খালেদার একক নির্দেশনাতেই চলবে বিএনপি

166377_1-400x240সিটিএন ডেস্ক:

চিকিৎসার জন্য দেড় মাস ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে প্রতি মাসে একবার করে ফলোআপ চিকিৎসাধীন ছিলেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সম্প্রতি তার রাজনৈতিক তৎপরতাও করে ফেলেন সীমিত। বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তি পেলেও মির্জা আলমগীরকে  ফের কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। এমন এক সময়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হলো যখন শিগগিরই দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এছাড়া আগামী ডিসেম্বরে পৌর নির্বাচনের মাধ্যমে শুরু হবে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।

নভেম্বর-ডিসেম্বরের বিভিন্ন দিবস কেন্দ্রিক কর্মসূচি ছাড়াও ‘৫ই জানুয়ারি’ দলটির রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। একদিকে চেয়ারপারসন দেশের বাইরে অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব কারাগারে। এমন পরিস্থিতিতে দলটির কার্যক্রম কিভাবে পরিচালিত হবে- এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে? তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, দল চলবে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশনায়। তার নেতৃত্বের প্রতি যেখানে সবার অবিচল আস্থা রয়েছে সেখানে এমন প্রতিবন্ধকতা বিএনপির পথচলায় বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটাবে না। এছাড়া শিগগিরই চেয়ারপারসন দেশে ফিরে সক্রিয়ভাবে নিজেই দল পরিচালনা করবেন। দলটির একাধিক নেতার মতে, জিয়া পরিবারের প্রতি তৃণমূলের আস্থাই হচ্ছে বিএনপির শক্তি। অতীতে বারবার নেতৃত্ব সঙ্কটের প্রশ্ন এলেও শেষ পর্যন্ত সেটা ঘটেনি। নিকট অতীতে ওয়ান-ইলেভেনের সময় যখন দলটির শীর্ষস্থানীয় বেশির ভাগ নেতাই কারাগারে ছিলেন তখন সংস্কারের নামে দলভাঙার অনেক বড় ষড়যন্ত্রও ব্যর্থ হয়েছে। এখানে নেতাদের উপস্থিতির চেয়ে শীর্ষনেতৃত্বের নির্দেশনার প্রতি সবার অবিচল আস্থাই আসল বিষয়। বিএনপি নেতারা বলেন, দীর্ঘ ৬ মাস কারাভোগের মুক্তি পেয়ে দু’দফায় বিদেশে গিয়ে চিকিৎসার সেবা নিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ সময় তিনি দলের রাজনৈতিক কার্যক্রমে খুব একটা সময় দিতে পারেননি। কিন্তু চেয়ারপারসন যাদের দায়িত্ব দিয়েছেন তারাই চালিয়ে নিয়েছেন। চেয়ারপারসন দেশে না ফেরা পর্যন্ত তার আগের নির্দেশনা অনুযায়ীই দল পরিচালিত হবে। উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য যাওয়ার আগে দলের মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপনকে তার তার দায়িত্ব পালনে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি দলের স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খানকে সাংগঠনিক বিষয়াদি দেখাশোনা করার নির্দেশনা দেন। গত দেড় মাস ধরে তারাই ছিলেন ফ্রন্টলাইনে। বিএনপি নেতারা মনে করেন, দুই মাস পরেই ৫ই জানুয়ারি। দিনটিকে কেন্দ্র করে বিএনপি যাতে বড় ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এগুচ্ছে সরকার। এছাড়া ৭ই নভেম্বর বিএনপির রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।
এ দিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে গুরুত্বের সঙ্গে পালন করে বিএনপি। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল হিসেবে বিজয়ের মাস ডিসেম্বর বিএনপির রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। রাজপথের রাজনীতি যখন বন্ধ তখন এসব দিবসকে কেন্দ্র করে ঘরোয়া রাজনীতিতেও বিএনপির সামনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে সিনিয়র নেতাদের একসঙ্গে হতে দিচ্ছে না সরকার। তারা আশঙ্কা করছেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে নানা মামলায় দলের বেশ কিছু সিনিয়র নেতাকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়েও গ্রেপ্তার অভিযান চালাতে পারে সরকার। তারপরও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে বিমানবন্দর এলাকায় বড় ধরনের জমায়েতের মাধ্যমে তাকে অভ্যর্থনা জানানোর প্রস্তুতিও রয়েছে বিএনপি। চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের অনুপস্থিতিতে দল পরিচালনা প্রসঙ্গে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বর্তমান সরকারে কোন সিদ্ধান্তই উদ্দেশ্যহীন ভাবার সুযোগ নেই। কারণ তারা আমাদের ন্যূনতম রাজনৈতিক অধিকার দিচ্ছে না। আমাদের প্রতিনিয়ত প্রতিবন্ধকতার দেয়াল টপকাতে হচ্ছে। ফলে বিএনপি বর্তমান সরকারের কাছে বেশিকিছু আশাও করে না। এমন পরিস্থিতিতে কে কারাগারে গেল, কে মুক্তি পেল সেদিকে তাকিয়ে থাকার কোন সুযোগ নেই।
চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যে নির্দেশনা দিয়েছেন এবং দেবেন সেভাবেই দল চলবে। তিনি বলেন, মির্জা আলমগীর অসুস্থ এবং চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ মামলায় তিনি ৬ মাস কারাভোগ করেছেন। একজন মানুষকে একই অপরাধের অজুহাতে বিনাবিচারে বারবার কারাগারে নেয়ার ব্যাপারে নিন্দা জানানোর ভাষাও নেই। সরকার কেন এমনটা করছে তা বুঝতে আমাদের বাকি নেই। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ বলেন, চেয়ারপারসন ও মহাসচিবের অনুপস্থিতিতে দল পরিচালনায় কৌশলগত কিছু সমস্যা তৈরি হয়। কিন্তু আমাদের চেয়ারপারসন শিগগিরই দেশে ফিরবেন। আমার মনে হয় না, শীর্ষ নেতাদের একসঙ্গে হতে না দেয়ার সে কৌশল সরকার নিয়েছে তা তাদের জন্য খুব একটা ফলপ্রসূ হবে। কারণ একটি প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে দল পরিচালিত হয়, সেখানে ব্যক্তির অনুপস্থিতি খুব বড় ধরনের প্রভাব ফেলে না।
চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব একজন অসুস্থ মানুষ। তিনি সম্প্রতি দুই দফায় বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন এবং এখনও চিকিৎসাধীন। এ অবস্থায় তাকে কারাগারে পাঠানো একধরনের নিষ্ঠুরতা। যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ঘন ঘন দেশের বাইরে গিয়েও যদি প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারেন তাহলে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কেন এ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বিদেশে থেকেও একটি দল পরিচালনা করতে পারবেন না। তিনি বলেন, শিগগিরই দেশে ফিরবেন খালেদা জিয়া। এছাড়া তিনি যাকে যখন যে দায়িত্ব দেন তিনি সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে সেটা পালন করবেন।

মানবজমিন


শেয়ার করুন