চট্টগ্রামের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই

ডেস্ক নিউজ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা লুটেরা, দুর্নীতিবাজ, এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে, মানি লন্ডারিং করে, দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারি করে ধরা খেয়ে সাজাপ্রাপ্ত, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার জন্য সাজাপ্রাপ্ত- এই বিএনপি- জামায়াত জোট যেন আবারও ক্ষমতায় আসতে না পারে। আবার যেন অস্ত্র চোরাকারবারি, মানি লন্ডারিংয়ে যারা জড়িত তারা ক্ষমতায় আসতে না পারে। আবার যেন ক্ষমতায় এসে অপকর্ম করতে না পারে। চট্টগ্রামবাসী সব সময় আওয়ামী লীগের পাশে ছিল, বর্তমানেও পাশে আছে। আগামী নির্বাচনে আমরা চাই, চট্টগ্রামের জনগণ নৌকায় ভোট দিয়ে আমাদের সেবা করার সুযোগ করে দেবে। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের কাছে আমি সেই আবেদন করছি।
গতকাল বুধবার বিকেলে নগরীর লালদীঘির মাঠে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পরিচিতি উপলক্ষ্যে আয়োজিত জনসভায় ঢাকার সুধাসদন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে তুলছি। বাংলাদেশ আজকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে এই চট্টগ্রাম সব সময় অবহেলিত ছিলো। আওয়ামী লীগ সরকার যখন প্রথমবার ক্ষমতায় আসে তখন চট্টগ্রামের মেয়র ছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই চট্টগ্রামের উন্নতি হয়। এখনো হচ্ছে। তাই এই উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। আগামী ৩০ ডিসেম্বর আমি
আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই, যাতে এই উন্নয়নের ধারাটা আমরা অব্যাহত রাখতে পারি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। আমরা ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ডিজিটাল বাংলাদেশ করার কথা বলেছিলাম, আমরা দিন বদলের শপথ দিয়েছিলাম। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি। এখন মানুষের জীবনমান বদলে যাচ্ছে। সকলের হাতে মোবাইল ফোন। দেশের ৮ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। অনলাইনে কেনাবেচা হচ্ছে। অনলাইনে জনগণ অনেক সেবা পাচ্ছে। এটা শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ সরকার আছে বলেই সম্ভব হয়েছে, না হলে সম্ভব হতো না। এছাড়া চট্টগ্রামের সাথে ঢাকার চার লেনের রাস্তা আমরা করে দিয়েছি। চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট আরো উন্নত করে দিবো। কঙবাজার থেকে ঘুনধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ কার্যক্রম আমরা শুরু করে দিয়েছি। আগামী দিনে আমরা করে ঢাকা-চট্টগ্রাম বুলেট ট্রেন করে দিবো। যাতে মানুষ দ্রুত ঢাকায় আসা যাওয়া করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, চট্টগ্রাম জেলা ও বিভাগের উন্নয়নে ব্যাপক কাজ আমরা হাতে নিয়েছি। এ কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে হলে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসতে হবে। সারাদেশে আমরা ৫৬০টি মসজিদ ও কালচারাল সেন্টার নির্মাণ করছি। এছাড়া প্রত্যেক উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অফিস করে দিয়েছি। মীরসরাইয়ে বিশাল জায়গায় আমরা ইকোনোমিক জোন করছি। চট্টগ্রাম বন্দরে বে টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। এভাবে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি আজকে হাতে নিয়েছি। বাংলাদেশ ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবো ইনশা আল্লাহ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামবাসীর সেবা করব, ওয়াদা দিচ্ছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি। আমরা উন্নয়নশীল দেশ। কোনো মানুষ গৃহহারা থাকবে না। দেশে ব্যাপক হারে কলকারখানা হবে। এক সময় ছিলো বাংলাদেশ ভিক্ষুকের দেশ, এখন বলে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। জায়গা জমি বিক্রি করে মানুষ বিদেশে যেত। আমি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক করে দিয়েছি। ব্যাংকের মাধ্যমে তারা টাকা পরিশোধ করতে পারবে।
সভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে যে উন্নয়ন হয়েছে, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য চট্টগ্রামাবাসী ১৬টি আসনে নৌকা ও মহাজোটকে উপহার দিবে। আমরা ওয়াদাবদ্ধ। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা যেন অক্ষুণ্ন ও চলতে থাকে। সেজন্যই আপনাকে আবার আমরা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।
সভায় চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে মহাজোট মনোনীত নৌকার প্রার্থী জাসদ নেতা মইনউদ্দিন খান বাদল প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, নেত্রী, আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ কতটুকু এগিয়েছে, আজকের মিটিংই তার প্রমাণ। এরকম কখনো মিটিং হতে পারে সেটি আমরা চিন্তা করিনি, আমি চিন্তা করিনি। আপনি ঢাকায় বসে আছেন কিন্তু চট্টগ্রামে সবার সাথে মিটিং করছেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটাই ডিজিটাল বাংলাদেশ। তারপর বাদল প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, আপনাকে একটা শেষ কথা বলবো, চাটগাঁইয়া ভাষায় বলবো-আপনাকে কেউ বুঝিয়ে দিতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী তখন বলেন, আমি বুঝি। এরপর বাদল বলেন, ১০ বছর আগে চাটগাঁইয়ারা ছিলাম ফকিন্নির পুত, ঠিক ১০ বছর পরে আমরা হলাম, রাজার পুত। এই যে পরিবর্তন, এই পরিবর্তনটা আপনার নেতৃত্বে এসেছে। আমি বহু জায়গায় বলেছি, এটা মানুষের হক, হক্কুল এবাদ। আর ভোট, এটা আপনার হক বাংলার মানুষের ওপর। আমি একটা কথা বলে শেষ করতে চাই- ভোট চাই না, হক আদায় করেন।
তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণকে এখন আর কেউ ফকিন্নির পুত বলে না। বিদেশে সবাই বলে, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে প্রার্থী ড. হাছান মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, আপনি ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা বলেছিলেন, আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে, এটা প্রমাণ হচ্ছে-আজকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আপনি লালদীঘি মাঠের জনসভায় বক্তব্য রাখছেন। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, নৌকার জয় হোক, চট্টগ্রামবাসীর জয় হোক।
এর আগে বিকেল সোয়া তিনটার দিকে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে লালদীঘির মাঠের জনসভায় যুক্ত হন। তার আগেই লালদীঘির মাঠ কানায়-কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। চট্টগ্রামের ১৬টি আসন থেকে প্রত্যেক প্রার্থীর সমর্থকরা মিছিল নিয়ে আসেন লালদীঘির মাঠে। প্রধানমন্ত্রী যখন বক্তব্য শুরু করেন, তখন মাঠের আশপাশের সড়ক-এলাকাও লোকে-লোকারণ্য হয়ে যায়। তবে লালদীঘির মাঠের কিছু প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলা করতে দেখা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হওয়ার আগে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনের প্রার্থী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, উত্তর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সুনীল সরকার, এডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, নঈম উদ্দিন চৌধুরী, এডভোকেট ফখরুদ্দীন, আবুল কালাম আজাদ, খোরশেদ আলম সুজন, জহিরুল আলম দোভাষ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, রেজাউল করিম, বদিউল আলম, এম এ রশিদ, নোমান আল মাহমুদ, শফিকুল ইসলাম, শফিক আদনান, হাসান মাহমুদ হাসনী, জহরলাল হাজারী ও এডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী। এছাড়া সভায় চট্টগ্রামের ১৫টি আসনের নৌকা মার্কার প্রার্থী ও চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে মহাজোট মনোনীত লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।


শেয়ার করুন


একই রকম আরও কিছু পোস্ট