চেন্দামেজু বৌদ্ধ বিহারে কঠিন দানোৎসব সম্পন্ন

20151109_162214নিজস্ব প্রতিবেদক:
সোমবার বিকাল ৫.৩০ টায় একত্রিশলোকের বিচরণশীল প্রাণীদের মঙ্গল কামনায় দানকৃত দ্রব্যাদিকে উৎসর্গ করে পানি ঢালার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটেছে শহরে অন্যতম ঐতিহাসিক প্রাচীন বৌদ্ধ স্থাপনা চেন্দামেজু বৌদ্ধ বিহারে দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসবের। শহরে ক্যাং পাড়ার ম্যোশাই রাধানা ও হ্নাং শোয়ে ওয়া তরুণী সংগঠনদ্বয়ে যৌথ উদ্যোগে উদযাপিত দানোত্তম এ কঠিন চীবর দানোৎসবের সমাপ্তি দিনের চেন্দামেজু বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গন ছিল পূজারী, দায়াক ও দায়িকাদের পদচারনায় মূখরিত। সার্বজনীন এ উৎসবে শেষ দিন শুরু হয় সূর্য্যােদয়ের সাথে সাথে বৌদ্ধ ভিক্ষুদেরকে প্রাত:রাশ নিবেদনের মাধ্যমে। তারপর মধ্যাহ্নে অনুষ্ঠিত হয় মহাসংঘ দান। এসময় প্রায় অর্ধশতক বৌদ্ধ ভিক্ষু ভিক্ষাপাত্র নিয়ে সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে থাকলে ভক্তগণ পরম ভক্তিভরে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ভিক্ষা পাত্র বিভিন্ন ধরনের অন্নসামগ্রী দিয়ে পূরণ করে দেন। এসময় রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বাদ্য বাজনাসহ একদল তরুণ নেচে গেয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুমন্ডলীকে অনুসরণ করতে থাকে। নাচে গানে এবং ভক্তিতে পরিবেশ হয়ে উঠে মোহময়। বৌদ্ধ ভিক্ষুমন্ডলীর কর্তৃক অন্ন সংগ্রহের পর আয়োজন করা হয় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মধ্যাহ্ন ভোজনপর্ব। এসময়ও ভক্তগণ ভাত তরকারীছাড়াও বিভিন্ন ধরনের পিঠা, মিষ্টান্ন, ফল ও কোমল পানীয় ইত্যাদি দান করে ভোজন পর্বকে পরিণত করে উৎসবমূখর । তারপর বিকেল ৩.০০ টা হতে শুরু হয় কঠিন চীবর দানের মূল পর্ব। চেন্দামেজু বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ উঃ প্যেইঞা ওয়েনথা সারাদো এর পৌরহিত্যে বুদ্ধ বন্দনা ও পঞ্চশীল প্রদানের পর দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসবের আগত ভক্ত, পূজারীগণ উপস্থিত বৌদ্ধ ভিক্ষুদেরকে এসময় চীবরসহ বিভিন্ন দান সামগ্রী সম্প্রদান করতে থাকে। একসময় দানসামগ্রী আকার মন্ডপের মধ্যে পাহাড়সম স্তুপাকার ধারণ করে। দানপর্ব সমপনান্তে ধর্মদেশনা প্রদান করেন উ ঃধম্মচারিয়া থেরো। তারপর রাখাইন নেতা অংক্যচিং এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাপনী আলোচনায় কঠিন চীবরের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ ক্যথিংঅং এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন লায়ীমে। অনুষ্ঠানে খুরুষ্কুল বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ, রামুর বড়ক্যাং বৌদ্ধ বিহারের বিহারাধ্যক্ষ উঃ পাঞাদিপা সারাদো, শহওে জাদিরাম ক্যাং, ম্রাইনা ক্যাং, ট ক্যাং, পিটাকেট ক্যাং সমূহের বিহারাধ্যক্ষগণসহ জেলায় রাখাইন বৌদ্ধ বিহার সমূহে নেত্রীস্থানীয় বৌদ্ধ ভিক্ষু মন্ডলী ছাড়াও সাবেক সংসদ সদস্য এবং জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি অধ্যাপিকা এথিন রাখাইন, রাখাইন ডিভেল্যাপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক ক্যচিং, উইমালাতারা বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মংথাচিং, অধ্যাপক মং ওয়ান নাইন, মং লা ওয়ান, উথোঁয়ে য়েইন, পর্যটন কর্পোরেশনের কর্মকর্তা মা টিন টিনসহ অসংখ্য পূজারী ও ভক্ত উপস্থিত ছিলেন।


শেয়ার করুন