চরিত্রের উন্নতি করবেন কীভাবে?

numan-ali-400x284প্রথম কথা হল হারাম কাজ পরিত্যাগ করা। মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা। মন্দ কাজ থেকে বিরত হবার আগ পর্যন্ত ভালো কথা বলতে যেও না। কারণ তুমি শরীরের ক্ষতস্থানে রক্ত প্রবাহিত অবস্থায় ঔষধ দিলে সেটা ফলপ্রসু হবে না আর মন্দ কাজ বা পাপ থেকে বিরত না হয়ে ভালো কথা বললেও সেটা ফলপ্রসু বা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
এক্ষেত্রে সর্বপ্রথম তোমাকে আনন্দের মধ্য দিয়ে যে বদ অভ্যাস গড়ে তুলেছ তা থেকে বিরত থাকতে হবে। মুভি দেখা বাদ দিতে হবে, রাস্তায় চলমান অবস্থায় চক্ষুকে অবণত করতে হবে-কারণ নারীর প্রতি তোমার প্রত্যেকটা চাহনির সাথে তোমার মানবিক গুনকে নষ্ট করে ফেলছ। তুমি একজন নারীর দিকে এমনভাবে তাকাও যেন সে একটা খাবারের টুকরা, যেন সে একটা প্রাণী- আর এটাই প্রমাণ করে যে তুমি একজন মানুষকে তাঁর মানবিক অবস্থানমূলক সম্মানের জায়গাকে অপমানিত করছ। এটাই প্রমাণিত করে যে তুমি নিজেই এক প্রাণীতে পরিণত হয়েছ।
সুতরাং চারিত্রিক উন্নতি করতে হলে তোমাকে অবশ্যই প্রথমে সেই মানবিকতা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং তারপর তোমার জীবনকে ভালো কাজ দিয়ে সুশোভিত কর, তাকে সৌন্দর্যমন্ডিত কর।
নিজেকে ভালো করে গড়ে তুলার ক্ষেত্রে ছোট ছোট পদক্ষেপ নিতে থাকো – যেমন, সুন্দর ও পারফেক্টভাবে সালাত আদায় কর, কিছু প্রয়োজনীয় দোয়া মুখস্ত করা, কাজের ক্ষেত্রে সততা বজায় রাখা, পিতা-মাতার প্রতি সদয় হওয়া। আর এগুলো তেমন কিন্তু তেমন কঠিন কাজ নয়- চাইলেই পারো।
আল্লাহ আমাদের কাছ থেকে এইগুলোই প্রত্যাশা করেন।
কেউ প্রশ্ন করতে পারে আল্লাহ কেন আমাদের কাছে এগুলো প্রত্যাশা করেন, এগুলো কি তাঁর কোন উপকারে আসে?
এর উত্তরে বলা যায়- আমরা জানি আল্লাহর একটি নাম হল “গনী” যার অর্থ যিনি ধনী, এমন ধনী যে যার আর কোন কিছুরই দরকার নেই কারো কাছে। অর্থাৎ চূড়্রান্ত ধনী। তাহলে কি আমরা বলতে পারি যে আল্লাহর আমাদের কাজ দরকার? নাহহহ।
তাহলে?
বরং এ কাজগুলো আমাদেরই দরকার, কারণ আমরাই কিন্তু দুর্নীতিগ্রস্থ, আমরাই পাপী, আমরাই মন্দ কাজ করে আমাদের চরিত্রকে ধ্বংস করে ফেলেছি। এ কারণেই আল্লাহ এসব ভালো কাজ করতে বলেছেন যাতে তুমি উত্তম হতে পারো, হতে পারো ধনী-তিনি তোমার চাহিদা পূরণ করে দিবেন, তোমার উপর রহমত ও দয়া বর্ষণ করবেন।
ভালো কাজ আমাদের শুধু উপকারই করে না বরং এগুলো আমাদের জন্য ওষুধস্বরুপ; কিন্তু এর অধিক উপকারিতা হল- ভালো কাজ আমাদের দুনিয়াতেও উপকার করে আবার আখিরাতেও বোনাস হিসেবে উপকার করবে। সুবহানাল্লাহ!!
যেমন তুমি তোমার মায়ের প্রতি অসৎ ছিলে, মন্দ ছিলে কিন্তু যখনই তুমি সৎ ব্যবহার করতে শুরু করলে তোমারও জীবনে কল্যাণ আসতে শুরু করল। এটা তোমার মায়ের প্রতি ভালো ব্যবহারের একটা প্রতিদান দিয়েছেন আল্লাহ।
এভাবে তুমি যতই তুমি ভাল কাজ করবে, সেই ভালো কাজগুলো তোমার আরো বেশি কল্যাণের পথ দেখিয়ে দিবে। এভাবেই আল্লাহ তোমার প্রতি এই দুনিয়ার সদয় হন। যে ব্যক্তি আল্লাহর ব্যাপারে সদা-সচেতন হয়, আল্লাহ তার জন্য অবারিত ধারায় উত্তম পথের সন্ধান দিয়ে দেন, তার কল্যাণের জন্য। আল্লাহ তার জন্য এমন জায়গা থেকে প্রতিদান দেন যা সে কল্পনাও করতে পারত না- এর কারণ সে আল্লাহর ব্যাপারে সচেতন হয়েছে, আর আল্লাহও তার প্রতি সর্বদা খেয়াল রাখেন। আল্লাহ আমাদের কাছে এই ভালো কাজগুলো চান এবং এর বিনিময়ে তিনি আমাদের জীবনকে আরো উত্তম করে দেন, আরো সহজ করে দেন।
আল্লাহ তোমাদের বোঝাকে হালকা করতে চান, যেহেতু মানুষকে দূর্বল (রুপে) করে সৃষ্টি করা হয়েছে। সূরা নিসা : ২৮
তুমি কি মনে করো আড্ডা দিয়ে, গিবত করে , মিথ্যা বলে, ফেইসবুকে মেয়েদের সাথে চ্যাট করে জীবন সহজ হবে? আনন্দ আসবে? না, বরং তুমি তোমার জীবনকে আরো অধিক কষ্টদায়ক করছ, জীবনকে অধিক ভারী করে তুলছ। আল্লাহ তোমার জীবনকে সহজ করতে চান, তোমার বোঝাকে নামিয়ে নিতে চান, কিন্তু তুম বুঝতে পারছ না, কারণ তুমি খুবই দূর্বল; কিন্তু আল্লাহ ‘গানী’ বা ধনী- আর তাই ঐ ধনীর (আল্লাহর) কাছে যাও এবং তাঁর নির্দেশনা মেনে নিয়ে নিজের অভাব পূরণ কর।


শেয়ার করুন


একই রকম আরও কিছু পোস্ট