চিন্তিত আওয়ামী লীগ, তৃণমূলে সতর্কবার্তা

2015_09_19_19_07_37_ZGTby5auWExsFuonOlAKMNGtC8A0dQ_originalসিটিএন ডেস্ক :

 শিয়াদের উপর হামলা, দুই বিদেশি নাগরিক, পুলিশ, ব্লগার, প্রকাশকসহ দেশের সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ড নিয়ে চিন্তিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। একের পর এক হামলা ও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো অন্ধকারে প্রশাসন। তবে এসব ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও সম্পৃক্ততা রয়েছে মনে করছে আওয়ামী লীগ। তাই হামলাকারীদের পরবর্তী টার্গেট নিয়েও উদ্বগ্নি কেন্দ্রীয় নেতারা। এ কারণেই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এসব হামলা ও হত্যাকাণ্ড প্রতিহত করার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে না পারায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে। বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে সরকার সম্পর্কে জনমনে আস্থাহীনতা তৈরি হয় কি না তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন নীতিনির্ধারকরা।

দলের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, একের পর এক হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি মোকাবেলায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাদের কাছ থেকে দিক নির্দশনা চেয়েছেন। একই সঙ্গে নেতারাও নিজ নিজ এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সতর্ক থাকছেন। দলের তৃণমূল ও নিচের সারির অনেক নেতাকর্মী ফোন করে বর্তমান পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে তা জানার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি একটা অগ্নিপরীক্ষা। এই পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে জনমনে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে।

এসব ঘটনার পেছনে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় মৌলবাদী জঙ্গিগোষ্ঠী জড়িত আছে বলে মনে করে আওয়ামী লীগ। কিন্তু কীভাবে তারা হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করছে, হত্যাকারীদের পারস্পরিক যোগাযোগের কৌশল কী, কোত্থেকে এসে একেকটি ঘটনা ঘটিয়ে তারা নিরাপদে পালিয়ে যায় এর কোনো কিছুরই কুলকিনারা করতে পারছে না। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সর্তক থেকে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, জামায়াত নেতা মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর বিএনপি-জামায়াতের তুলনামূলক নীরবতা আওয়ামী লীগকে কিছুটা চিন্তায় ফেলেছে। বিএনপি-জামায়াত অতীতে তাদের জ্বালাও পোড়াও এর আন্দোলনে সফলতা পায়নি এটা সত্য। কিন্তু তারা তাদের ষড়যন্ত্র থেকে সরে আসেনি। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে তারা এখন নতুন নতুন অপকৌশল হাতে নিচ্ছে।

গত রোববার গণভবনে গোয়েন্দা সমন্বয় কমিটি, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এক বৈঠক হয়। বৈঠকে সবাইকে সর্তক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি হত্যাকাণ্ডে সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে বিএনপি-জামায়াতের মদদে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, এসব হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেশি। জানা থাকলে তা প্রতিহত করার পদক্ষেপ নেয়া যেত। আর এ কারণে সরকাররে মধ্যে যেমন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে তেমনি দলের মধ্যেও বাড়ছে। তবে খুব শিগগিরই এসব হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মেচিত হবে এবং ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেদারল্যান্ডস সফরে যাওয়ার আগে সবাইকে সতর্ক থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য বলে গেছেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বাংলামেইলকে বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের অতীতই বলে তারা হত্যা, খুন ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি সঙ্গে যুক্ত। এটা দেশবাসীর কাছে প্রমাণিত। আগে তাদের প্রধান টার্গেট ছিলাম আমরা, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এখন তো সেটা আরেক ধাপ এগিয়েছে। তবে আমরা সবসময় সতর্ক আছি। আমাদের তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীরাও যার যার অবস্থান থেকে সতর্ক আছে।’

কেন্দ্রীয় নেতারা আলাদা আলাদা ভাবে তার বেল্টের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ দিলেও দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নির্দেশনা দেয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।


শেয়ার করুন