জেলায় শিশুশ্রম ও শিশু ভিক্ষাবৃত্তি বাড়ছে

unnamedনুরুল আমিন হেলালী :

কক্সবাজারের প্রতিটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তিসহ বিভিন্ন কাজে শিশুশ্রম ক্রমেই বেড়ে চলছে। অভিযোগ রয়েছে পেশাদার কিছু ভিক্ষুক মাসিক, দৈনিক অথবা কমিশনের ভিত্তিতে ওইসব শিশুদের এ কাজে ব্যবহার করছে। এছাড়া জেলার দরিদ্র খেটে খাওয়া পরিবারগুলো অভাবের তাড়নায় তাদের শিশুদের বিভিন্ন পেশায় ব্যবহার করে জীবিকা করছে।

বিশেষ করে উপকুলীয় ও পাহাড়ী এলাকায় এই শিশুশ্রমিকের সংখ্যা বেশি। শহর কিংবা গ্রাম সবখানেই শিশুদের দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি ও ভারীকাজে শিশুদের ব্যবহারের দৃশ্য নিয়মিত দেখা যায়। এছাড়া জেলা সদর, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, চকরিয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া ও ঈদগাঁওয়ের বিভিন্ন হাট-বাজারের হোটেল রেস্তোঁরা, ঝুঁকিপূর্ণ ওয়েলডিং ওয়ার্কসপ, গাড়ির গ্যারেজসহ ভারীকাজে শুধুমাত্র থাকা খাওয়ার বিনিময়ে অনেক শিশু জেলার সর্বত্র শ্রমিকের কাজ করছে। দেখে মনে হয় যে বয়সে এইসব শিশুরা বই খাতা নিয়ে বিদ্যালয়মূখী হওয়ার কথা অথচ সমাজের একশ্রেণীর স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে ওই শিশুদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠলে দিচ্ছে। এই শিশুগুলো আর বিদ্যালয়মূখী না হয়ে দিনমজুর কিংবা রিক্সাচালক অথবা ভিক্ষাবৃত্তি পেশা বেছে নিচ্ছে।

অনেকে আবার বড় হয়ে শিক্ষার অভাবে মাদক ব্যবসা, চুরি-ডাকাতিসহ বিভন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। প্রতিবছর সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশে শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয় যার মুল উদ্দেশ্য সমাজ থেকে শিশুশ্রম নির্মূল করা। কিন্তু বাস্তবে কি কার্যকর হচ্ছে এর প্রকৃত লক্ষ্য। শহরের লিংকরোড় এলাকায় প্রতিদিন যাত্রীবাহী বাসে আট বছর বয়সী জানে আলম ভিক্ষুকের সহযোগী হিসেবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বাবা নুরুল আলমের সাথে সারাদিন ভিক্ষার কাজ করে। জানে আলম জানায়, তার মায়ের কথামতো অন্ধবাবার সাথে তাকে এ কাজ করতে হচ্ছে। সারাদিন ভিক্ষাকরে ৩শ থেকে ৫শ টাকা পায়। কিন্তু সুযোগ পেলে সে লেখাপড়া করত।

শিশু ভিক্ষুক নামে পরিচিত অনেক শিশু ভাড়ায় পেশাদার ভিক্ষুকদের সহযোগী হিসেবেও কাজ করছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে শিশুদের ওই পেশা থেকে ফিরিয়ে আনতে সমাজে সচেতনতা প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল।


শেয়ার করুন