দুইজনের চোখ উপড়ে ফেলেছে সন্ত্রাসীরা

চকরিয়ায় চিংড়ে ঘেরে হামলা

pic- chak 09-11-15নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া :

চকরিয়া উপজেলার রামপুর চিংড়ি জোনের ৬১ প্লট নামক এলাকার একটি চিংড়ি ঘের থেকে তিন ব্যক্তিকে অপহরণ করে দুইজনের চোখ উপড়ে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। অপর একজনকে মারধর করে হাত পা ভেঙ্গে দিয়েছে। পুলিশ গতকাল সোমবার ভোর ৫টার দিকে এঘটনা ঘটে। পরে চকরিয়া থানা পুলিশ সকাল ১০টায় তাদেরকে চরণ দীপের একটি খালের পাড় থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া হাসপাতাল ও পরে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে বিরোধপূর্ণ একটি চিংড়ি প্রকল্পের দখল নিয়ে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
চকরিয়া থানার এস.আই আলমগীর জানান, গত ৯ নভেম্বর সকাল ১০টায় চকরিয়া উপজেলার চরণ দীপের চারালিয়া ছড়াখালের পাড় থেকে গুরুতর আহতাবস্থায় মহেশখালী উপজেলার উত্তর নলবিলা ইউসুপ আলীর পুত্র হাবিব উল্লাহ প্রকাশ লেদু (৩১), একই উপজেলার নতুন বাজার এলাকার আবদুল করিমের পুত্র সাদ্দাম হোসেন (২৪) ও চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ৩নং ব্লকের গোয়াখালীপাড়ার মৃত আবদুল হামিদের পুত্র আবুল হোছেন প্রকাশ পাখি (২৮) কে উদ্ধার করেন। তাদেরকে প্রথমে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবদুস ছালাম জানান, সাদ্দম ও লেদু’র চোখ উপড়ে ফেলেছে সন্ত্রাসীরা। দুইজনেই চোখে দেখতে পাওয়ার আর কোন সম্ভাবনা নেই।
গুরুতর আহত আবুল হোসেন প্রকাশ পাখি জানান, তারা বরদখালীর দক্ষিণ দিকে ৬১ প্লট নামক এলাকায় ১৪০ একর বিশিষ্ট একটি চিংড়ি ঘেরের কর্মচারী হিসাবে কাজ করতো। সোমবার ভোর সাড়ে ৪টায় উপজেলা সওদাগর ঘোন এলাকার ১৪-১৫জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ ওই চিংড়ি ঘের থেকে মারধর করে একটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে করে উপজেলার সওদাগর ঘোনার চরে নিয়ে যায়। সেখানে সাদ্দাম ও লেদু’র চোখ উপড়ে ফেলে আবার একই ট্রলারে করে চরণ দীপের চারালিয়া খালের পাড়ে ফেলে সন্ত্রাসীরা চলে যায়।
আহত আবুল হোছাইন আরও জানান; ওই চিংড়ি ঘেরটিতে বেশ কয়েকজন মালিক রয়েছেন। ইতিপূর্বে মালিকদের দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ ছিলো। মালিকদের একটি পক্ষ এ চিংড়ি ঘেরটি চকরিয়া উপজেলার সওদাগর ঘোনা ও মহেশখালী এলাকা থেকে সন্ত্রাসী ভাড়া করে দখলে নেয়। পরে দুই গ্রুপ এক হয়ে মহেশখালীর কয়েকজন সন্ত্রাসীকে শেয়ার দেয়। কিন্তু সওদাগর ঘোনার কাউকে শেয়ারে রাখা হয়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সওদাগর ঘোনা এলাকার ১৪/১৫জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। চকরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) কামরুল আজম জানান, অপর আহত আবুল হোছেন পাখি গত বৃহস্পতিবার উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের কুতুবদিয়া পাড়ায় সংঘটিত হেলাল উদ্দিন শিপু হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামী।
চকরিয়া থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর জানান, দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে চিংড়ি প্রকল্পের বিরোধ নিয়ে এ ঘটনাটি ঘটেছে। যারা আহত বা যাদের চোখ তুলে নেয়া হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মহেশখালী ও চকরিয়া থানায় কোন মামলা আছে কিনা তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় কেউ এখনও মামলা দিতে আসেননি।


শেয়ার করুন