অভ্যুত্থানের পথে সৌদি আরব

saudi_mosque_91005আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

সৌদির রাজপরিবারে অভ্যুত্থান ঘটতে যাচ্ছে। সৌদি যুবরাজ মাহাম্মদ বিন প্রিন্সের এক উপদেষ্টার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘ডেইলি টেলিগ্রাফ’সোমবার এ খবর জানায়।

ওই উপদেষ্টা টেলিগ্রাফ পত্রিকাকে অভ্যুত্থানের পক্ষে বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ দাখিল করেন, যেগুলো পশ্চিমা দেশগুলোকে উদ্দেশ করে তৈরি করা হয়েছে। এগুলোর বিষয়বস্তু ছিল সৌদি সমাজে মানবাধিকার ও নারীর অবস্থান। পত্রিকাটি সৌদির এই পদক্ষেপকে ‘অভূতপূর্ব’বলে উল্লেখ করেছে।

তবে অভ্যুত্থান ঠেকাতে সৌদি রাজশাসকরা কিছু সংস্কার বিশেষ করে নারী ও মানবাধিকার বিষয়ে কিছু আধুনিক পদক্ষেপ নিচ্ছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে সৌদি বাদশা আবদুল্লাহর মৃত্যুর পর থেকেই নানাভাবে বিতর্কিত হচ্ছে সৌদি রাজপরিবার। আবদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তার ছেলে সালমান। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সৌদির উত্তরাধিকার ধারায় ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন।

সালমান ক্ষমতা গ্রহণের পরেই তার ছেলে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্ব দেন। অন্যদিকে আবদুল্লাহর ছেলে মুকরিনকে অপসারণ করেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী সালমানের পরবর্তী উত্তরাধিকারী ছিলেন মুকরিন। এরপরেই সৌদি রাজপরিবারে বিদ্রোহের সুর শোনা যেতে থাকে। সেই বিদ্রোহধ্বনি অভ্যুত্থানের শঙ্কা হিসেবে দানা বাঁধে। গুঞ্জন ওঠে, সালমানের বাকি আটভাই তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে উঠেপড়ে লেগেছে।

এদিকে ফাঁস হওয়া তথ্যে জানা যায়, বিদ্রোহের গুঞ্জন সত্যি এবং সৌদি শাসকরা সেসব পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করছে। আর এ জন্য দেশকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা করছে।

ফাঁস হয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশ না করলেও তার কিছু অংশ টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হযেছে। সেগুলো হলো-

সৌদি রাজপরিবারের গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন এবং অভ্যুত্থানের আশঙ্কা নিয়ে বলা হয়েছে। সৌদি সরকারের ভাষ্য, এসব পরিবর্তনের ফলে কারো কারো বিরক্তির সৃষ্টি হতে পারে, তবে এ জন্য কোনো সংকট সৃষ্টি হবে না।

ফাঁসকৃত তথ্যে দেখা যায়, সৌদির জনগণ দেশের আধুনিকায়ন চায়। সৌদি সরকার মনে করে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো সৌদি রাজপরিবারের সংকট নিয়ে কথা বলছে। কিন্তু সৌদির জনগণ আধুনিকায়ন এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য কতটা উদগ্রীব সেই সম্পর্কে কেউ কিছু বলছে না। সৌদির জনগণ এই রাজ্যকে নতুন ভিত্তিতে নতুন করে গঠন করতে চায়। অভ্যুত্থান ছাড়া এই পরিবর্তন সম্ভব নয়।

সৌদি সমাজে নারীদের ভূমিকা এখন সারা বিশ্বেই নিন্দিত। এই জন্য দেশটির সরকারও বহুলাংশে দায়ী।

সৌদি সরকারও এই বিষয়ে একমত, তারা মনে করেন, “সৌদি সমাজে নারীদের ভূমিকা এখন বৈশ্বিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য সারা বিশ্বেই আমাদের নিন্দা করা হচ্ছে। কিন্তু এটি সত্যি যে, নারীদের উন্নয়নে আমরা আসলেই কিছু করতে পারছি না।”

ফাঁস হওয়া তথ্যে দেখা গেছে, নারীদের প্রতি সৌদি কর্তৃপক্ষের আচরণ দিনের পর দিন এমনটিই চলে আসছে এবং এটি তাদের জনপ্রিয় প্রথা।

কিন্তু বলা হচ্ছে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে। ‘আমরা অনেক এগিয়েছি। এখন আর গত কয়েক বছরে সমাজ গঠনে নারীদের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। তাদের প্রাপ্য সম্মান অবশ্যই তাদের দিতে হবে।”

সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, “এখন থেকে আন্তর্জাতিক কমিটি এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জন্য সৌদি রাজপরিবারের দরজা খোলা থাকবে।” তথ্যে বলা হয়েছে, “আমাদের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। এ জন্য প্রয়োজনে কাউকে শাস্তি দিতে আমরা পিছপা হবো না। ”


শেয়ার করুন