দারুণ নৈপুণ্যে সহজ জয় বাংলাদেশের

অবিস্মরণীয় অভিষেক তানজিদ তামিমের। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির শুরু লগ্নেই জানান দিলেন নিজের। দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে প্রথম টি-টোয়েন্টিতেই পেয়েছেন ফিফটির দেখা। তাতে জিম্বাবুয়ের দেয়া সহজ লক্ষ্য সহজেই পাড়ি দিয়েছে টিদারুণ নৈপুণ্যে সহজ জয় বাংলাদেশেরম টাইগার্স। তুলে নিয়েছে ৮ উইকেটের জয়।

শুক্রবার চট্টগ্রামে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের মোকাবেলা করে বাংলাদেশ। যেখানে টসে হেরে আগে ব্যাট করে ইনিংসের শেষ বলে অল আউট হবার আগে ১২৪ রান করে জিম্বাবুয়ে। বৃষ্টি বাধায় খানিকটা দেরি হলেও ২৮ বল হাতে রেখেই পৌঁছেছে লক্ষ্যে।

তামিম ইকবাল নেই, তবে ‘তামিম’ নামের সুবিচার করছেন তানজিদ তামিম। তামিমের মতোই প্রতিপক্ষের উপর চড়াও হচ্ছন, চালাচ্ছেন ঠান্ডা মাথায় খুনে আগ্রাসন। অভিষেকের চাপও দমাতে পারেনি তাকে। একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঠে থেকেই নিশ্চিত করেছেন জয়।

যদিও শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশ। প্রথম ৪ ওভারে ছিল মাত্র ১২ রান, ফেরেন লিটন দাস। প্রিয় প্রতিপক্ষকে পেয়েও দুঃসময় থেকে বের হয়ে আসতে পারেননি লিটন। দ্বিতীয় ওভারেই ফিরেছেন স্ট্যাম্প ভেঙে। মুজরাবানির শিকার হয়েছেন ৩ বলে ১ রানে।

তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে জয়ের পথ ধরে ফেলে বাংলাদেশ। তানজিদ তামিম আর নাজমুল হোসেন শান্ত মিলে ৪৮ বলে যোগ করেন ৫২ রান। হাত খুলে মারতে গিয়ে শান্ত ২৪ বলে ২১ রানে আউট হন। তবে হাল ছাড়েননি তামিম। ৩৬ বলে তুলে নেন ‘মেইডেন’ ফিফটি।

চারে নেমে দারুণ ফিনিশিং টানেন তাওহীদ হৃদয়। তামিম-তাওহীদ জুটিতে ৩৬ বলে আসে ৬৯* রান। নিশ্চিত হয় জয়ও। তাওহীদ ১৮ বলে ৩৩* ও তামিম অপরাজিত থাকেন ৪৭ বলে ৬৭ রানে।

অবশ্য জয়ের ভিতটা গড়ে দেন বোলাররাই। টাইগার বোলারদের দাপটে এদিন শুরু থেকেই ধুঁকেছে জিম্বাবুয়ে। ৮ ওভারে মাত্র ৪২ রান তুলতেই হারিয়ে ফেলে ৭ উইকেট। সম্ভাবনা দেখা দেয় আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাদের সর্বনিম্ন সংগ্রহের।

যার শুরুটা করেছিলেন শেখ মেহেদী। খেলা শুরু হতেই তার হাত ধরে উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই ক্রেইগ আরভিনের উইকেট ভাঙেন তিনি। আরভিনকে ফেরান ডাক উপহার দিয়ে।

পরের আঘাত আসে সাইফুদ্দীনের হাত ধরে। বফেরার অপেক্ষাটা দেড় বছরের হলেও, উইকেট তুলে নিতে দেরি করেননি। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়েই পেয়ে গেছেন উইকেটের দেখা। ১৪ বলে ১৭ করা জয়লর্ড গাম্বেকে ফিরিয়ে করলেন চিরচেনা সেই উদযাপন।

এরপর পাওয়ার প্লের শেষ ওভারের প্রথম বলে রান আউট হয়ে ফেরেন ব্রায়ান বেনেট। ১৫ বলে ১৬ রান করেন তিনি। তবে বড় ধাক্কাটা আসে পরের বলে সিকান্দার রাজা গোল্ডেন ডাক মেরে ফিরলে। ৩৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে শেষ হয় পাওয়ার প্লে।

তবে বিপর্যয় থামেনি তখনো। পরের ওভারে এসে তাসকিন প্রথম দুই বল থেকেই তুলে নেন জোড়া উইকেট। জোড়া গোল্ডেন ডাক মেরে ফেরেন শন উইলিয়ামস আর রায়ান বার্ল। জেগে উঠে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও। যদিও তা হয়নি।

অষ্টম ওভারে এসে নিজের দ্বিতীয় উইকেটটা তুলে নেন সাইফুদ্দীন। তাওহীদ হৃদয়ের অসাধারণ ক্যাচ হয়ে ফেরেন লুক জঙ্গি। ৪১ রানে ৭ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।

তবে ৬৫ বলে ৭৫ রানের জুটি গড়ে সেই লজ্জা এড়িয়েছে অষ্টম উইকেট জুটি। ওয়েলিংটন মাসাকাদজা আর ক্লিভে মাদান্দের ব্যাটে পাড়ি দিয়েছে শতাধিক রানের গণ্ডি। পরের ১০ ওভারে আর কোনো উইকেটের দেখা পায়নি বাংলাদেশ।

সুযোগ এসেছিল বটে, রিশাদের বলে ক্যাচ উঠিয়েছিলেন মাদান্দে, তবে তা লুফে নিতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। জীবন পেয়ে তা বেশ ভালোই কাজে লাগিয়েছেন এই জিম্বাবুইয়ান। ১৯তম ওভারে তাসকিনের শিকার হবার আগে করেন ৩৯ বলে ৪৩ রান।

ইনিংসের শেষ বলে রান আউট হয়ে ফেরেন মাসাকাদজা, আউট হন ৩৮ বলে ৩৪ রানে। মাঝে ব্লেসিং মুজরাবানির উইকেট তুলে নেন সাইফুদ্দীন।

বল হাতে ১৫ রানে ৩ উইকেট নেন সাইফুদ্দীন, ১৪ রানে ৩ উইকেট নেন তাসকিন। ম্যাচ সেরাও হন এই পেসার।


শেয়ার করুন