তত্বাবধায়ক নয়, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার চাই বিএনপি

174476_1সিটিএন ডেস্ক :

তত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। একাদশ সংসদ নির্বাচনে সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য নেই।

বুধবার হোটেল ওয়েস্টিনে বিএনপি চেয়ারপারসন রাষ্ট্রপরিচালনার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে ভিশন ২০৩০ তে অনেকগুলো পদক্ষেপ এবং আইনি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন।

তবে তার এই পরিকল্পনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের কথা বলা আছে।এর সাথে বলা আছে, বর্তমান সরকারের ‘বিতর্কিত’ ও ‘অগণতান্ত্রিক’ সিদ্ধান্ত পুন:পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের কথা।

এখানে খালেদা জিয়া সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বাতিল হওয়া গণভোট পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। একই ভাবে বিশেষ ক্ষমতা আইন বাতিল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের সুষ্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন।

খালেদা জিয়া তার রূপকল্পে দেশের উন্নয়নে বেশ কিছু কর্মসূচি নেয়া ছাড়াও সংসদীয়, বিচার প্রশাসন এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সংস্কারের কথা বলেছেন। এর মধ্যে উঠে আসে আওয়ামী লীগ সরকারের আগের আমলে বেশ কিছু সাংবিধানিক ও আইনি সংস্কারের প্রসঙ্গ।

এর মধ্যে উচ্চ আদালত অবৈধ ঘোষণার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের প্রসঙ্গও আসে। এই ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতে ২০১৩ সাল থেকে আন্দোলনে যায় বিএনপি এবং সহিংস বিক্ষোভে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন প্রতিহতের চেষ্টা করে। এর অংশ হিসেবে যানবাহনে পেট্রল বোমা ও অন্যান্য হামলায় প্রাণ হারায় বিপুল সংখ্যক মানুষ। নির্বাচনের পর আন্দোলন স্থগিত করলেও ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের এক বছর পূর্তিতে আবারও আন্দোলনে যায় বিএনপি। আবার শুরু হয় জ্বালাও-পোড়াও। তবে এই আন্দোলনেও খালি হাতে ফেরে বিএনপি।

দুই দফা আন্দোলনে ব্যর্থতার পর বিএনপি এখন আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তুলছে না। তবে তারা ‘নিরপেক্ষ’ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সহায়তার জন্য নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি জানাচ্ছে।


শেয়ার করুন


একই রকম আরও কিছু পোস্ট