নবীজির নাম শুনে দরুদ পাঠ কি জরুরি?

darud-400x266 (1)দুরুদ অর্থ শুভকামনা বা কল্যাণ প্রার্থনা। আরবি সলাত শব্দের সমার্থক দরুদ। সলাতের মূল চারটি অর্থ। যেমন, শুভকামনা, গুণকীর্তন, দয়া-করুণা ও ক্ষমা প্রার্থনা।
দুরুদ বলতে ‘সলাত আলান নাবি’ অর্থাৎ নবী করিম সা. এর প্রতি দুরূদ পাঠ বা তাঁর জন্য শুভকামনা, গুণকীর্তন, তাঁর প্রতি আল্লাহর দয়া-করুণা ও প্রার্থনা বোঝায়। দুরুদ বিষয়টি অতীব মর্যাদা ও সম্মানের। তাই শুধু দুরুদ শব্দটি ব্যবহার না করে এর সঙ্গে ‘শরীফ’ তথা সম্মানিত বিশেষণ যুক্ত করে বলা হয় ‘দুরুদ শরিফ’। আরবিতে ‘সল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদ’ বা ‘সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ই হলো দরুদ শরীফ।
প্রতিটি মুসলিমের জন্য জীবনে একবার হলেও দুরুদ শরীফ পাঠ করা ফরজ। আর প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদের নাম শুনলে দুরুদ শরীফ পাঠ করা ওয়াজিব। একই মজলিসে বারবার নাম শুনে দুরুদ শরীফ পাঠ করা সুন্নত।
আমরা নবী করিম সা. এর নামের পরিবর্তে ব্যবহৃত বিকল্প ক্ষেত্রেও দুরুদ শরিফ পড়ে থাকি; এটি মুস্তাহাব। দুরুদ শরীফ ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ এবং ইবাদত কবুলের সহায়ক ও দোয়া কবুলের শর্ত।
নবী করিম সা. বলেন, ‘যে আমার প্রতি একবার দুরুদ পাঠ করল, আল্লাহ তার প্রতি ১০টি রহমত নাজিল করেন, তাকে ১০টি নেকি দান করেন, তার ১০টি গোনাহ মাফ করেন।’ (বোখারি ও মুসলিম)
কোরআনুল কারিমে রয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা নবীজির ওপর রহমত বর্ষণ করেন, ফেরেশতারা তাঁর প্রতি রহমত কামনা করেন; হে বিশ্বাসী মোমিনরা তোমরা তাঁর প্রতি দুরূদ পাঠ করো।’ সূরা আহজাব : ৫৬
লেখার ক্ষেত্রে নবীজির নামের পর সা. ব্রেকেট দিয়ে লেখা উচিত নয়। কারণ ব্রেকেট দ্বারা উদ্দেশ্য হলো লেখাটি পড়া জরুরি নয়। অথচ নবীজির নামের পর সা. বা দরুদ পড়া ওয়াজিব।


শেয়ার করুন