চারদিনের কর্মসূচি, মেডিকেল কলেজে তালা

ডা. বাপ্পীর বদলি, আন্দোলনে থমকে গেল চিকিৎসা

Cox'sBazar Picture 10.11.2015

আনছার হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক ও বার্তা প্রধান

দৈনিক সৈকত

একজন চিকিৎসকের বদলিতে থমকে গেছে কক্সবাজারের পুরো স্বাস্থ্য বিভাগ। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে স্থবিরতা শুরু হয়েছে। মেডিকেল শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নি চিকিৎসকরা বদলি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। তারা মঙ্গলবার সকাল থেকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। কলেজের প্রধান ফটকে বসে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন। আর ইন্টার্নি চিকিৎসকরা জেলা সদর হাসপাতালে তাদের কার্যক্রম থেকে বিরত রয়েছেন।
আর সেই চিকিৎসক হলেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও জেলার সবচাইতে জনপ্রিয় শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. অরূপ দত্ত বাপ্পী। তাঁকে সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে।
আন্দোলনকারিদের দাবি, শুধুমাত্র ‘বদলি বাণিজ্যে’র বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় বেসরকারি চিকিৎসকদের একটি চক্র ডা. অরূপ দত্ত বাপ্পীকে কক্সবাজার থেকে সরানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে চক্রান্ত করছিলেন। ওই চক্রটি ডা. বাপ্পীকে সরিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগে নিজেদের কর্তৃত্ব জবরদখলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও ওই চক্রটি কক্সবাজারের স্বাস্থ্য বিভাগে অধিকাংশ চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অপছন্দের তালিকায় রয়েছেন।
ইন্টার্নি চিকিৎসক ও মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে কক্সবাজার শহর আওয়ামী লীগ ও জেলা যুবলীগ। শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, ডা. অরূপ দত্ত বাপ্পীর বদলি আদেশ প্রত্যাহারের আন্দোলনে শহর আওয়ামী লীগ, জেলা যুবলীগ ও জেলা ছাত্রলীগ সাথেই থাকবে।
তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েটি অসুস্থ। ডা. বাপ্পী তাকে হাত দিয়ে ধরলেই আমার মেয়ে সুস্থ হয়ে যায়। সেই চিকিৎসকদের ষড়যন্ত্রকারিদের চক্রান্তে বদলি আমরা মেনে নিতে পারি না।’
রাজনীতিক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘যারা ডা. বাপ্পীকে সরানোর জন্য চক্রান্ত করছে তারা নিজেরা চেম্বারও করেন না, রোগীদের সেবাও দেন না। তারা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কেউ না।’
Cox'sBazar Picture 10.11.2015 (01)

কক্সবাজার ইন্টার্নি চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. রিপন চৌধুরী জানান, ইন্টার্নি চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা ৪ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। এই কর্মসূচির মধ্যে ছিল মঙ্গলবার সকাল থেকে মানববন্ধন ও মেডিকেল কলেজের সকল একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকাল বন্ধ, ১১ নভেম্বর ইন্টার্নি চিকিৎসক পরিষদের নেতৃত্বে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের অন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগের সকল কার্যক্রম বন্ধ এবং হাসপাতাল কেন্দ্রিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সকল কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত, ১২ নভেম্বর থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন ও ১৩ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি প্রদান।
তিনি জানান, ১১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদের কক্সবাজার সফর থাকায় স্থানীয় সাংসদ ও রাজনীতিকদের অনুরোধে এই কর্মসূচি দুইদিন পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ক্লাসবর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

Cox'sBazar Picture 10.11.2015 (02)
ডা. রিপন চৌধুরী মনে করেন, কক্সবাজার জেলার ‘জীবন্ত কিংবদন্তী’, চিকিৎসক সমাজের অভিভাবক ও বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের (বিএমএ) কক্সবাজার জেলা সভাপতি ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ কক্সবাজারের আজীবন সদস্য ডা. অরূপ দত্ত বাপ্পী। তিনিই ২০০৮ সালে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্টাকাল থেকে কলেজের আবাসন সমস্যা, শিক্ষক সমস্যা, ক্লাসরুম সমস্যা, কর্মচারির অপ্রতুলতায় অনিশ্চিত হয়ে পড়া কলেজকে উপাধ্যক্ষ নিয়োগ পেয়ে নেতৃত্ব দিয়ে এতদূর নিয়ে এসেছেন। তাঁর গঠনমূলক কর্মকান্ডে কিছু দুর্নীতিগ্রস্থ বদলি বাণিজ্যকারি অসাধু চিকিৎসকের চক্ষুশূলে পরিণত হন ডা. বাপ্পী।
সকালে মেডিকেল কলেজের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমান মাবু, ইন্টার্নি চিকিৎসক পরিষদের (ইচিপ) সভাপতি ডা. রিপন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমদ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম, সুলতানা জাহান ও তাসমিয়া হোসেন লামিয়া, চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী সায়মা তাবাস্সুম ও প্রলয় শংকর মল্লিক, পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থী মরিয়ম ইসলাম লিলি ও অনন্ত বর্মণ, ৬ষ্ট ব্যাচের শিক্ষার্থী মুনিয়া তাসনিম ও তরিকুল ইসলাম আবিদ এবং সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুদীপ্ত ঘোষ ও তামান্না কে. হাবিবা।


শেয়ার করুন