বান্দরবানের

আলীকদমে এমএনপি ও এমএনডিপি’র আত্মসর্মপণ

0997এম বশিরুল আলম,  লামা :

বান্দরবানের আলীকদম দূর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নে এমএনপি ও এমএনডিপি’র ৭৯ সদস্য আত্মসমর্পন করেছে। ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় আলীকদম সেনা জোনের উদ্যোগে অনুষ্ঠানে ৫৫টি দেশীয় অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে তারা। পাহাড়ে যুবকদের নিয়ে গড়ে ওঠা সশস্ত্র সংগঠন ¤্রাে ন্যাশনাল পার্টির আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈচিং এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার জিওসি মেজর জেনারেল সফিকুর রহমান, পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্য শৈ হ্লা, বান্দরবান পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান সহ প্রমূখ।

 এমএনপি’র সদস্যরা দেশীয় বন্দুক, ক্রিচ, দা, তীর ধনুক সহ মোট ৫৫টি অস্ত্র জমা দেয়। এসময় তাদেরকে পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে প্রতিজনকে ১০ হাজার করে মোট ৭লক্ষ ৯০ হাজার টাকা দেয়া হয়। পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়।এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের কোনো এক সময় আলীকদম-থানচি উপজেলার গহীন অরণ্যে স্বল্প সংখ্যক ম্রো যুবকদের নিয়েই গঠিত হয়েছিল ম্রো ন্যাশনাল পার্টি (এমএনপি) নামের একটি সশস্ত্র সংগঠন। আর এ সংগঠনের প্রধান ছিলেন মেনচিং ম্রো। পরে ২০১২ সালে দেশীয় ও আধুনিক অস্ত্র নিয়ে বান্দরবানের লামা, আলীকদম ও থানছি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে সংগঠনটি।

এর আগে গত ১৬ অক্টোবর এ লক্ষ্যে বান্দরবান জেলার আলীকদম জোনে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ম্রো আদিবাসীদের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতার গোপন

0999 (1)বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আলীকদম জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মিজানুর রহমান,পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মাং সাই প্রু, অং প্রু ম্রো এবং এমএনপি’র প্রতিনিধি হিসেবে আলীকদমের স্থানীয় চারজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। আরো জানা যায়, একই বছরে এমএনপি’র প্রধান গ্রেফতার হওয়ার পর দায়িত্ব গ্রহণ করেন পালে ম্রো। তবে একই বছরের ৭ জুন সংগঠনটি দায়িত্ব পাওয়া পালে ম্রো প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন।

এছাড়াও যৌথবাহিনীর কয়েক দফা অভিযানে গ্রেফতার হয় সংগঠনটির শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাকর্মী। অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়ে সংগঠনটি। স্থবির হয়ে পড়ে তাদের অপরাধমূলক কর্মকান্ড। তাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করলে উদ্যোগ নেয় নিরাপত্তা বাহিনী ও জনপ্রতিনিধি। এদিকে থানচি উপজেলার ম্র্রো নেতা খামলাই ম্রো বক্তব্যে বলেন, লামা,থানচি এবং আলীকদমের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগঠনটির ৭৯ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান।


শেয়ার করুন