নানামুখী চাপ ও আতঙ্কে চুপসে গেছে বিএনপি

images (1)সিটিএন ডেস্ক:

একতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকার কারণে প্রতিপক্ষ দলের আন্দোলনে সরকার ব্যতিব্যস্ত থাকবেথ এমনটি ভেবেছিল জনগণ। কিন্তু উল্টো নানামুখী চাপে আন্দোলন তো দূরের কথা নিজেরাই কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারছে না ক্ষমতাসীনদের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি। দুই দফা ব্যর্থ হওয়ার পর আন্দোলন করে বিশেষ সুবিধা হবে না, তা ধরে নিয়ে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মী খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে ইতিবাচক কোনো খবর না আসার পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবারো কারাগারে যেতে বাধ্য হওয়ায় বিএনপি নেতাকর্মী হতাশা ও আতঙ্কে চুপসে গেছেন।
জানা গেছে, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আর লাভ হবে না ভেবে বিএনপি নেতাকর্মীদের আশার জায়গা ছিল খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর। তারা ভেবেছিলেন, লন্ডনে অবস্থানকালে বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করে সরকারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টির প্রয়াস পাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এ ছাড়া লন্ডনে বাঙালি কমিউনিটিতে সমাবেশ করে সরকারের দোষ-ত্রুটি প্রবাসী বাঙালি ও বিদেশি গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন খালেদা জিয়া। বিদেশে জনমত তৈরির কাজটিও সেরে ফেলবেন তিনি। কিন্তু এখন তাদের কাছে তথ্য হচ্ছে, সরকার,
বিরোধী দল ও সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বন্ধুভাবাপন্ন কোনো রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগই পাননি। তাছাড়া ব্রিটিশ সরকার অনুমতি না দেয়ায় ২৭ অক্টোবর পূর্বনির্ধারিত সমাবেশও করতে পারেননি বিএনপির চেয়ারপারসন। যদিও ১ নভেম্বর সেন্ট্রাল লন্ডনে আয়োজিত এক নাগরিক সভায় বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পান খালেদা জিয়া। তবে সেটি ছিল স্থানীয় এক হোটেলে আয়োজিত ঘরোয়া পরিবেশে।
এদিকে অজ্ঞাত কারণে কয়েক দফা বিমান টিকিট বুকিং দিয়ে তা বাতিল করেছেন খালেদা জিয়া। সম্প্রতি নয়া পল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৭ নভেম্বরের মধ্যে খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার খবর জানালেও এখন সে লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। অবশ্য ৩১ অক্টোবর খালেদা জিয়ার প্রেস সেক্রেটারি মারুফ কামাল খান সোহেল ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছিলেন, ১০ নভেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরবেন বিএনপি চেয়ারপারসন। লন্ডনে খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা নিয়ে দায়িত্বশীল নেতাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যেও হতাশ বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মী। তবে লন্ডনের বিএনপির একপি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ৭ নভেম্বর রওনা হয়ে ৮ নভেম্বর বাংলাদেশে আসার প্রস্তুতি ছিল বিএনপিপ্রধানের। টিকিটও এভাবেই বুকিং দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ৯ নভেম্বর টিকিট বুকিং দেয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পরিবর্তন করা হলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না বলেও সূত্রটি মত দেয়।
বিএনপির এক সিনিয়র নেতার মতে, আন্দোলন বন্ধ করে চুপচাপ থাকার পরেও চাপ কমেনি বিএনপিতে। সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার পাশাপাশি নানামুখী চাপের কারণে দলের নেতাকর্মী হতাশ। দুই দফা আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন করে আন্দোলন করারও শক্তি নেই বললেই চলে। এমন একটি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বিএনপিপ্রধানের লন্ডন সফর দলের নেতাকর্মীদের খানিকটা চাঙ্গা করেছিল। কিন্তু সেখান থেকে ইতিবাচক কোনো সংবাদ না আসায় কর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। আরো যেসব কারণে নেতাকর্মী হতাশা থেকে চুপসে গেছে সেগুলো হচ্ছে, এক. দুই বিদেশি হত্যাকা-ের সঙ্গে ঢাকা মহানগরে দুই প্রভাবশালী নেতার ফেঁসে যাওয়ার শঙ্কা। দুই. শমসের মবিন চৌধুরীর রাজনীতি থেকে অবসর এবং আরো নেতাদের একই পথ অনুসরণ করার আলোচনা। তিন. দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুলের আবারো কারাগারে যাওয়া এবং সিনিয়র অনেক নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি।
বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী জানান, বিদেশি হত্যাকা-সহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সরকার প্রচ- চাপ থেকে নতুন নির্বাচন দেয়াসহ ইতিবাচক কিছু ভাববে এমনটি আশা করেছিলেন তারা। কিন্তু সরকার অপ্রীতিকর ঘটনার দায় বিএনপির ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে নিজেরা চাপমুক্ত হওয়ার নতুন কৌশলও কি সফল হয় কিনা তা নিয়ে চিন্তিত নেতাকর্মী। তাদের মতে, বিএনপি দমনে ক্ষমতাসীনদের প্রতিটি কৌশল যেভাবে সফল হচ্ছে একইভাবে বিএনপিও যদি তাদের উৎখাতে কার্যকরী কৌশল না নিতে পারে তাহলে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করা কঠিন হবে।

নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশার বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, পুরো দেশটাই তো চুপসে গেছে। সরকারের নানামুখী নির্যাতন, নিপীড়ন ও হয়রানি ক্রমাগত চলতে থাকায় আমাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার কিছুটা হয়েছে। তবে সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে ওরাই আবার ঘুরে দাঁড়াবে ও উজ্জীবিত হবে।
যাযাদি


শেয়ার করুন