ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি বিধিমালা চূড়ান্ত

বাংলা ট্রিবিউন:

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কিছু ধারায় সংশোধনের প্রস্তাব থাকলেও তা নিয়ে এখনই ভাবছে না তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। বরং সাইবার বা ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন কার্যকরে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি বিধিমালা-২০১৯’-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিধিমালাটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি সংশোধনের কিছু প্রস্তাব থাকলেও এই মুহূর্তে আইনটি যথাযথ প্রয়োগের জন্য বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (আইসিটি অনুবিভাগ) ও ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির মহাপরিচালক মো. রাশেদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘বিধিমালাটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি বিদ্যমান আইনে করা হয়েছে। আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে এজেন্সি পরিচালনায় বিধিমালাটি করা হচ্ছে। সাইবার সিকিউরিটির জন্য প্রয়োজনে আরও বিধিমালা করার সুযোগ রয়েছে আইনে।’

আইনের অপপ্রয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে কিনা জানতে চাইলে ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির মহাপরিচালক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন,‘কাউকে শাস্তি দেওয়ার জন্য আইন করা হয়নি। জাতীয় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই আইনটি করা হয়েছে। আইনের কার্যকর ও যথাযথ প্রয়োগে বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।’

খসড়া বিধিমালায় ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির কাজ কী হবে তা নির্দিষ্ট করা হয়েছে।এজেন্সি কার্যক্রম সম্পাদনায় কার্যনির্বাহী পরিষদের বিধান রাখা হয়েছে। জাতীয় কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম ও কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমের কাজ কী হবে তা বলা হয়েছে এই বিধিমালায়। খসড়ায় আন্তর্জাতিকমানের ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন ও পরিচালনার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এজেন্সি পরিচালনায় নিজস্ব তহবিল গঠন করার কথাও বলা হয়েছে খসড়ায়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য

দেশে ডিজিটাল ডিভাইস ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ দমন সংক্রান্ত কার্যক্রমের সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ করা।

গুরুত্বপূর্ণ ও সংকটাপন্ন তথ্য পরিকাঠামো নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তা পরিদর্শন করা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া। তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক হুমকি মোকাবিলা এবং এ সংক্রান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কর্মকৌশল ঠিক করা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত দেওয়া। জাতীয় অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত সংস্থার কম্পিউটার ইন্সিডেন্ট রেসপন্স টিম (CIRT), ফরেনসিক ল্যাব গঠনের নির্দেশনা ও অনুমোদন দেওয়া।

ডিজিটাল নিরাপত্তা সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শ ও নির্দেশনা দেওয়া।

সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি সরকারের সঙ্গে অনুমোদন নিয়ে তথ্য আদান-প্রদান ও সহযোগিতা দেওয়া।

তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সেমিনারের আয়োজন করা।

সাইবার বা নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা। এজেন্সির কাজ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনে, সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশি ও বিদেশি যেকোনও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা।

জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভা আয়োজন ও সাচিবিক সহায়তা করা।

সরকার নির্দেশিত সাইবার নিরাপত্তাসংক্রান্ত অন্যান্য কাজ করা।.ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

এজেন্সি কার্যক্রম সম্পাদনায় কার্যনির্বাহী পরিষদ

এজেন্সির কাজ সুষ্টুভাবে সম্পাদনের জন্য খসড়া বিধিমালায় একটি কার্যকরী পরিষদের বিধান রাখা হয়েছে। কার্যনির্বাহী পরিষদের চেয়ারম্যান থাকবেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব। সদস্যসচিব থাকবেন ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির পরিচালক। এছাড়া এজেন্সির মহাপরিচালক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি, বিটিআরসির প্রতিনিধি, বিসিসির প্রতিনিধি, জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) প্রতিনিধি কার্যকরী পরিষদের সদস্য থাকবেন।

নির্বাহী পরিষদ এজেন্সির কাজ সুচারুরূপে করার জন্য সহায়তা দেবে। কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও পরিবীক্ষণ করবে।

ফরেনসিক ল্যাব

আইনের আওতায় ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব থাকবে। ল্যাব পরিচালনায় বেশকিছু বিধি রাখা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করে নিরাপত্তা, পরীবক্ষণ যন্ত্রের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ইন্টারনেট সংযোগসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থাকবে।

ডিজিটাল ল্যাবের গুণগত মান আন্তর্জাতিক মানের করার কথাও আছে বিধিতে এবং তা আন্তর্জাতিক মান সংস্থা (আইএসও) অনুমোদিত হবে।

জাতীয় কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম

ডিজিটাল জগতের হুমকি মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে জরুরি সাড়া কেন্দ্র এবং ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, সতর্কবাণী কেন্দ্র এবং বিভিন্ন সেক্টরের জরুরি রেসপন্স কেন্দ্র নির্মাণের জন্য সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করবে। এই সেন্টার থেকে সার্বক্ষণিক জাতীয় পর্যায়ে সাইবার নিরাপত্তা দিতে পরিচালিত হবে।

কম্পিউটার ইমারজেন্সি রেসপন্স টিম

কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর জরুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। সাইবার বা ডিজিটাল হামলা হলে এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তাৎক্ষণিক প্রতিকারের ব্যবস্থা নেবে। সম্ভাব্য সাইবার বা ডিজিটাল হামলা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

সরকারের অনুমোদন নিয়ে বিদেশি কোনও টিম বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানসহ সার্বিক সহযোগিতামূলক কাজ করবে। এজেন্সি কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিমগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও তত্ত্বাবধান করবে। জাতীয় ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম সাইবার আক্রমণ ও হুমকি রোধে কার্যক্রম গ্রহণ ও সমন্বয় করবে।

এছাড়া আইন যথাযথ প্রয়োগে বিভিন্ন বিষয় সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে খসড়ায়। বিধিমালায় বলা হয়েছে,এজেন্সি পরিচালনাসহ সার্বিক কাজে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে এর সংখ্যা কত হবে তার উল্লেখ নেই বিধিমালায়।


শেয়ার করুন