ডিসেম্বরে পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা

election_commition_75614-400x240সিটিএন ডেস্ক:
ডিসেম্বরে পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কমিশন আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিলেও এখনও অনেকগুলো ‘যদি’তে আটকে গেছে পৌর নির্বাচন। দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন সংক্রান্ত আইন সংশোধন মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের ১৫ দিন পার হলেও এখনো অধ্যাদেশ জারি হয়নি। স্বল্প সময়ের মধ্যে ব্যালট পেপার ছাপানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাছাড়া এখনো নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। দলীয় প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রে আবার গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচন পেছানোর ক্ষমতা চাচ্ছে কমিশন। এজন্য আইনে সংশোধন আনার প্রস্তাব দেবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।
আইন সংশোধনে বেশি দেরিসহ অন্যান্য কারণে পৌরসভা নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন একজন নির্বাচন কমিশনার। সে ক্ষেত্রে আগামী বছরের জানুয়ারিতে পৌরসভা নির্বাচন করার কথা জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, ‘আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে অধিকাংশ পৌরসভার মেয়াদ শেষ হবে। তাই আমাদের পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।’ এই হিসাবে জানুয়ারি মাসে নির্বাচন করার পরিকল্পনাও রয়েছে ইসির। এছাড়া নির্বাচন পেছানোর ক্ষমতা সংক্রান্ত আইন সংশোধনে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।
ইসি সচিবালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় ব্যানারে করার সিদ্ধান্ত হওয়ায় অনেকাংশেই জাতীয় নির্বাচনের আদলে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যে কারণে নির্বাচন পরিচালনা বিধি ও আচরণবিধি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনুকরণে তৈরি করতে হবে। সে ক্ষেত্রে দলীয় প্রার্থীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়ার কর্তৃপক্ষ কে হবে, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর ব্যয়ের সীমা কী হবে, চূড়ান্তভাবে মনোনীত কোনো প্রার্থী মারা গেলে সেখানে কিভাবে নির্বাচন হবে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের যোগ্যতা কিভাবে নির্ধারণ করা হবে, সরকারি সুবিধাভোগী ব্যক্তি ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কারা কারা নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে পারবেন ইত্যাদি বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে। আইনের কপি হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত এসব বিধিবিধান চূড়ান্ত করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তারা। রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তির কারণে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করে রাজনৈতিক দলের প্রতীকগুলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। ফলে এই প্রতীক স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যবহার করতে হলে আবারো আরপিও সংশোধন করতে হবে।
ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সংশোধিত আইন বা অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। সেক্ষেত্রে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আইনের পর আমাদের তো বিধি করতে হবে। আর বিধি করলেই শেষ হবে না। সেটা আবার ভেটিংয়ের জন্য দুই দফায় সরকারের কাছে যাবে। তারপর গেজেট হবে।
ইসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ৩২৪টি পৌরসভা ও প্রায় ৫ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এরমধ্যে মেয়াদ উত্তীর্ণ ও বিভিন্ন কারণে নির্বাচনের উপযোগী পৌরসভার সংখ্যা ২৪৫টি এবং ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪ হাজার ৫৫৩টি। এসব নির্বাচন আগামী ডিসেম্বর থেকে আগামী জুনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের আইনী বাধ্যবাধকতা রয়েছে।


শেয়ার করুন