তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে লেখক ইমতিয়াজ মাহমুদ আটক

ডেস্ক নিউজ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় লেখক ও আইনজীবী ইমতিয়াজ মাহমুদকে আটক করেছে পুলিশ। তার ভাই পারভেজ মাহমুদ বিবিসিকে জানিয়েছেন, বুধবার বেলা এগারটার দিকে নিজের পেশাগত কাজে আদালতে যাচ্ছিলেন পারভেজ মাহমুদ। খবর বিবিসির।

‘যাওয়ার পথে বনানী থানা থেকে ফোন দিয়ে তাকে থানায় যেতে বলা হয়। এরপর তাকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।’

মাহমুদের একজন আইনজীবী জানান, আজ বিকেলে এ মামলার শুনানি হতে পারে। পারভেজ মাহমুদ বলেন, তার ভাইকে কেনো আটক করা হয়েছে সেটি এখনো তারা জানেন না।

‘তবে ধারণা করছি দু’বছর আগে খাগড়াছড়িতে যে মামলা হয়েছিলো তথ্য প্রযুক্তি আইনে, সে মামলাতেই তাকে আবার আটক করা হয়েছে।’

তিনি জানান, ২০১৭ সালের ওই মামলায় ইমতিয়াজ মাহমুদ জামিনে ছিলেন।

যদিও বনানি থানা পুলিশ বলছে, ইমতিয়াজ মাহমুদের নামে একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিলো এবং সে কারণেই তাকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

খাগড়াছড়িতে মামলা হয়েছিলো কেন?
কবি ও লেখক ইমতিয়াজ মাহমুদ লেখালেখির পাশাপাশি পাহাড়ি ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে লেখালেখি করেন।

দু’বছর আগে নিজের ফেসবুক পাতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুতে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে খাগড়াছড়িতে মামলা করেন মিস্টার মাহমুদের বিরুদ্ধে।

ওই মামলায় বলা হয়েছিলো, “ইমতিয়াজ মাহমুদের মিথ্যা লেখাসমূহ পড়ে ও দেখে যারা লাইক ও কমেন্ট করে উক্ত লেখাকে সমর্থন করেছেন তারা দেশের প্রচলিত আইনে অপরাধজনক কাজ করেছে।”

মিস্টার মাহমুদের ভাই পারভেজ মাহমুদ জানিয়েছেন, আগের মামলাতে জামিনেই ছিলেন ইমতিয়াজ মাহমুদ এবং তার সে জামিন বাতিল করা হয়েছে এমন খবরও তারা শুনেন নি।

আবারো সমালোচনা তথ্য প্রযুক্তি আইন নিয়ে
বরিশালে একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে কবি হেনরি স্বপনকে আটক করা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে বহুল আলোচিত তথ্য প্রযু্ক্তি আইন নিয়ে। এর মধ্যেই আজ আটক করা হলো লেখক ইমতিয়াজ মাহমুদকে।

তার আটকের খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবারো তীব্র সমালোচনা হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি আইনটিকে নিয়ে।

শুরু থেকেই সম্পাদক, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা এ আইনকে কালো আইন আখ্যায়িত করে এটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন।


শেয়ার করুন