ফসলী জমি, জনপদ, বসত ভিটা লন্ডভন্ড

থাইংখালী খালের ১৪ পয়েন্টে বালি লুটপাট

SAMSUNG CAMERA PICTURESশফিক আজাদ, স্টাফ রিপোর্টার:

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী খালে বালি লুটপাটের মহোৎসব চলছে। নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত তেলখোলা, বটতলী বাজার থেকে থাইংখালী পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার খালের ১৪টি পয়েন্টে ডিজেল চালিত মেশিনের সাহায্যে নির্বিচারে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের ফলে খাল সংলগ্ন প্রায় শতাধিক একরের মতো তিন ফসলী জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চলাচলের রাস্তা লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার কারণে তেলখোলা, মোছারখোলা সহ ৮ গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ সহ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গ্রামবাসীর অভিযোগের সূত্রে সরেজমিন থাইংখালী খাল ঘুরে অবৈধ বালি উত্তোলনে ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালী বালি লুটপাটকারী এজাহার মিয়া, জয়নাল, জাফর আলম জুনু ও তোফাইলের নেতৃত্বাধীন ১২ জনের একদল সিন্ডিকেট ডিজেল চালিত মেশিনের সাহায্যে থাইংখালী খাল থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন ও পাচার করে আসছে দীর্ঘ দিন থেকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক লোকজন জানান, থাইংখালী থেকে তেলখোলা বটতলী পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার খালের ১৪টি পয়েন্টে দৈনিক হাজারেরও অধিক পরিমাণ ডাম্পার ভর্তি বালি উত্তোলন করে গাড়ি প্রতি ১৫শত টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। অবৈধ বালি বিক্রির এ টাকা স্থানীয় বনবিট কর্মকর্তা, কতিপয় জনপ্রতিনিধি, গুটিকয়েক রাজনৈতিক নেতা সহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের ভাগ বাটোয়ারা হওয়ার কারণে কেউ প্রতিবাদ করছে না। এ খাতে সরকার প্রতি বছর কোটি টাকার রাজস্ব হতে বঞ্চিত হচ্ছে বলে গ্রামবাসী জানিয়েছেন।

তেলখোলা গ্রামের ব্যবসায়ী তোফাইল আহমদ সওদাগর ও প্রবাসী মোহাম্মদ শাহজাহান সহ বেশ কিছু উপজাতি লোকজন অভিযোগ করে জানান, থাইংখালী খাল থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের ফলে খাল সংলগ্ন প্রায় শতাধিক একরের মতো ফসলী জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। থাইংখালী-তেলখোলা যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি বিলীন হয়ে খালে পরিণত হওয়ার কারণে গত ৬ মাস ধরে এ সড়কে যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। এমতাবস্থায়, স্থানীয় জনসাধারণ স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাগামী ছাত্র-ছাত্রীদের অভাবনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে। থাইংখালী খাল থেকে অবৈধ বালি উত্তোলনের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে স্থানীয় বনবিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, বালি উত্তোলনকারীরা স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ার কারণে আইনগত কোন পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে মাঝে মধ্যে বালি উত্তোলনকারীদের নোটিশ প্রদান করে সতর্ক করে দেওয়া হয় বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, স্থানীয় বনবিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করছে। থাইংখালী খাল থেকে বালি উত্তোলনে কোন বৈধতা আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে উখিয়া ভূমি অফিসের তহসিলদার ফিরুজ আহমদ জানান, থাইংখালী খাল ইজারা দেওয়া হয়নি। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক সর্দার শরিফুল ইসলাম জানান, রেজু খালের বালি উত্তোলনে জড়িত থাকার দায়ে ইতিপূর্বে ১৭ জনকে আসামী করে উখিয়া থানায় পরিবেশ আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। তিনি বলেন, থাইংখালী খাল থেকে বালি উত্তোলনের ব্যাপারে বেশ কয়েকটি অভিযোগ হাতে রয়েছে। সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


শেয়ার করুন