উখিয়ার

থাইংখালী-তেলখোলা ৩ কিঃমিঃ সড়কে ৬০ টাকা ভাড়া

SAMSUNG CAMERA PICTURES

শফিক আজাদ, স্টাফ রিপোর্টার :    

উখিয়া উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন একটি জনপদ তেলখোলা থেকে থাইংখালী প্রধান সড়ক পর্যন্ত ৩ কিঃমিঃ সড়কে যাত্রীদের নিকট থেকে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৬০ টাকা করে। হতদরিদ্র অধ্যুষিত এ জনপদে বসবাসরত উপজাতি সম্প্রদায়ের অভিযোগ, সংখ্যালঘু হিসাবে দুর্বলতার সুযোগে স্থানীয় সিএনজি ও টমটম চালকেরা যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ফায়দা লুটছে। এ ঘটনা নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে চাপা উত্তেজনা। তেলখোলা গ্রামের সম্ভাব্য ইউ,পি, সদস্য প্রার্থী প্রবাসী মোহাম্মদ শাহজাহান এ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্থানীয়ভাবে বসবাসরত উপজাতি সম্প্রদায়ের পরিবারে নিত্যপণ্যের চাহিদা পূরণের জন্য তাদের উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী থাইংখালী বাজারে বিক্রিত করতে গেলে আসা-যাওয়া বাবদ ৩ কিলোমিটার সড়কে ১২০ টাকা ভাড়া আদায় করতে হচ্ছে। এমতাবস্থায়, হত দরিদ্র উপজাতি সম্প্রদায় উক্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে চালকদের সাথে বাড়াবাড়ি করেও কোন কাজ হচ্ছে না। জীবন জীবিকার তাগিদে তাদেরকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তেলখোলা গ্রামের বিধবা বয়োবৃদ্ধ মহিলা নমিতা চাকমা জানান, থাইংখালী বাজারে এক ছড়া কলা বিক্রি করে ২শ টাকা পেয়েছি। আসা-যাওয়া বাবদ ১২০ টাকা গাড়িভাড়া দিতে বাধ্য হওয়ায় ছেলেমেয়েদের অন্নসংস্থানের কোন কিছু ক্রয় করা সম্ভব হয়নি। এভাবে শত শত উপজাতি পরিবার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ব্যাপারে অভিযোগ করতে দেখা গেছে। তেলখোলা গ্রামের বাসিন্দা থিংকু চাকমা জানান, ভাড়ার টাকা যোগান দিতে না পারায় এখানকার ছাত্র-ছাত্রী ৭ কিঃমিঃ পায়ে হেঁটে থাইংখালী স্কুলে আসা-যাওয়া করছে। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অনেকেই প্রবল ইচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছে। স্থানীয় ইউ,পি, সদস্য মানিক চাকমা জানান, ২০ টাকার স্থলে টম টম ও সিএনজি চালকেরা যাত্রীদের জিম্মি করে জনপ্রতি ৬০ টাকা ভাড়া আদায় করছে। যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, থাইংখালী থেকে তেলখোলা পর্যন্ত ৩ কিঃমিঃ সড়কের মধ্যে এক কিলোমিটার রাস্তার ব্রিক সলিং করা হয়েছে। বাকী ২ কিঃমিঃ রাস্তা খারাপ হলেও ৬০ টাকা ভাড়া আদায় করার বিষয়টি অযৌক্তিক। তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে চালক ও যাত্রীদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সিএনজি চালকেরা বলছেন, অকটেন দিয়ে চালিত সিএনজিগুলো কাঁচা রাস্তায় চলাচল করলে, অতিরিক্ত পরিমাণ তেলের অপচয় হয়। তাই ভাড়া একটু বাড়িয়ে নিতে হচ্ছে। তবে ব্যাটারি চালিত টম টম চালকেরা কি কারণে জনপ্রতি ৬০ টাকা ভাড়া আদায় করছে তা নিয়ে সচেতন মহলের মাঝে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

 


শেয়ার করুন