সোনাদিয়ার মানুষের জীবন হালাল কামাই দিয়ে চলে সহজেই

  127108_1গোলাম আজম খান:
প্রাকৃতিক অপপ সৃজিত জীবন বৈচিত্র সমৃদ্ধ সোনাদিয়া দ্বীপ। মোট ৪৯২৮ হেক্টর জমির উপর অবস্থিত এ দ্বীপ পূর্ব পশ্চিম লম্বা-লম্বী বঙ্গোপসাগরের উত্তাল তরঙ্গ মালার সাথে অবস্থানরত এক অপার সম্ভাবনাময়ী সম্পদে ভরপুর চরাঞ্চল। সৃষ্টিকর্তার সুনিপন সৃষ্টি শৈল্পিক আদলে গড়া কক্সবাজার জেলার পর্যটন শিল্পের আরেক সম্ভাবনাময় পরিচিত অপূর্ব দৃষ্টি নন্দন অপরুপা শোভিত সৈকতের নাম সোনাদিয়া দ্বীপ। উত্তর-পশ্চিমে ১৫ কিলোমিটার দূরে এই বালুর দ্বীপটি অবস্থিত, যার আয়তন মাত্র ৭ বর্গ কিলোমিটার। মহেশখালী দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম কর্নারে অবস্থিত এই দ্বীপটি মহেশখালী থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে ছোট-বড় আঁকাবাঁকা খালবিশিষ্ট ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল দ্বারা। দ্বীপের দক্ষিণ, পশ্চিম ও পূর্বে বঙ্গোপসাগর। এখানে দুই হাজারের কাছাকাছি মানুষ বসবাস করে। যার দুই তৃতীংশের চেয়ে বেশী মৎস্য শিল্পের সাথে জড়িত।

কক্সবাজারের দ্বীপাঞ্চলীয় জনপদ মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের একটি দ্বীপ সোনাদিয়া। যেখানে রয়েছে পৃথিবী বিখ্যাত বিশেষ ধরনের বৈশিষ্ট্য মন্ডিত প্যারাবন, দূষণ ও কোলাহল মুক্ত সৈকত। অসংখ্য লাল কাকড়ার মিলন মেলা, পূর্ব পাড়ায় নব্য জেগে উঠা চর, বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক কাছিম সহ দৃশ্যাবলী, দ্বীপবাসীর নিজস্ব সংস্কৃতি ও সাদাসিদে জীবন যাপন, পূর্ব পাড়ার হযরত মারহা আউলিয়ার মাজার ও তার আদি ইতিহাস, জেলেদের সাগরের মাছ ধরার দৃশ্য, সূর্যাস্তের দৃশ্য, প্যারাবন বেষ্টিত আকাঁ-বাঁকা নদী পথে নৌকা  ভ্রমন, স্পীড বোট বা ইঞ্জিন বোট দিয়ে মহেশখালী চ্যানেল হয়ে সাগরের মাঝ পথে বঙ্গোপসাগরের দৃশ্য অবলোকন যা পর্যটকদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী বাড়তি আর্কষণ।

এই দ্বীপে মানুষের স্থায়ী বসবাস শুরু হয় মাত্র ১০০-১২৫ বছর আগে। প্রতি বছর শীতের সময় এই দ্বীপে ৭০ প্রজাতির জলজ ও উপকূলীয় অতিথি পাখির আগমন ঘটে। এটি অতিথি পাখির নিরাপদ বিচরণ ক্ষেত্র। গভীর সুমদ্র বন্দরের জন্য নির্বাচিত কয়েকটি স্পটের মধ্যে সর্বাধিক উপযোগী এই দ্বীপে প্রতি বছর শীত মৌসুমে মাছ আহরণ করে হাজার হাজার টন শুঁটকি উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়। মাছ ধরা এবং মাছ শুকানো এই দ্বীপে বসবাসরত মানুষের জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম। দ্বীপে ২টি মসজিদ, ১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছে। প্রাকৃতিক অপরুপ সৃজিত জীবন বৈচিত্র সমৃদ্ধ সোনাদিয়া দ্বীপ। যেখানে রয়েছে পৃথিবী বিখ্যাত বিশেষ ধরনের বৈশিষ্ট্য মন্ডিত প্যারাবন, দূষণ ও কোলাহল মুক্ত সৈকত। অসংখ্য লাল কাকড়ার মিলন মেলা, পূর্ব পাড়ায় নব্য জেগে উঠা চর, বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক কাছিম সহ দৃশ্যাবলী, দ্বীপবাসীর নিজস্ব সংস্কৃতি ও সাদাসিদে জীবন যাপন, পূর্ব পাড়ার হযরত মারহা আউলিয়ার মাজার ও তার আদি ইতিহাস, জেলেদের সাগরের মাছ ধরার দৃশ্য, সূর্যাস্তের দৃশ্য, প্যারাবন বেষ্টিত আকাঁ-বাঁকা নদী পথে নৌকা  ভ্রমন, স্পীড বোট বা ইঞ্জিন বোট দিয়ে মহেশখালী চ্যানেল হয়ে সাগরের মাঝ পথে বঙ্গোপসাগরের দৃশ্য অবলোকন যা পর্যটকদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী বাড়তি আর্কষণ।

