জেলা আ.লীগের সম্মেলন ২৮ নভেম্বর

a-lig-pic-2নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘ এক যুগ পর কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হতে যাচ্ছে ২৮ নভেম্বর। দলের সাধারণ স¤পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন। সম্মেলনকে ঘিরে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চাঙাভাব ফিরে এসেছে। জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমদ  বলেন, ‘আগামী ২৮ নভেম্বর অথবা ৫ ডিসেম্বর সম্মেলন অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য তারিখকে সামনে রেখে কাজ করছি।’
তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও কাউন্সিলরদের আশা, এবার তাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করবেন, যে নেতৃত্ব আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার চারটি সংসদীয় আসন দলকে উপহার দিতে পারবে।
দলের নেতা-কর্মীরা জানান, ২০০৩ সালের ২০ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে এ কে এম মোজাম্মেল হক সভাপতি ও সালাহ উদ্দিন আহমদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৫ সালের ২৭ মে এ কে এম মোজাম্মেল হকের মৃত্যু হলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান এ কে আহমদ হোসেন। তবে ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় নয় বছর আগে। এ পর্যন্ত জেলা কমিটি সম্মেলনের জন্য পাঁচ দফা তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল। সর্বশেষ তারিখ ছিল ২০১৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর। কিন্তু তারিখ অনুযায়ী সম্মেলন হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের কয়েকজন নেতা জানান, জেলা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে নয় বছর আগে। সম্মেলন না হওয়ায় দলে কোন্দল বেড়েছে। নেতা-কর্মীরা এখন তিন ভাগে বিভক্ত। এত দিন এক পক্ষ চেয়েছিল সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব দলের হাল ধরুক। কিন্তু অপর দুই পক্ষের কারণে সেটা সম্ভব হয়নি। ওই দুই পক্ষ চেয়েছিল সম্মেলন না করে কেন্দ্রের মাধ্যমে কমিটি ঘোষিত হোক। ফলে টানাপোড়েনে ছিলেন দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা। কক্সবাজারে দলের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) এ কে আহমদ হোসেন জানান, কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৮ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন স¤পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি উপজেলায় দলের সম্মেলন হয়েছে। বর্তমানে কমিটির সভাপতি পদে লড়ছেন চার নেতা। তাঁরা হলেন বর্তমান সভাপতি এ কে আহমদ হোসেন, বর্তমান সাধারণ স¤পাদক সালাহ উদ্দিন আহমদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও দলের যুগ্ম স¤পাদক সিরাজুল মোস্তফা। আর সাধারণ স¤পাদক পদে লড়ছেন শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান, চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম, রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক স¤পাদক মাশেদুল হক। জেলা যুবলীগের সভাপতি খুরশেদ আলম জানান, তৃণমূলের নেতা–কর্মীরা চান সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা কমিটির নতুন নেতৃত্ব তৈরি হোক। কিন্তু জেলা কমিটি নেতারা এত দিন সম্মেলন করতে রাজি ছিলেন না। এখন সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা খুশি। ২৯৮ জন কাউন্সিলর ভোট দিয়ে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন।
সাধারণ স¤পাদক পদপ্রার্থী মুজিবুর রহমান জানান, সারা জীবন তিনি নেতা-কর্মীদের নিয়ে মাঠে ছিলেন। দলের জন্য কাজ করছেন। দলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তৃণমূলের নেতারা যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করতে ভুল করবেন না। দলের সভাপতি পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তিনি কারও সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধবেন না। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বন্ধন দৃঢ়। দলীয় কোন্দল আর নেতা-কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তা দূর করতে সম্মেলনের বিকল্প নেই।
দলের সভাপতি পদপ্রার্থী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ইতিমধ্যে উখিয়া, সদর কক্সবাজার, চকরিয়া, পেকুয়া, টেকনাফ, রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ করেছি। কুতুবদিয়া উপজেলার সম্মেলনও শেষ হয়েছে গত শনিবার। মহেশখালী উপজেলার সম্মেলনও দ্রুত শেষ করা হবে।’
সালাহ উদ্দিন আহমদ আরও বলেন, জেলা আওয়ামী লীগ সক্রিয় সংগঠন। জঙ্গি তৎপরতা ও বিরোধী দলের রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিরোধ, ইয়াবাসহ মাদক চোরাচালান ও মানব পাচার বন্ধে দলের নেতা-কর্মীরা সক্রিয় ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে দলের নেতা-কর্মীদের দিয়ে গঠন করা হয় সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি। ফলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা উন্নতির পাশাপাশি দলীয় কোন্দল কমে গেছে।


শেয়ার করুন