোগ করে বলেন, বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির অনুমোতি ছাড়া হোটেল মোটেল জোন ও সৈকত এলাকায় জুঠে ট্যুরিজম ব্যবসা করা বা অফিস করা অবৈধ কিন্তু অনেকাই তা না মেনেই সমুদ্র সৈকত এলাকায় অফিস খুলে বসে আছে যারা ট্যুয়াকেরও সাধারণ সদস্য ও নাই। আর তারাই পর্যকদের এমন প্রতারণা করছে। ট্যুয়াকের সদস্য এমন কিছু ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সমুদ্র বিলাস ট্যুরিজম, সৈকত টুরি‌্যজম, বে-ভিউ টুরি‌্যজম, স্বপ্ন ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস, ড্রীম আইল্যান্ড ট্যুরিজম, বিজয় বাংলাদেশ ট্যুরিজম, ব্লুওয়েভ ট্যুরিজম, সী-বীচ ট্যুরিজমসহ বেশ কিছু ট্যুরিজম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে যারা ট্যুয়াকের সদস্য না এবং তাদের নেই কোন ট্রেড লাইসেন্স। ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (ট্যুয়াক) এর সভাপতি রেজাউল করিম রেজা জানান, কক্সবাজারে প্রায় দেড় শতাধিকের অধিক ট্যুরিজম ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করে যাচ্ছে যার মধ্যে ৮২ টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স রয়েছে ও তারা ট্যুয়াকের সদস্য। তিনি বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা পর্যটকদের কক্সবাজার ভ্রমনের সুবিধার্থে আমরা ট্যুরিজম ব্যবসা করছি কিন্তু গুটি কয়েক  অসাধু লোভি ব্যবসায়ীদের জন্য আজ আমাদের সেবা প্রদানকারী ট্যুরিজম ব্যবসা তার নিজেস্ব জৌলুস হারাতে বসেছে। তিনি আরো বলেন, অবৈধ এ মৌসুম ওয়ারি ভুইফোঁড় টুরি‌্যজম ব্যবসায়ীদের কারনে আমাদের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। এসব অনুমোদনহীন অবৈধ প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদে তিনি বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।


শেয়ার করুন