সাগর কিনারে দেখা হয় সরওয়ার কামাল নামে এক জেলের সাথে। তার বয়স ২৫ ছুঁইছুঁই। ১ ছেলের জনক সরওয়ারের বাড়ী কুতুবজোম এলাকায়। ৫ বছর বয়স থেকে সোনাদিয়ারচরে জাল বুনার কাজ শুরু করে। মা-বাবার অভাব অনটনের সংসারে জালু বুনেই অন্ন যোগান দিচ্ছে। এখনো অবিরত এ কাজ করে চলেছে। সুন্দরভাবে চলছে সংসার।
কথা হয়, বাবু হোসন নামে সত্তরোর্ধ বৃদ্ধের সাথে। তিনি বলেন, ১৪ বছর ধরে জাল বুনার কাজ করছেন। দিনে ৫’শ টাকা কামাই করেও চলছে বাবু হোসনের ৩ ছেলে ও ৫ মেয়ে নিয়ে সংসার। তার মতে হালাল কামাই দিয়ে জীবন চলে সহজেই। তিনি আরো বলেন, আনু বহদ্দার এর কাছ থেকে জাল বুনার কাজ নিয়েছেন এক সপ্তাহ ধরে। আরো কয়েক দিন চলবে। এরপর তিনি সাগরে মাছ শিকারে যাবেন। সারাদিন মিলে যেসব মাছ পান তা বিক্রি করে পরিবারের খরচ জোগান।
বিস্তীর্ণ চলে জাল বুনছেন মনিউল করিম, সোনামিয়া, দেলোয়ার হোসেন, মুহাম্মদ নুরসহ অন্তত ১০০ লোক। যাদের অধিকাংশই জীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন প্রতিবেদকের নিকট। দেশের প্রধান শুটকি মাছ উৎপাদন কেন্দ্র। এখানকার ম্যানগ্রোভ বন এবং উপকুলীয় বনভূমি, সাগরে গাড় নীল পানি, কেয়া বন, লাল কাঁকড়া, বিভিন্ন প্রকারের সামুদ্রিক পাখি পর্যটকদের মনে দোলা দেয়। এই দ্বীপটি বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরির জন্য নির্বাচিত হয়েছে। কোন কারণেই সোনাদিয়াকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। সোনাদিয়া দ্বীপকে মৎস্যশিল্প নগরী ঘোষনা ও জীবন-সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের দাবী পিছিয়ে পড়া দ্বীপাঞ্চলের মানুষের।
ঘটিভাঙ্গা নামে একটি খাল মহেশখালী দ্বীপের সাথে একসময় সোনাদিয়াকে বিচ্ছিন্ন রাখলেও খালের ওপর সেতু নির্মিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে। দ্বীপটিকে সরকার প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে রাখছে। সদাশয় সরকার মাঝিমাল্লাদের কথা বিবেচনা করে এবং সমুদ্রে নৌ-ডাকাতি রোধকল্পে ঘটিভাঙ্গায় একটি নৌ থানা স্থাপনের বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে বলে একটি সুত্র মারফত জানা গেছে।
এ দ্বীপকে যাযাবর পাখিদের জন্য ভূ-স্বর্গ বলা যায়। দ্বীপের পশ্চিম দিকে বালুকাময় সমুদ্র সৈকত রয়েছে যেখানে ঝিনুক ও মুক্তা পাওয়া যায়। শুষ্ক মৌসুমে এখানে প্রচুর মাছ শুকানো হয়,  যা দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করা  হয়। জীব বৈচিত্রের অপূর সমাহার সোনাদিয়া দ্বীপ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট বিদ্যমান থাকার কথা থাকলেও এলাকা প্রভাবশালী ভূমি দস্যুদের কারণে চিংড়ি খামার তৈরীর লক্ষ্যে প্যারাবন ধ্বংসসহ হাজার হাজার রোপিত গাছ কর্তনের কারণে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন।


শেয়ার করুন