ঢাকার নদীগুলো এক বছরের মধ্যে দূষণমুক্ত না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা

ডেস্ক নিউজঃ

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেছেন, ‘আগামীকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। তিনি সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন। তার সেই সোনার বাংলার নদীগুলো আজ বেহাল। আগামী এক বছরের মধ্যে অর্থাৎ জাতির জনকের আগামী জন্মদিনের আগের দিনের মধ্যে ঢাকার আশেপাশের নদীগুলোর পানির মান (রিভার স্ট্যান্ডার্ড) ঠিক করতে হবে।’

ওয়াসা, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি এই আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ জন্য কমিশনের পক্ষ থেকে যা যা করা প্রয়োজন তার সবই করা হবে। এক বছরের মধ্যে যদি নদীগুলোর অবস্থার কোনও পরিবর্তন না ঘটে তাহলে কমিশন দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে।’

বুধবার (১৬ মার্চ) জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মঞ্জুর এ. চৌধুরীর উদ্যোগে কল্যাণপুর খাল পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এ সময় নদী দখল ও দূষণের জায়গাগুলো ঘুরে দেখেন তিনি।

নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের দেশের বেশিরভাগ নগর নদীর তীরে গড়ে উঠেছে। আর ব্যবসা বাণিজ্য গড়ে উঠেছে সেই নদীকে ঘিরেই। ঢাকা শহরের আশেপাশের নদীগুলোর মধ্যে বুড়িগঙ্গা, বালু, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা নদী তো আছেই, পাশাপাশি আছে নদীর সঙ্গে যুক্ত প্রচুর খাল। আজ সেসব নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে গেছে। কল্যাণপুরের এই খালকে আর খাল বলা যাচ্ছে না, এটাকে এখন মনে হয় বিষাক্ত জলস্রোত।’

তিনি বলেন, ‘আগামী এক বছরের মধ্যে খালগুলো হয়তো সম্ভব নয়, কিন্তু নদীগুলো দূষণমুক্ত করা সম্ভব। আমরা জানি, কারা এসব দূষণের জন্য দায়ী। তাই আর ধোয়াশার মধ্যে না থেকে কাজে নামতে হবে। কমিশন দখলদার, দূষণকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারে, কিন্তু মূল কাজটা করতে হবে ওয়াসা, সিটি করপোরেশন এবং বিআইডব্লিউএ’কে।

মনজুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আদালত নদীকে জীবন্তস্বত্বা ঘোষণা করে তাকে বাঁচানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা কমিশনের পক্ষ থেকে সেই নির্দেশ বাস্তবায়নে কাজ করে যাবো।’

কল্যাণপুরের এই খালের বিষয়ে কমিশনের উপপ্রধান (মরফোলোজিস্ট) এম এম মহিউদ্দিন কবির মাহিন জানান, এই খালে ওয়াসার সুয়ারেজের লাইনগুলো সরাসরি এসে পড়ছে। এরপর এই হিউম্যান ওয়েস্ট খাল হয়ে সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ছে। এই ওয়েস্ট যদি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট করে পানি শুদ্ধ করে খালে ফেলা হতো, তাহলে এই পরিমাণ দূষণ হতো না। শুধু ওয়াসা নয়, সব মিলিয়ে প্রায় ৭৭০টি পয়েন্ট আমরা পেয়েছি, যেখান থেকে এই খালে দূষিত পদার্থ পড়ছে।’

এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের একজন প্রতিনিধি জানান, শুধু কথার কথা নয়, এখন দায়িত্ব নিতে হবে। একজন আরেকজনের ওপর দোষ চাপিয়ে লাভ নেই; বরং নির্দিষ্ট একটা সংস্থার নেতৃত্বে কাজটি সমন্বিতভাবে করতে হবে।

নদীর এই দূষণ নিয়ে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ হাবিবুর রহমান খান বলেন, ‘সবাই স্বীকার করছে সমস্যা আছে। কিন্তু সমাধান কে করবে তার ঠিক নেই। কমিশন শুধু সুপারিশ করতে পারে। বাস্তবায়ন করবে কে? নদীর পাড়ের দায়িত্বে এক সংস্থা, নদীর পানি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব আরেক সংস্থার। এত ভাগ থাকায় কাজটি দূরহ হয়ে পড়ছে। নদীকে বাঁচাতে হলে একটি নিদিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে সমন্বিত পরিকল্পনা করে এগোতে হবে।’

এ সময় বাংলা ট্রিবিউনের হেড অব নিউজ মাসুদ কামাল, এটিএন নিউজের বার্তা প্রধান মুন্নী সাহাসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।


শেয়ার করুন