ভোটের মাঠে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী নৌকার, নিশ্চিত বিজয় নিয়ে বেকায়দায় আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা

চকরিয়ায় ১২ ইউপিতে নির্বাচন ২৩ এপ্রিল, ৬ ইউপিতে ৭ মে

চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থীরা

চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের মনোনয়নপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থীরা

এ.এম হোবাইব সজীব,চকরিয়া

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা, বরইতলী, কৈয়ারবিল, ফাসিয়াখালী, ডুলাহাজারা, বমুুবিলছড়ি, সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, সাহারবিল, হারবাং ও বরইতলী ইউনিয়নে ততৃীয় ধাপে নির্বাচন অনুষ্টিত হতে যাচ্ছে আর মাত্র একদিন ২৩ এপ্রিল শনিবার। আগামী ৭ মে চর্তুথ ধাপে অনুষ্টিত হবে উপজেলার উপকূলীয় অপর ছয় ইউনিয়ন যথাক্রমে পশ্চিম বড়ভেওলা, পুর্ববড় ভেওলা, বদরখালী, কোণাখালী, ঢেমুশিয়া, বিএমচর ইউপির নির্বাচন।
ইতোমধ্যে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে দুই দফায় দলের ১৮জন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছেন। কিন্তু দলীয় সিদ্বান্ত অমান্য করে দলের একাধিক নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এ কারনে নির্বাচনে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে নৌকা নিশ্চিত বিজয় নিয়ে সাধারণ নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দলের মনোনয়ন পাওয়া বেশির ভাগ প্রার্থী চরম আশঙ্কায় ও বেকায়দায় রয়েছেন। এ ব্যাপারে সহসা প্রদক্ষেপ গ্রহনের জন্য কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড ও কক্সবাজার জেলা এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারণ নেতাকর্মীরা। অন্যথায় নির্বাচনে বড় ধরণের ক্ষতির শিকার হবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ। অপরদিকে জনপ্রিয়তা ও প্রচার প্রচারণায় বদরখালীসহ অনেক ইউপিতে দলীয় প্রার্থীকে ছাড়িয়ে গেছেন আ.লীগে বিদ্রোহী প্রার্থীরা।
জানা গেছে, ২০১১ সালে অনুষ্টিত নির্বাচনে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ১১টিতে আওয়ামীলীগ ও ৫টিতে বিএনপি এবং দুটিতে জামায়াতের প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু এবারই প্রথম স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড ও জেলা আওয়ামীলীগের কাছে মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে বর্তমানে প্রত্যেক ইউনিয়নে একাধিক আওয়ামীলীগ নেতা চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এতে করে দলীয় প্রার্থী নিশ্চিত বিজয় নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে আওয়ামীলীগ।
দলীয় সুত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলার হারবাং ইউপিতে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মিরানুল ইসলাম, বরইতলী ইউপিতে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা এটিএম জিয়াউদ্দিন চৌধুরী জিয়া, লক্ষ্যারচর ইউপিতে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খ ম আওরঙ্গজেব বুলেট, সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপিতে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আজিমুল হক আজিম, কাকারা ইউপিতে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শওকত ওসমান, চিরিংগা ইউপিতে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন, ফাঁসিয়াখালী ইউপিতে বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী, বমুবিলছড়ি ইউপিতে বর্তমান চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন, ডুলাহাজারা ইউপিতে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জামাল হোছাইন, খুটাখালী ইউপিতে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহসভাপতি বাহাদুর হক, সাহারবিল ইউপিতে মাতামুহুরী সাংগঠনিক থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিন বাবুল ও কৈয়ারবিল ইউপিতে সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ফিরোজ আহমদ চৌধুরী। অপরদিকে উপজেলার পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়নে মাতামুহুরী সাংগঠনিক থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা, বদরখালী ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরে হোছাইন আরিফ, বিএমচর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি বদিউল আলম, কোণাখালী ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি দিদারুল হক সিকদার, ঢেমুশিয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রোস্তম আলী এবং পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধু সৈনিকলীগ কক্সবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক খলিল উল্লাহ চৌধুরী। গত ১৭মার্চ উপজেলার ১২ ইউনিয়ন ও ২এপ্রিল উপজেলার উপকুলীয় অঞ্চলের ছয় ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের একক চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষনা করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দলীয় মনোনয়ন পেয়ে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা প্রতীকও বরাদ্ধ পেয়েছেন। কিন্তু দলের এই সিদ্বান্ত অমান্য করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের একাধিক নেতা দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বর্তমানে ভোটের মাঠে নেমেছেন। তাদের মধ্যে বরইতলী ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম। সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা চকরিয়া কলেজের ভিপি রুস্তম শাহরিয়ার। চিরিঙ্গা ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান কেএম ছালাহউদ্দিন (খাজা সালাহ উদ্দিন)। কৈয়ারবিল ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন যুবলীগ নেতা মক্কী ইকবাল হোসেন। খুটাখালী ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাবেক কক্সবাজার কলেজ ছাত্রলীগ নেতা ও প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা আলহাজ জয়নাল আবেদিন। বমুবিলছড়ি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা কফিল উদ্দিন। বদরখালী ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তিনজন। তাঁরা হলেন, আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, সাবেক মেম্বার খাইরুল বশর, আবু নঈম মোহাম্মদ হেফাজ। কোনাখালী ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতা মোক্তার আহমদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ ইলিয়াছ। পশ্চিম বড় ভেওলা ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান সাহাবউদ্দিন, ছাত্রলীগ নেতা রবিউল এহেছান। ঢেমুশিয়া ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতা বর্তমান মেম্বার মোঃ গিয়াস উদ্দিন, আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ কায়েস। বিএমচর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আলমের ভাই আওয়ামীলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম। পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামীলীগ নেতা নাছির উদ্দিন নোবেল।


শেয়ার করুন