এক পা দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে স্কুলে যায় ফজলুর

40f140bbbc9771ad47b5bdf4dae768c6-58c56620579c5
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার প্রতিবন্ধী ফজলুর এভাবেই এক পা দিয়ে লাফিয়ে স্কুলে যায়। 
ফজলুর রহমানের দুটি হাত ও একটি পা নেই। একটিমাত্র পা দিয়ে নবম শ্রেণিতে পড়া ছেলেটি লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবন্ধী জীবনকে হার মানিয়ে জীবনযুদ্ধে টিকিয়ে রেখেছে নিজেকে।
ফজলুর রহমানের বাড়ি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার চক গোপালপুর গ্রামে। তার বাবার নাম সাহেব আলী। মা-বাবাসহ দুই ভাই ও চার বোন তারা। তিন বোনের বিয়ে হয়েছে। বড় ভাইও পৃথক হয়েছেন। বাবা ও বড় ভাই দুজনই তাঁতের কাজ আর মা করেন সুতার কাজ। একটি টিনের ঘরের মধ্যে বর্তমান চারজন সদস্য বসবাস করে আসছেন।
ফজলুর বাবা সাহেব আলী বলেন, ছোটবেলা থেকেই ফজলু লেখাপড়ায় আগ্রহী ছিল। বড় ছেলে লেখাপড়া না করলেও সে লেখাপড়া করবে, এ সিদ্ধান্তে অটল ছিল। সে কারণে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাকে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষায় মোটামুটি ভালো ফল অর্জন করে। পরবর্তী সময়ে তিন কিলোমিটার দূরে বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের মিটুয়ানী উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৭৫ পায়। এখন সে নবম শ্রেণির মানবিক বিভাগে লেখাপড়া করছে।
সাহেব আলী বলেন, ‘আমার ছোট মেয়ে আসমা খাতুনসহ দুজন একই ক্লাসে পড়ছে। দুজনই একসঙ্গে বিদ্যালয়ে যায়। শতকষ্ট করে এক পা দিয়ে লফিয়ে লাফিয়ে চলে সে স্কুলে যায়। আসমাও বই নিয়ে ফজলুকে স্কুলে যাতায়াতে সাহায্য করে। যেদিন আসমা স্কুলে যায় না, সেদিন সে-ও স্কুলে যায় না।’
কথা হয় ফজলুর সঙ্গে। সে বলে, ‘বৃষ্টি হলে স্কুলে যেতে না পারলে সেদিন আমার খুব খারাপ লাগে। এক পা দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে যাওয়ায় শরীরও দুর্বল হয়ে পড়ে। শুধু পা দিয়ে লেখা ও খাওয়াদাওয়া আমি করতে পারি। কোনো অসুবিধা হয় না। যদি আমি লেখাপড়া শিখতে পারতাম, যদি কেউ আমাকে সহযোগিতা করত, তাহলে খুব ভালো হতো। লেখাপড়া শিখে আমি চাকরি করতে চাই।’
মা সারা বেগম সুতার কাজ করেন। যে আয় হয় তা দিয়েই সংসার চালান। সারা বেগম বলেন, ‘২০০০ সালে ফজলু বিকলাঙ্গ অবস্থায় জন্ম নেয়। আমরা স্বামী-স্ত্রী কেউ লেখাপড়া জানি না। ফজলুর দুহাত ও এক পা না থাকলেও কিছু কিছু কাজ নিজেই করতে পারে।’
মিটুয়ানী উচ্চবিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের সহকারী শিক্ষক আইয়ুব আলী জানান, ২০১৪ সালে ফজলুর এ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ফজলুরের বিদ্যালয়ের সব বেতন-ভাতা মওকুফ করা হয়েছে।
আইয়ুব আলী বলেন, ‘ফজলুর লেখাপড়ায় ভালো, স্মরণশক্তিও প্রখর। একজন কঠিন শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও কষ্ট করে চলাফেরা করেও লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ সবাইকে চমকে দিয়েছে। পা দিয়ে লেখা এত সুন্দর হয়, এটি না দেখলে বিশ্বাস করাই কঠিন।’
আরও সংবাদ
বিষয়:


শেয়ার করুন


একই রকম আরও কিছু পোস্ট