সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত : নাফ ও সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক

ডেস্ক রিপোর্ট-

কক্সবাজারের টেকনাফে প্রস্তাবিত নাফ ও সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের অবকাঠামো উন্নয়নে ১ শতাংশ সুদে ঋণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সরকারের কাছ থেকে এ ঋণ নেবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। আলোচিত এ দুটি ট্যুরিজম পার্কের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৩১ কোটি টাকা। চলতি বছর কাজ শুরু করে ২০২০ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন শেষ হবে।

বাস্তবায়ন শেষে ট্যুরিজম পার্ক দুটিতে প্রায় ২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। শুধু নাফ ট্যুরিজম পার্কে ৩ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসবে বলে আশা প্রকাশ করছে বেজা।

সম্প্রতি নাফ ও সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বেজা। ওই চিঠিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে ১ শতাংশ সুদে সরকারের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণের বিষয়ে অনাপত্তি চাওয়া হয়েছে।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, এর আগেও জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন ও অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য (আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ ও মিরসরাই, চট্টগ্রাম) ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ১ শতাংশ সুদে ঋণ গ্রহণ করা হয়েছিল।

নাফ ও সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের অবকাঠামো উন্নয়নেও ওই একই হারে ঋণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জানা গেছে, গত ৫ মার্চ পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা হয়। ওই সভায় সরকারের কাছ থেকে ১ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। নাফ ট্যুরিজম পার্কটি হবে টেকনাফ নদের জালিয়ার দ্বীপে। এজন্য বেজার অনুকূলে ২৭১.৯৩ একর খাসজমি দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত প্রদান করা হয়েছে।

পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়ভাবে গড়ে তোলার জন্য বন বিভাগের ২১.১২ ও জালিয়ার দ্বীপের ২৭১.৯৩— মোট ২৯৩.০৫ একর জমি জার্মানিভিত্তিক একটি কোম্পানির মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে।

বেজা জানায়, বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য এ পার্কে কেবল কার, প্যারা সেইলিং, স্কুবা ড্রাইভিং, সি-ক্রুসিংসহ অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানের লক্ষ্য বাস্তবায়ন কার্যক্রম খুব দ্রুত শুরু হবে। ইতিমধ্যে বেজা কর্তৃক মাটি ভরাট, ভূমি ও সড়ক উন্নয়নসহ অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, নাফ ট্যুরিজম পার্কের পাশাপাশি কক্সবাজার জেলায় ১ হাজার ২৭ একর জমি নিয়ে সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক বাস্তবায়ন হবে। পার্কটি টেকনাফ স্থলবন্দর থেকে ৮ কিলোমিটার ও কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে গাড়িতে ২ ঘণ্টার দূরত্বের মধ্যে। সমুদ্রসৈকতে অবস্থিত এ পার্ক থেকে সামুদ্রিক জাহাজে কোরাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে যেতে আধা ঘণ্টা লাগবে। এটি পাহাড় ও সমুদ্রসৈকত নিয়ে বহুমুখী ও বৈচিত্র্যপূর্ণ চমৎকার একটি জায়গা।

প্রস্তাবিত এ পার্কে হোটেল কমপ্লেক্স, ইকো-ট্যুরিজম, রিক্রিয়েশনাল ট্যুরিজম, বিজনেস ট্যুরিজম, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ট্যুরিজমসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

পবন চৌধুরী জানান, নাফ ও সাবরাং ট্যুরিজম পার্কে ফাইভ স্টার হোটেল, ঝুলন্ত সেতু, ৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার ক্যাবল কার নেটওয়ার্ক, ভাসমান জেটি, শিশু পার্ক, ইকো কটেজ, ওশেনারিয়াম, ওয়াটার রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ধরনের আধুনিক পর্যটন সুবিধা থাকবে।

এ পার্ক দুটিকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ছাড়াও প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে ২০-২৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।


শেয়ার করুন


একই রকম আরও কিছু পোস্ট