টেকনাফের রোহিঙ্গা শিশু তাছলিমা খুনের রহস্যজট খুলছে

UUUUUজাবেদ ইকবাল চৌধুরী :
টেকনাফ নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের ১১ বছরের শিশু তাছলিমা খুনের রহস্য বের হতে শুরু করেছে। প্রায় ৮ মাস আগে খুনের এ ঘঁনা ঘটেছিলো। সে নয়াপাড়া শরনার্থী ক্যাম্পের ‘সি’ ব্লকের ৮৭৯ নং শেডের ১ ও ২ নং রুমের বাসিন্দা জয়নালের কন্যা। সেইদিন ছিলো শুক্রবার। ২০১৫ সালের ২৪ জুলাই। দুপুরে মানুষজন গোসল আর জুমার নামাজ নিয়ে ব্যস্ত। এ ফাঁকে চাচাতো মামা সেলিম ফুঁসলিয়ে টেকনাফ শহরে বেড়াতে নিয়ে যাবার কথা বলে বাড়ী থেকে তছলিমাকে বের করে। এই যে গেলো আর ফিরে এলো না। তছলিমার মা বেগম সন্ধ্যার পর আর মন ধরে রাখতে পারলো না আত্মীয়-স্বজনদের কাছে খবর নিতে শুরু করলো। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে কোন খবর পাওয়া গেলো না। পরিবারের সবার কাছে উৎকন্ঠা বেড়ে গেলো। পরে মামা সেলিমকে আটক করে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তি মতে ১৩ দিন পর ৬ আগষ্ট টেকনাফ স্থল বন্দরের পাশ্ববর্তী পাহাড়ের ভেতর হতে তছলিমার অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সেলিমকে থানা হাজত হতে আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালতে সে হত্যাকান্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দেন। কিন্তু কেন এই হত্যাকান্ড। আদালতে জবানবন্দী দেওয়ার অজুহাতে কার প্ররোচনায় নৃশংস এ শিশু খুন তার রহস্য ভেদ করেনি তদন্তকারী সংস্থা এমন অভিযোগ শিশুটির পরিবারের সদস্যদের।

তছলিমার মা বেগম কান্না জাড়ত কন্ঠে বলেন, যদি মামলাটি নড়েবড়ে হয়ে যায়, যদি সেলিমের ফাঁসি না হয় তাই আরো অনেক ঘটনা এ মুহুর্তে বলা যাচ্ছে। অনেকে ভয় দিয়ে যাচ্ছেন, যদি আসল ঘটনা প্রকাশ করি মামলার মেরিট নষ্ট হয়ে যাবে।
আসলে কি কারনে এ শিশু খুন তার রহস্য উৎঘাটনে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সেলিমকে পাশ্ববর্তী ব্লক থেকে দিলদার নামের এক মেয়ের সাথে বিয়ে দেয় দূলাভাই জয়নাল। কথা ছিলো চার আনা স্বর্ণ দেবে বিয়ের মোহরানা হিসেবে। বিয়ের কয়েকমাস চলে গেলে স্বামী সেলিমের কাছ থেকে বারবার মোহরানা দাবী করে আসছিলো স্ত্রী দিলদার। কিন্তু সে সামর্থ্য ছিলো না সেলিমের। তখন স্ত্রী দিলদার চাপ দিয়ে যাচ্ছিলো দুলাভাইয়ের ঘরেতো স্বর্ণ রয়েছে। সে পথ দেখিয়ে দেয় যে তোমাকে বিয়ে ঠিক করে দিয়েছে সেখান থেকে এনে দিতে পারো বলে। স্বর্ণ না আনা পর্যন্ত ঘরে না ঢুকতে বারন করে স্ত্রী। এ কারনেই তছলিমার স্বর্ণের দুল কেড়ে নেয় এবং পাহাড়ে নিয়ে খুন করে লাশ গুম করে । নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের কেউ কেউ এ খুনের জন্য সেলিমের পাশাপাশি স্ত্রী দিলদারকে আইনের আওতায় আনার দাবী জানায়।
এদিকে চাঞ্চল্যকর খবর হলো সেলিম আটক হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে স্ত্রী দিলদার পুরাতন প্রেমিক ও আপন তালতো ভাই কালাকে বিয়ে করে নতুন ঘর সংসার করে। পুরাতন প্রেমিকা দিলদারকে কাছে পাওয়ার জন্য স্ত্রীকে দিয়ে কৌশলে হত্যাকান্ড ঘটিয়ে জেলে ঢুকানোর জন্য এ জঘন্য খুনের ঘটনাটি ঘটিয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করেন সচেতন মহল। তবে দিলদার নতুন বিয়ের কথা স্বীকার করে বলে অন্যান্য সব মিথ্যা বলে দাবী করে বলেন, তার আগের স্বামী মানসিক ভাবে অসুস্থ ছিলো। সে এলোমেলো কথা বলতো।

নয়া পাড়া ক্যাম্পের বাসিন্দা মাষ্টার রশিদ জানান,  এটি নিছক শিশু হত্যা নয়, এর মধ্যে অনেক রহস্য রয়েছে। তিনি আশা করেন পুলিশ সে রহস্য বের করবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টেকনাফ থানার এস আই মুফিজুর বলেন, মামলাটির তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যে আটক সেলিম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। তবে অধিকতর তদন্ত করা হচেছ যাতে অপরাধী কেউ পার পেয়ে না যায়।


শেয়ার করুন