‘সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কক্সবাজারকে পরিকল্পিত নগরায়ন করতে হবে’

img_20170214_120051বাংলা একাডেমীর প্রাক্তন মহাপরিচালক ও সাবেক সভাপতি প্রফেসর মোহাম্মদ হারুন উর রশিদ বলেছেন, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। প্রশাসনের সকল স্তরকে এর সাথে সমন্বয় করে যাবতীয় উন্নয়ন করতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী উপলদ্ধি করেছেন যে, কক্সবাজারকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি অন্যতম আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করতে হবে। এ উপলদ্ধি থেকেই জাতীয় সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে তিনি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করেছেন। তিনি জানেন যে, কক্সবাজারের যাবতীয় সমস্যা ও সমাধান সম্পর্কে লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ সখ্যক অবহিত আছেন। সে কারণে তিনি কক্সবাজারের সন্তান হিসেবে তাকে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি সোমবার বিকেলে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আয়োজিত এক সভায় আলোচনাকালে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। কক্সবাজার জেলাকে আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে গণ্যমান্য/বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন জাতিসত্বার কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা। কউকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভার শুরুতে সূচনা বক্তব্য দেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ। প্রফেসর হারুন আরো বলেন, কক্সবাজারবাসীর ভাগ্য ভালো যে, প্রধানমন্ত্রী সংসদে পাসকৃত দলিলের মাধ্যমে নির্বাহী আদেশে অন্য সকল সরকারী সংস্থার উর্ধ্বে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতা প্রদান করেছেন। তাই সকলের স্বতস্ফূর্ত সহযোগিতার মাধ্যমে কক্সবাজারের উন্নয়নে একযোগে কাজ করতে হবে এবং উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নীতিমালা সম্পর্কে সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা বলেন, সবকাজে সহযোগিতার বড়ই প্রয়োজন। কক্সবাজারে পরিকল্পনায় সমন্বয় নেই।

আছে অপরিকল্পনার প্রাচুর্য্য। সুন্দর, নান্দনিক ও ইতিবাচক পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে কউক ও এর নীতিমালা সম্পর্কে সকলকে সম্যখ ধারণা দিতে হবে। পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য কউককে কৌশল প্রণয়ন করতে হবে। জেলা ব্যাপী উন্নয়নে বিশিষ্টজনদের ভূমিকা ও সহায়তা চাইতে হবে। এলাকাবাসীর কথা শোনে তাদের অভাব পূরণের চেষ্টা করতে হবে। প্রচলিত উন্নয়নের সাথে কউকের বিধিমালা সাংঘর্ষিক হলে প্রয়োজনে সংশোধন করতে হবে। তিনি কক্সবাজারের উন্নয়নে কউক সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী ফোরাম উল্লেখ করে সরকার কক্সবাজার কেন্দ্রিক উন্নয়নের যে মহা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তার সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের ধারণা দিতে হবে। ভবিষ্যত প্রজন্ম দেশ ও বিদেশের কাছে কক্সবাজারকে আধুনিক, স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন পর্যটন নগরী গড়ে তুলতে সুধীজনের মতামত গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন জেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি রেজাউল করিম, জেলা জাসদ সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল, দৈনিক রূপালী সৈকত সম্পাদক ফজলুল কাদের চৌধুরী, দৈনিক সমুদ্রকন্ঠ সম্পাদক ও সিটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মঈনুল হাসান পলাশ। উপস্থিত ছিলেন কউক সদস্য ডা. সাইফুদ্দীন ফরাজী, ইঞ্জিনিয়ার বদিউল আলম, এডভোকেট প্রতিভা দাশ, জেলা আ.লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড.এ.কে আহমদ হোসেন, কক্সবাজার কলেজের সাবেক প্রফেসর জাফর আলম, একুশে পদক প্রাপ্ত শ্রীমৎ পন্ডিত সপ্তপ্রিয় মহাথের, কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান জি.এম রহিমুল্লাহ, পরিবেশ অধিদপ্তর সহকারী পরিচালক সর্দার শরিফুল ইসলাম, সহকারী বন সংরক্ষক (উত্তর) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, সদর থানা ওসি (তদন্ত) মো. বখতিয়ার উদ্দীন চৌধুরী, পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল আলম, সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওমর ফারুক, বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপ রফিকুল হুদা চৌধুরী, চেম্বার সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা, দোকান মালিক ফেডারেশন সভাপতি মোস্তাক আহমদ, দৈনিক ইনকিলাব প্রতিনিধি শামসুল হক শারেক, কালেরকন্ঠ প্রতিনিধি তোফাইল আহমদ, সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি মোহাম্মদ আবু তাহের, এক্সপাউরুল নির্বাহী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার কেপল, মাষ্টার নুরুল আজিম, কউক চেয়ারম্যানের সহধর্মীনি জাকিয়া সুলতানা, পৌর কাউন্সিলর হুমাইরা বেগম, পৌর কাউন্সিলর মজমুন নাহার, কাউন্সিলর মিজানুর রহমান মিজান, পৌর কাউন্সিলর রাজ বিহারী দাশ, বিউবো সহ. প্রকৌ. মো. সিরাজুল হক, খুনিয়া পালং চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ, ঝিলংজা চেয়ারম্যান টিপু সুলতান, ফতেখাঁরকূল চেয়ারম্যান ফরিদুল আলম, প্রথম আলো নিজস্ব প্রতিবেদক আবদুল কুদ্দুছ রানা, বাংলাভিশন প্রতিনিধি মোর্শেদুর রহমান খোকন, পৌর আ.লীগ সভাপতি মো. নজিবুল ইসলাম, দৈনিক আপণকন্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রুহুল আমিন সিকাদার, হাজী নুরুল ইসলাম, কক্সবাজার’৭১ সম্পাদক বেলাল উদ্দীন বেলাল, বাংলাদেশ বেতার প্রতিনিধি মো. রেজাউল করিম, পরিচালক শ্রীমৎ প্রজ্ঞাবোধি মহাথের, আমিরুল ইসলাম মো. রাশেদ, এইচ.এম নজরুল ইসলাম, কামাল উদ্দীন প্রমুখ।

রেজাউল করিম বলেন, ডুলাহাজারায় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত সাফারী পার্কে বনবিভাগ যে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছে তার সাথে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ একাকার হয়ে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে এলাকার লোকজন এগিয়ে আসবেন। নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল বলেন, প্রশাসনের সব স্তরকে একই সূত্রে এনে উন্নয়ন কাজ করতে হবে। রাজউকের মত কউক যেন দুর্নীতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ড্রেনেজ ও যানজট ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থ নয়, বৃহত্তর স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে আধুনিক নগরায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, কক্সবাজারের স্বার্থে বাঁকখালী নদীকে বাঁচাতে হবে। তিনি সুষ্ঠু গবেষণার মাধ্যমে পানি ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্বারোপ করে ২টি গবেষণা প্রতিবেদন কউককে দেয়ার ঘোষণা দেন।

মঈনুল হাসান পলাশ বলেন, কক্সবাজারের মানুষ এখনো পর্যটনের সাথে খাপ খেয়ে উঠতে পারেনি। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মানুষকে পর্যটন উন্নয়নমুখী করতে হবে।


শেয়ার করুন


একই রকম আরও কিছু পোস্ট