রেললাইন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম

কক্সবাজারের সাবেক এডিসিসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ডেস্ক নিউজঃ

দোহাজারী-ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে প্রায় ২ কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। গত বুধবার কক্সবাজারের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি করেন রামু উপজেলার লম্বরীপাড়া গ্রামের মৃত সোলেমানের ছেলে আবুল কালাম। প্রাথমিক শুনানি শেষে মামলাটি আমলে নিয়ে বিচারক মো. ইসমাইল আগামী ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন।

মামলায় কক্সবাজারের সদ্য বিদায়ী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আশরাফুল আফসার, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা আবুল হাসনাত, অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা দেবতোষ চক্রবর্তী, কানুনগো মোখলেছুর রহমান, সার্ভেয়ার মাসুদ রানাসহ ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কক্সবাজারের পিপি অ্যাডভোকেট মো. আবদুর রহিম। বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সেলিম উদ্দিন।

বাদী তার আবেদনে রেলপথ নির্মাণে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এলএ মামলা নং ০৩/১৬-১৭ইং মূলে জমির প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে ক্ষতিপূরণের টাকা প্রাপ্ত হন। ফলে রোয়াদাত তৈরির জন্য তারা নোটিসও পান। কিন্তু নোটিসপ্রাপ্তদের অগোচরে এলও দালাল শাহজাহানকে মাধ্যম করে জেলা প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তারা ২ কোটি টাকা লোপাট করেছেন। এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের সদ্য বিদায়ী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আশরাফুল আফসার বলেন, এটা দুপক্ষের মধ্যে বিরোধের জের ধরে মামলাটি করা হয়েছে। এখানে আমাকে সম্পৃক্ত করার কোনো কারণ আমি খুঁজে পাচ্ছি না।

জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার দুর্নীতি নিয়ে সম্প্রতি দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছে। অনুসন্ধানের শুরুতে এক সার্ভেয়ার ও তিন দালালকে আটক করে দুদক। পরে আদালতের নির্দেশে আটককৃতদের রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে দুর্নীতির তথ্যের পাশাপাশি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখাকেন্দ্রিক ৬০ দালালের সন্ধান দেন তারা।

দুদক সূত্র জানায়, এর আগে মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য ২৫টি অস্তিত্বহীন চিংড়িঘেরকে তালিকাভুক্ত করে একটি চক্র। এজন্য ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয় ৪৬ কোটি ২৪ লাখ ৩ হাজার ৩২০ টাকা। এর মধ্যে ১৯ কোটি ৮২ লাখ ৮ হাজার ৩১৫ টাকা তুলে আত্মসাৎ করা হয়। এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর মাতারবাড়ীর ব্যবসায়ী একেএম কায়সারুল ইসলাম চৌধুরী বাদী হয়ে সাবেক জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন, এডিসি জাফর আলমসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য দুদককে নির্দেশ দেন। পরে ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল সাবেক জেলা প্রশাসকসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। এ মামলায় ২২ মে কক্সবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. রুহুল আমিন কারাগারে যান।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মো. আবদুর রহিম বলেন, ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের এ মামলায় এর আগে ৯ মে কক্সবাজারের সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাফর আলমকে ঢাকার সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে দুদক। এর আগে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার (এলও) সাবেক উচ্চমান সহকারী আবুল কাশেম মজুমদার, সাবেক সার্ভেয়ার ফখরুল ইসলাম ও কক্সবাজার আদালতের আইনজীবী নূর মোহাম্মদ সিকদারকে গ্রেফতার করা হয়। তারাও দুর্নীতির এ মামলার আসামি।


শেয়ার করুন