দর্জি বাড়িতে নির্ঘুম ব্যস্ততা

Pic 27-06-16নুুরুল আমিন হেলালী: দিন যতই ফুরিয়ে আসছে দর্জি বাড়ির ব্যস্ততা ততই বেড়ে চলছে। ঈদের আগে ক্রেতাদের কাপড় ডেলিভারি দেয়ার জন্যে দর্জিদের এখন দম ফেলার ফুসরত নেই। মুসলমানদের বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দর্জি বাড়িতে এখন অন্যরকম ব্যস্ততা। ফ্যাশন প্রিয়দের পোশাক ঈদের আগেই  দিতে হবে সবাইকে। অন্যদিকে ক্রেতাদের ভিড়ও বেড়েই চলেছে। ফ্যশন সচেতন তরুণ-তরুণীরা আগে থেকেই পছন্দের কাপড় কিনে মনের মতো পোশাক সেলাই করতে সবাই এসব দর্জি বাড়িতে। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে দর্জিদের ব্যস্ততা ততই বেড়েই চলেছে। এমনিতেই বন্ধ হয়ে গেছে শহরের বিভিন্ন দর্জি বাড়ির নতুন করে সেলাইয়ের দরজা। সে জন্যই শহরের আনাচে-কানাচে পাড়া মহল্লায় তো বটেই প্রতিটি হাট-বাজারের সব বিপনি কেন্দ্রের দর্জি দোকানগুলোতে এখন কাপড় তৈরীর ধুম পড়েছে। শহরের বেশ কয়েকটি দর্জি দোকান ঘুরে জানা যায়, রোজা ১০ কিংবা ১৫ টার পর অনেকেই অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ঈদ হলেও গরমের দাপট কম নয়। সে কারণে সুতি কাপড়ের পোশাক তৈরীর অর্ডার বেশী হচ্ছে বলে জানালেন কয়েক দর্জির দোকানদার। কলেজ ছাত্রী নাহিদা আক্তার জানায়, পছন্দের মাপের কাপড় পরার জন্যই রেডিমেড না কিনে আগে ভাগেই ঈদগাঁও বাজারের সৌখিন টেইলার্সে কাপড় সেলাই করতে দিয়েছিল। এখন সে সেলাই করা জামা নিতে এসেছে। এছাড়া পর্যটন শহরের সুপার মার্কেট, এ ছালাম মার্কেট, ফিরোজা শপিং, নিউ মার্কেট, সী-কুইন মার্কেটসহ সব ছোট-বড় দর্জি দোকানগুলোতে কাপড় সেলাইয়ের ধুম পড়েছে। বিভিন্ন বিপনি বিতান ঘুরে দেখা যায়, চাহিদার কারণে ক্রেতাদের নজর কাড়ার জন্যে নানা রঙে নানা ঢঙে সাজানো হয়েছে দোকানগুলো। সৌখিন টেইলার্সের সত্বাধিকারী নুরুল আবছার জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর রোজার শুরু থেকেই কাপড় সেলাইয়ের অর্ডার আশানুরুপ হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা পছন্দের জামা সেলাই করতে আগেই অর্ডার দিয়ে দিয়েছে। শহরের স্মার্ট টেইলার্সের দর্জি কারিগর আবু শামা জানায়, মেয়েদের পোশাকের ছাঁটে এবারও খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। লম্বা ঝুলের কামিজ এবারও চলছে। সালোয়ারের ক্ষেত্রে পালাজ্জো, পাটি সেলোয়ারই বেশী চলছে বলে তিনি জানান। অন্যদিকে ঈদ উপলক্ষে এখনও সেলাইয়ের মজুরী তেমন বাড়ানো হয়নি বলে দাবি দর্জিদের। শহরের সী ফ্যাশন টেইলার্সের কার্টিং মাষ্টার শফিক জানায়, আমরা নতুন করে কোন অর্ডার নিচ্ছি না, শুধুমাত্র পাওয়া অর্ডারগুলো যথাসময়ে ডেলিভারি দেয়ার চেষ্টা করছি। শবে বরাতের পর থেকেই ঈদের অর্ডার নেওয়া শুরু হয়েছে। এখন অর্ডার বন্ধ করে দিয়েছেন বলে ঈঙ্গিত করেন অনেক দর্জির মালিক।


শেয়ার করুন