কলাতলী সৈকত আবাসিক এলাকায় মাতলামি

download (2)নিজস্ব প্রতিবেদক:
শহরের কলাতলী আবাসিক এলাকায় মাতাল ও বখাটের হাতে মারধরের শিকার হয়েছে আবাসিক ভবনের এক কেয়ারটেকার। ঘটনার পর ফের মারধরের হুমকি দিচ্ছে মাতাল ও তার সহযোগীরা।
জানা গেছে, মাতাল অবস্থায় সৈকত আবাসিক এলাকার লাইট হাউস জামে মসজিদের পাশে গত ২৪ অক্টোবর রাত ১২টার দিকে উৎপাত করছিল নজরুল ইসলাম প্রকাশ লাল নজরুল (৪৫) নামের এক ব্যক্তি। সে এক পর্যায়ে দৈনিক আমাদের কক্সবাজার পত্রিকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এইচ,এম, আবু ছিদ্দিকের বাস ভবনের সামনে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে। তার এই মাতলামিতে বাধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে উক্ত ভবণের কেয়ারটেকার মামুন (২৩) নামের এক যুবককে মারধর করে। শুধু তাই নয়, উক্ত মাতালের ছেলে-স্ত্রীও তাকে একযোগে বেদম মারধর করেছে।
প্রসঙ্গত: ঘটনার কিছুক্ষণ আগে মই নিয়ে ইলেক্ট্রিকের কাজ করছিল স্থানীয় রিপন ও তার ছোট ভাই ইমন। এসময় ইলেক্ট্রিকের একটি ফিউজ অচল হলে ক্ষিপ্ত হয় লাল নজরুল। সে রিপনদের কিছু বলতে সাহস না পেয়ে মাতাল অবস্থায় কেয়ারটেকার গ্রামের সহজ-সরল নিরহ যুবক মামুনের উপর সওয়ার হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, অভিযুক্ত লাল নজরুলের গ্রামের বাড়ী চকরিয়ায়। সেখান থেকে তার বাবা বেচে থাকতে পরিবার পরিজন নিয়ে কক্সবাজারে চলে আসে কিছুদিন টেকপাড়ায় বসবাস করলেও পরবর্তীতে লাইট হাউজ পাড়ার সরকারী খাস জায়গা দখল করে বসবাস শুরু করে। তখন থেকে পর্যটন এলাকায় মাতলামিসহ ত্রাসের রাজত্ব চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার ছোট ভাই ডালিমসহ ভাই বেরাদর,আত্মীয়-স্বজন বেশী থাকায় তাদের এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। ভুল করে কেউ মুখ খুললেও মামুনের মত তার উপরও চলে আসে অমানুষিক নির্যাতন। এলাকাবাসী আরও জানায়, নজরুল নিয়মিত মদ খেয়ে রিক্সাওয়ালা থেকে শুরু করে পর্যটকসহ স্থানীয় মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করে। এবিষয়ে দৈনিক আমাদের কক্সবাজার পত্রিকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এইচ,এম, আবু ছিদ্দিক বলেন, এলাকার অল্প বয়সের ছেলেমেয়েরা আমাদেরই সন্তান এরা ভুল করে অনেক কিছু করে ফেলে। তাই বলে তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করা কোন সুস্থ বিবেকবান মানুষের কাজ নয়, বরং তাদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষা দিয়ে মানুষ হিসাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব মুরব্বিদের। তাছাড়া বিদ্যুতের কাজ করেছে স্থানীয় ছেলে রিপন ও তার ভাই ইমন, মারতে হলে তাদেরকেই মারতো,আমার নির্দোষ কাজের ছেলে মামুনকে কেন মারলো তা আমার বোধগম্য নয়। তবুও প্রতিবেশীদের সাথে সুস্পর্কের স্বার্থে তাকে (নজরুলকে) সমাধান দিতে বলেছি। অন্যতায় আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হব। তাছাড়া এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে নিজ উদ্যোগে রাত একটার সময় বিদ্যুৎ অফিস থেকে লোক এনে তাৎক্ষনিক বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করেছি। অপরদিকে নজরুলের কাছ থেকে বিষয়টি জানার চেষ্টা করলেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।


শেয়ার করুন