সমুদ্রনগরীতে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে লাল সবুজের নিশানা

cox-bg20170112131008নীল সাগরে খেলা করছে একদল ডলফিন। তাদের পাশ ঘেঁষে উত্তাল ঢেউ ভেঙ্গে ছুটে চলছে এক দুরন্ত সার্ফার। যার হাতে রয়েছে লাল সবুজের বিজয় নিশানা। সমুদ্রনগরী কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের স্বাগত জানাতে শহরের কলাতলীতে এমন একটি মুর‌্যাল স্থাপন করা হচ্ছে।

২০১৭ সালের মধ্যেই বদলে যাবে সমুদ্রনগরী কক্সবাজারের প্রবেশদ্বার কলাতলী। দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের স্বাগত জানাবে লাল সবুজের পতাকা হাতে সার্ফার জাফরের প্রতিকৃতি। এছাড়া পর্যটকদের ভ্রমণকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে নেওয়া হয়েছে একটি সমন্বিত উদ্যোগ। এতে থাকছে চার লেনের সড়ক, ফুলের বাগান, পর্যটকের বসার চেয়ার, পর্যাপ্ত ফুটপাত ও দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, কলাতলী মোড়ের ‘ডলফিন ফোয়ারা’ থেকে সাগরপাড় পর্যন্ত অপ্রশস্ত সড়ক এবং অপরিকল্পিত স্থাপনাগুলোই ছিল পর্যটন নগরীর সবচেয়ে শ্রীহীন দৃশ্য। এ কারণে শহরের প্রবেশদ্বারকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করা হচ্ছে। পরিকল্পিত প্রবেশদ্বার নির্মাণে জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদ, বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।

এতে থাকবে ফুলের বাগান, পর্যটকদের বসার ব্যবস্থাসহ ওয়াইফাই সুবিধা। মুর‌্যাল স্থাপন সহ পুরো প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সড়ক ৪ লেইনে উন্নীতকরণ, ফুটপাত নির্মাণে ব্যয় হবে ৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এছাড়া ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কের দু’পাশে নির্মাণ করা হবে প্রশস্ত নালা। থাকছে সৌন্দর্য বৃদ্ধির নানা কাজ। মার্চ মাসেই শুরু হবে এ প্রকল্পের কাজ।

আর লাল সবুজের পতাকা হাতে সার্ফার জাফরের প্রতিকৃতি নির্মাণে আর্থিক সহায়তা করবে ঢাকা ব্যাংক। এর মধ্যে ৪ লেইনের সড়ক, ওয়াকওয়ে ও নালা নির্মাণের কাজ করবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, প্রিরোডিং মেনটেনেস প্রোগামের (পিএমপি) আওতায় কলাতলী প্রবেশদ্বার থেকে সমুদ্র সৈকত (সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন) পর্যন্ত সড়কটি উন্নীতকরণ করা হবে। ১১৭ মিটার দীর্ঘ এই সড়ককে ৪ লেইনে প্রশস্ত করতে ব্যয় হবে ৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। দু’পাশে ২০ ফুট ওয়াকওয়ে ও ৪৮ ফুট প্রশস্ত হবে সড়কটি। দুই লেইনের মাঝখানে ৯ ফুট জায়গায় নির্মিত হবে ফুলের বাগান ও বসার স্থান।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রানা প্রিয় বড়ুয়া বাংলানিউজকে জানান, সড়কটি নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে টেন্ডার আহবান করা হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরুতেই সড়কটির কাজ শুরু হবে।

এদিকে জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বর্তমানে যে ভাস্কর্যটি রয়েছে সেটি কক্সবাজারের পর্যটনে বিরুপ প্রভাব ফেলছে। বিষয়টি গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলক বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেন। পরে সর্বসম্মতিক্রমে পুরোনো ভাস্কর্যটি সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ভাস্কর রাশা ‘চোয়াল’ ভাস্কর্যের নকশা করেন। নকশায় দেখা যায়, একজন সার্ফার সমুদ্রে সার্ফিং করছে বাংলাদেশের পতাকা হাতে। আর চারপাশে ডলফিন খেলা করছে।

ঢাকা ব্যাংকের কক্সবাজার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার এস এস এম গিয়াস উদ্দিন বাংলানিউজকে জানান, পর্যটন শিল্পকে তুলে ধরতে ঢাকা ব্যাংক এবারও ভাস্কর্য নির্মাণ করবে। তবে এজন্য কত ব্যয় হবে তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, সমুদ্রনগরীর প্রবেশদ্বার হবে বিশ্বমানের। এজন্য প্রায় সাড়ে ৪ কোটির টাকার যৌথ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সড়কটি নির্মাণ করলে বদলে যাবে পুরো সৈকতের চেহারা। এরসাথে সামঞ্জস্য রেখেই ধীরে ধীরে সাজানো হবে সমুদ্র সৈকতের আশপাশ।


শেয়ার করুন


একই রকম আরও কিছু পোস্ট